আমেরিকার ‘ডিপ স্টেট’ (Deep State) এবং পাকিস্তানের আইএসআই (ISI)-এর যৌথ উদ্যোগে সংঘটিত ২০২৪ সালের জিহাদি অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে উগ্রবাদী ইসলামের উদ্বেগজনক উত্থান দেখা যাচ্ছে। এখন আল-কায়েদা, আইএসআইএস (ISIS) এবং হামাস-এর মত কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী গুলি প্রকাশ্যে তাদের হিংস্র রূপ প্রদর্শন করছে বলে জানিয়েছেন ইংরেজি সাপ্তাহিক ব্লিটজ পত্রিকার সম্পাদক সালহা উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী । তার কথায়, এই দানবদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে তা এই অঞ্চল এবং এর বাইরের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
আল-কায়েদা, আইএসআইএস (ISIS) এবং হামাস-এর পতাকা নিয়ে মিছিলের বেশ কিছু ছবি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করেছেন শোয়েব চৌধুরী। একটি পোস্টে এক ব্যক্তি ও তার শিশুসন্তানের হাতে রাইফেলের প্রোটোটাইপ ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পতাকা হাতে ছবি পোস্ট করেছেন । তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে হামাস! মির ফরহাদ নামের এক ব্যক্তি আল-কায়েদা, আইএসআইএস (ISIS) ও হামাসের পতাকা এবং নকল রাইফেল হাতে ছবি তুলেছেন; এমনকি তিনি শিশুদেরও এমন গর্হিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন। রাজশাহী জেলার মালোপাড়া এলাকার ‘দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানা’র প্রাঙ্গণে এই ছবিগুলো তোলা হয়েছে।’
শোয়েব চৌধুরী আরও জানিয়েছেন,সুসংগঠিত দলের মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশ জুড়ে আল-কায়েদা, আইএসআইএস (ISIS) ও হামাসের পতাকা বিতরণ করা হচ্ছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের হাজার হাজার পতাকা পাঠানো হচ্ছে। এমনকি বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকাতেও উড়ছে ইসলামিক স্টেটের পতাকা ! তিনি বলেছেন,’আল-কায়েদা, আইএসআইএস (ISIS) ও হামাসের পতাকার উৎপাদন ক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে জিহাদিরা ডিটিএফ (DTF) ফেব্রিক প্রিন্টার স্থাপন করেছে। তারা প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ হাজার পতাকা তৈরি করছে।’
উল্লেখ্য,গত ১৩ জুন এক ভিডিও বার্তায় লস্কর-ই- তাইবা সংশ্লিষ্ট ইসলামপন্থী নেতা মুফতি হারুন ইজহার বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তে ‘কালিমার পতাকা’ ওড়ানোর আহ্বান জানান।২০২১ সালের এপ্রিলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরকালে সংঘটিত হিংসার ঘটনায় মুফতি হারুন ইজহারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ‘হরকাত-উল-জিহাদ’-এর একসময়ের সক্রিয় সংগঠক হারুনকে অন্তত দুবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল—২০১৩ সালে লালখান বাজার মাদ্রাসায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে এবং ২০০৯ সালে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে হামলার জন্য লস্কর-ই-তাইবার সাথে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে।
ওই সন্ত্রাসবাদীর আহ্বানের পর এখন বাংলাদেশে জিহাদিরা আল-কায়েদা, আইএসআইএস (ISIS) ও হামাসের পতাকা হাতে মিছিল করছে । রাজশাহী শহরের সাহেব বাজার এলাকায় শত শত জিহাদি মোটরসাইকেল মিছিল করেছে। তারা জিহাদি স্লোগান দেয় এবং দেশকে “শাহাদাতের পতাকাতলে” এনে বাংলাদেশে খিলাফত প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে । এছাড়া, রাজশাহী জেলার মালোপাড়া এলাকার ‘দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানা’-র শিক্ষার্থীদের আল-কায়েদা, আইএসআইএস (ISIS) ও হামাসের পতাকা নিয়ে রাস্তায় মিছিল করার নির্দেশ দিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ । পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের পৈতৃক বাড়ি থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে চকরিয়ার মাতামুহুরী সেতুতে জিহাদি পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। প্রতিদিন বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তে আল-কায়েদা, আইএসআইএস (ISIS) এবং হামাসের শত শত পতাকা ছড়িয়ে পড়ছে। ঢাকা জেলার অন্তর্গত নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকজন ইসলামপন্থী নেতার মাধ্যমে হাজার হাজার জিহাদি পতাকা বিতরণ করা হয়েছে ।বাংলাদেশের তরুণদের মাঝে আল-কায়েদা, আইএসআইএস (ISIS) ও হামাসের হাজার হাজার পতাকা বিতরণ করা হচ্ছে—যার পেছনে স্পষ্টতই দেশটিকে জিহাদের ভূমিতে পরিণত করার এক বিপজ্জনক উদ্দেশ্য রয়েছে।
