এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,২১ অক্টোবর : সোমবার (১৯ অক্টোবর),উত্তর আয়ারল্যান্ড জুড়ে প্রায় ৩০০টি স্কুলে বোমা হামলার হুমকি দিয়ে ইমেল আসে, যার ফলে স্কুল কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দেয়। পুলিশ এই বার্তাগুলোকে একটি ভুয়া হুমকি বলে বর্ণনা করেছে এবং জানিয়েছে যে প্রাথমিক তদন্তে স্কুল চত্বরে কোনো বিস্ফোরকের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
ইমেলগুলোতে দেশে শরিয়া আইন আনার হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং দাবি করা হয়েছিল যে স্কুলগুলোর ভেতরে বিস্ফোরক যন্ত্র রাখা হয়েছে। উত্তর আয়ারল্যান্ডের শিক্ষামন্ত্রী পল গিভান বলেছেন, বার্তাটিতে ইসলামপন্থীদের হুমকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং এটি “আল্লাহু আকবার” শব্দ দিয়ে শেষ হয়েছে।
স্টরমন্টে বক্তব্য রাখার সময় গিভান বলেন, এই হুমকিগুলো গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যদিও কর্তৃপক্ষ এই পর্যায়ে সেগুলোকে প্রকৃত বিপদ হিসেবে বিবেচনা করছে না। বিষয়টি নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড পুলিশ সার্ভিসকে (পিএসএনআই) জানানো হয়েছে এবং শিক্ষা কর্তৃপক্ষ সোমবার সকালে পুলিশের সাথে একটি জরুরি বৈঠক করেছে।
পিএসএনআই-এর একজন মুখপাত্র বলেছেন, উত্তর আয়ারল্যান্ড জুড়ে স্কুলগুলোতে পাঠানো হুমকিমূলক ইমেলগুলো নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। প্রায় ৩০০টি স্কুল একই বার্তা পাওয়ার কথা জানিয়েছে, যেটিতে একটি সাধারণ হুমকি ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ইমেলটি যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে পাঠানো হয়েছিল। এখন পর্যন্ত চালানো অনুসন্ধান ও যাচাইয়ে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। তদন্ত চলাকালীন সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে, পুলিশ বার্তাগুলোকে একটি ভুয়া খবর হিসেবে বিবেচনা করছে।
উত্তর আয়ারল্যান্ড শিক্ষা কর্তৃপক্ষও নিশ্চিত করেছে যে, পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা হুমকিপ্রাপ্ত স্কুলগুলোর সাথে যোগাযোগ রাখছে।এই হুমকির কারণে বেশ কয়েকটি স্কুলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ল্যামবেগের সেন্ট কোলম্যান’স প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্টিফেন বেইন বলেন, তিনি সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে একটি ইমেল পান, যেখানে হুমকি দেওয়া হয় যে স্কুল চত্বরের কোথাও একটি বিস্ফোরক যন্ত্র রাখা হয়েছে। বার্তাটিতে দেশজুড়ে লাগাতার হামলার হুমকিও দেওয়া হয়।
বেইন বলেন, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরামর্শ পাওয়ার পর ভবনটি থেকে প্রায় ৪০০ ছাত্রছাত্রীকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে, পুলিশ এবং শিক্ষা কর্তৃপক্ষ পরে স্কুলগুলোকে জানায় যে হুমকিটিকে একটি গুজব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্কটল্যান্ডের বেশ কয়েকটি স্কুলেও হুমকি বার্তা এসেছে এবং স্কটল্যান্ড পুলিশ সেগুলোকে ভুয়া বলে মনে করছে। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইমেলগুলো মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসতে পারে এবং ধারণা করা হচ্ছে যে এটি সৌদি আরবের কাছ থেকে এসেছে। তবে, বার্তাগুলোর উৎস নিশ্চিত করা হয়নি।
গ্লাসগো সিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, তাদের এলাকার ১৪৮টি স্কুল এবং কিছু প্রতিবেশী স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হুমকি বার্তা আসার বিষয়ে তারা অবগত আছে । সোমবার সকালে কিছু স্কুল খালি করে দেওয়া হলেও, ছাত্রছাত্রীরা পরে তাদের শ্রেণীকক্ষে ফিরে আসে এবং তাদের লকডাউনে রাখা হয়নি।
অক্টোবরের ছুটির পর এডিনবরায় স্কুলগুলো তখনও খোলেনি। তবে, ইন-সার্ভিস ডে-র জন্য আসা কর্মীদের বাড়ি ফিরে যেতে বলা হয়। স্কটিশ বর্ডারসের স্কুলগুলো, যেগুলোও ইন-সার্ভিস ডে-র জন্য বন্ধ ছিল, একটি হুমকি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে।
নর্থ ল্যানার্কশায়ার কাউন্সিল জানিয়েছে যে তারা পুলিশ স্কটল্যান্ডের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং তাদের স্কুলগুলোতে এই ধরনের ঘটনা মোকাবেলার জন্য পদ্ধতি রয়েছে।
স্কটিশ লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা অ্যালেক্স কোল-হ্যামিলটন কর্তৃপক্ষকে যত দ্রুত সম্ভব তথ্য জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন যে স্কুল, পুলিশ ও কাউন্সিলগুলোকে অবশ্যই কর্মী, অভিভাবক এবং শিশুদের অবহিত রেখে সতর্কতার সাথে কাজ করতে হবে।
ব্রিটেনের পাশাপাশি অনান্য ইউরোপীয় দেশে হুমকি ইমেল
হুমকিগুলো যুক্তরাজ্যের বাইরেও বিস্তৃত ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। হাঙ্গেরিতে একটি ইমেইলে দাবি করা হয় যে ৭০টিরও বেশি স্কুলে বোমা রাখা হয়েছে। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান খালি করে দেওয়া হলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে সেখানে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। হাঙ্গেরির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাবর পোসফাই ফেসবুকে বলেছেন যে তদন্তে দেখা গেছে, সেদিন সকালে পাওয়া হুমকিগুলো ভিত্তিহীন ছিল।
প্রতিবেশী সার্বিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আরটিএস জানিয়েছে যে, ১০০টিরও বেশি স্কুল বোমা হামলার হুমকি পেয়েছে। সার্বিয়ার সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জেক মুর বলেছেন, ইমেলগুলো একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্ট ব্যবহার করে পাঠানো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, বহুসংখ্যক প্রতিষ্ঠানে হুমকি বার্তা পাঠানোর জন্য সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্কুলগুলোর ইমেল ঠিকানা এবং স্বল্পমূল্যের সফটওয়্যার ব্যবহার করা যেতে পারে।
মুর বলেন, এই ধরনের একটি অভিযান সামান্য প্রচেষ্টাতেই ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে। তিনি ধারণা করেন যে, প্রেরক হয়তো সফটওয়্যার পরীক্ষা করছেন এবং এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছেন, যদিও ইমেলগুলো পাঠানোর জন্য ব্যবহৃত পদ্ধতিটি এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।কর্তৃপক্ষ বার্তাগুলোর উৎস এবং হুমকির পেছনের পরিস্থিতি তদন্ত করার পাশাপাশি সেগুলোকে একটি গুজব হিসেবেই বিবেচনা করে চলেছে।।