শোয়েব চৌধুরী বলেছেন,সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেওয়া প্রয়োজন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন,হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কি ভারতের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছে? পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিপুল বিজয়ে হামাস-সহমর্মী, জামায়াত-পন্থী ও নকশাল -সমর্থক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী নিশ্চয়ই অত্যন্ত হতাশ হয়েছেন। এখন সম্ভবত তিনি ভারতকে শাস্তি দেওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর; আর তাই তিনি দাবি করছেন যে, বাংলাদেশ-বিরোধী ঘৃণা উসকে দেওয়ার লক্ষ্যে ভারত নাকি ভারতীয় মুসলমানদের দেশ থেকে বের করে দিচ্ছে।’
গত ২৩ জুন ব্লিটজ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী বাংলাদেশে জিহাদি অভ্যুত্থানের উদ্বেগজনক বৃদ্ধি নিয়ে একটি প্রতিবেদন লিখেছেন । প্রতিবেদনটির শিরোনাম হল : “বাংলাদেশে হামাসের প্রভাব বিস্তারের ফলে ইউনুস প্রশাসনকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে” । তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশে হামাস-সংশ্লিষ্ট কার্যকলাপের উত্থান ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য বিবৃতি এবং হামাসের শীর্ষ নেতাদের দেশটিতে সফরের নথিভুক্ত ঘটনার পর। ৭ অক্টোবরের হামলার পর বিশ্বের মনোযোগের বেশিরভাগই যখন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে নিবদ্ধ ছিল, তখন গাজার বাইরে নিজেদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় যোগাযোগ স্থাপনের জন্য হামাসের প্রচেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন ক্রমশই উঠছে। তাই, নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন কর্তৃক হামাসের শীর্ষ নেতাদের প্রবেশ ও কার্যকলাপের অনুমতি প্রদানে যে ভূমিকা পালন করা হয়েছে, তা নিবিড় পর্যালোচনা ও বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে।
যখন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, জর্জ সোরোস, এমনকি বিল ও হিলারি ক্লিনটনসহ পশ্চিমা বিশ্বের অধিকাংশ নেতা বাংলাদেশে শাসন পরিবর্তন এবং তাদের ‘প্রিয় বন্ধু’ ও নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসকে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় উল্লাস করছিলেন, তখন তাদের অনেকেই, শীর্ষ সন্ত্রাস দমন ও গোয়েন্দা সংস্থা এবং বৈশ্বিক গণমাধ্যমগুলোর সাথে মিলে, মুহাম্মদ ইউনূস ও তার প্রশাসনের গোপন সহযোগিতায় গাজা-ভিত্তিক বৃহৎ সন্ত্রাসী সংগঠন হামাসের বাংলাদেশ ও তার বাইরে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের উদ্বেগজনক তথ্য উপেক্ষা করছিলেন।
ইউনুস ইসরায়েল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সোচ্চার ছিলেন এবং বারবার “ফিলিস্তিনিদের অধিকারের” পক্ষে তার মতামত ব্যক্ত করেছেন। তিনি তথাকথিত “গাজা ফ্লোটিলা মিশন”-এর অন্যতম প্রধান সমর্থকও ছিলেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হামাসকে একটি বিদেশী সন্ত্রাসী সংগঠন (এফটিও) হিসেবে চিহ্নিত করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ১৯৯৭ সালের অক্টোবরে আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিকে তাদের এফটিও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে এবং হামাসকে একটি বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী (এসডিজিটি) সত্তা হিসেবেও স্বীকৃতি দিয়ে রেখেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ইসরায়েল এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রসহ ২০টিরও বেশি দেশ ইরানের এই প্রক্সি সংগঠনটিকে সম্পূর্ণরূপে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এই নথিভুক্ত সত্য থাকা সত্ত্বেও, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেনসহ ইউনুস সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এবং স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, ডিজিএফআই-এর মহাপরিচালক, এনএসআই-এর মহাপরিচালক, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি)-এর প্রধানসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা খালেদ মাশালের নেতৃত্বে হামাসের একটি বিশাল প্রতিনিধিদলকে ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে প্রবেশ করতে এবং বেশ কয়েকটি “ধর্মীয় অনুষ্ঠানে” অংশ নিতে অনুমতি দেন ।
আমার মতে, শেখ খালেদ কুদ্দুমি ও খালেদ মাশালসহ হামাসের শীর্ষ নেতাদের এই গোপন সফরের মূল কারণ ছিল বাংলাদেশি নাগরিকদের সদস্য হিসেবে নিয়োগ করা এবং পরবর্তীতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের জন্য তাদেরকে গাজা উপত্যকাসহ সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশসমূহ এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশে মোতায়েন করা। খালেদ মাশাল এবং হামাসের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের আশ্রয় দেওয়ার কারণে ইউনুস ও তার প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সহ, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে, হামাসকে আশ্রয় দেওয়া একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনো মনোনীত বিদেশি রাষ্ট্র সংগঠনকে (FTO) “বস্তুগত সহায়তা বা সম্পদ” প্রদান করা একটি ফেডারেল অপরাধ। এর মধ্যে সংগঠনটির নেতৃত্বের জন্য আশ্রয় প্রদান, সুরক্ষা দেওয়া, বা নিরাপদ আশ্রয়স্থল তৈরিতে সহায়তা করা অন্তর্ভুক্ত।
যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র ও সহযোগী দেশগুলোকে হামাস নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে এবং তাদের বহিষ্কার করতে সক্রিয়ভাবে চাপ দেয়।উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তুরস্কের মতো দেশগুলোকে হামাস নেতৃত্বকে আশ্রয় দেওয়ার বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে সতর্ক করেছে এবং জোর দিয়ে বলেছে যে, এই গোষ্ঠীর সঙ্গে “আর কোনো স্বাভাবিক সম্পর্ক” চলতে পারে না।যেসব সংস্থা, ব্যক্তি বা রাষ্ট্র হামাস নেতা ও কর্মীদের আশ্রয় দেয়, অর্থায়ন করে বা সহায়তা করে, তারা মার্কিন অর্থ দপ্তর কর্তৃক আরোপিত কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত হবে।
মার্কিন আইন অনুযায়ী, হামাসের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি অভিবাসন সুবিধা গ্রহণ করতে বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারে না। অধিকন্তু, হামাসের অনেক নেতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগে অভিযুক্ত, এবং ওয়াশিংটন বিচারের মুখোমুখি করার জন্য তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ২০০৩ সালে খালেদ মাশালকে বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী (এসডিজিটি) হিসেবে ঘোষণা করে ।এছাড়াও, ২০২৪ সালে মার্কিন বিচার বিভাগ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবরের হামলা সংগঠনে তাদের ভূমিকার জন্য মাশাল এবং হামাসের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে ফেডারেল সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ প্রকাশ করে।২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে, মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবরের হামলার সাথে সম্পর্কিত সন্ত্রাস-সংক্রান্ত অপরাধে খালেদ মাশাল এবং হামাসের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে একটি সিলমোহরযুক্ত ফৌজদারি অভিযোগপত্র দাখিল করে । এই অভিযোগগুলো ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয় এবং এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
★বিদেশী সন্ত্রাসী সংগঠনকে বস্তুগত সহায়তা প্রদানের ষড়যন্ত্র যার ফলে মৃত্যু ঘটেছে;
★ মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্র;
★ গণবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের ষড়যন্ত্র যার পরিণামে মৃত্যু ঘটবে; এবং জনব্যবহারযোগ্য কোনো স্থানে বোমা হামলার ষড়যন্ত্র, যার ফলে মৃত্যু ঘটে।
যেহেতু হামাসকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি বিদেশী সন্ত্রাসী সংগঠন (এফটিও) হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তাই ওয়াশিংটন এর নেতৃত্বকে আশ্রয় ও সহায়তা প্রদানকারী যেকোনো রাষ্ট্রকে একটি বড় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখে। যুক্তরাষ্ট্র আশ্রয়দাতা দেশগুলোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে:
গৌণ নিষেধাজ্ঞা: যুক্তরাষ্ট্র এমন বিদেশী ব্যক্তি, সংস্থা বা সরকারকে শাস্তি দিতে পারে, যারা মনোনীত হামাস নেতাদের বস্তুগত সহায়তা, আর্থিক পরিষেবা বা আশ্রয় প্রদান করে।
বস্তুগত সহায়তা আইন: কোনো মনোনীত বিদেশী সন্ত্রাসী সংগঠনকে নিরাপদ আশ্রয় ও রসদ সরবরাহ করাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদে “বস্তুগত সহায়তা” প্রদান হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারে।
সাহায্য হ্রাস: হামাসকে আশ্রয় দিলে সাহায্য হ্রাস পেতে পারে।
বাংলাদেশে হামাসের উত্থান
সম্প্রতি ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত রুভেন আজার এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেছেন যে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাস-সংশ্লিষ্ট কার্যকলাপ চলছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে চরমপন্থী প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।রাষ্ট্রদূত আজারের মতে, ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকে ইসরায়েল পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাসের কার্যকলাপ বলে যা মনে করে, তার ওপর নজর রাখছে। কিছু প্রতিবেদন জনসমক্ষে উপলব্ধ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, তা স্বীকার করে তিনি ইঙ্গিত দেন যে এমন আরও কার্যকলাপ থাকতে পারে যা জনসমক্ষের আড়ালে রয়েছে।
ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎকারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাংলাদেশে আল কায়েদা, আইএসআইএস ও হামাস-সংশ্লিষ্ট ইসলামপন্থী ও জিহাদি গোষ্ঠীগুলো ঢাকার বিভিন্ন স্থানে জিহাদি পতাকা উড়িয়ে এবং মিছিল করে তাদের শক্তি প্রদর্শন শুরু করে। তারা গণতন্ত্রের নিন্দা জানিয়ে এবং বাংলাদেশকে খিলাফতে রূপান্তরিত করার আহ্বান জানিয়ে স্লোগান দেয়।
এর আগে, ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশে হামাসের উপস্থিতি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত রুভেন আজার ব্লিটজকে বলেছিলেন :
ইসরায়েলের নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে হামাসের সম্পৃক্ততা তাদের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ। শেখ খালেদ কুদ্দুমি ও খালেদ মাশালের মতো হামাসের শীর্ষ নেতাদের মাধ্যমে গাজার বাইরে যোগাযোগ ও কার্যক্রম স্থাপনের মাধ্যমে হামাস তার কার্যকলাপের জন্য অর্থায়ন, আদর্শগত সমর্থন এবং রসদ সরবরাহের পথ সুগম করতে চায়। এই সম্প্রসারণ তাদের স্থানীয় ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে জোট গড়ে তোলার সুযোগও করে দেয়, যা দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে তাদের প্রভাব ও কার্যক্রমের পরিধি বাড়িয়ে তোলে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য এই ঘটনাটি উদ্বেগজনক। এটি উগ্রবাদ, আন্তঃসীমান্ত সমন্বয় এবং সম্পদের অবাধ চলাচলের নতুন পথ তৈরি করে, যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিভিন্ন দেশকে প্রভাবিত করতে পারে।
বাংলাদেশে হামাসের পদচিহ্ন স্থাপন, এর বিশিষ্ট নেতাদের সফর এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগদানের আড়ালে তাদের নিয়োগ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ইতোমধ্যেই দেশটিকে গুরুতর নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেছে। যেহেতু পাকিস্তান তার ইসরায়েল-বিরোধী নীতির কারণে হামাসের সাথে কয়েক দশক ধরে সম্পর্ক বজায় রেখেছে, তাই এটা অসম্ভব নয় যে পাকিস্তানের কুখ্যাত গুপ্তচর সংস্থা, ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই), ভারতের অভ্যন্তরে অন্তর্ঘাতমূলক কার্যকলাপ বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশসহ নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ এবং মিয়ানমারে থাকা হামাস কর্মীদের ব্যবহার করতে পারে।
সন্ত্রাসবাদ দমন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা বা আন্তর্জাতিক কূটনীতি—যে দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখা হোক না কেন, বাংলাদেশে হামাস-সংশ্লিষ্ট কার্যকলাপের কথিত সম্প্রসারণ গুরুতর মনোযোগের দাবি রাখে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিবৃতি, দেশটিতে হামাসের শীর্ষ নেতাদের নথিভুক্ত উপস্থিতি এবং চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান দৃশ্যমানতা সম্মিলিতভাবে এমন কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করে যা বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ উপেক্ষা করতে পারে না। স্বচ্ছ ও দৃঢ়তার সাথে এই উদ্বেগগুলো মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হলে তা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদার ক্ষতি করার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়া ও এর বাইরে নতুন নিরাপত্তা সংকট তৈরি করার ঝুঁকি তৈরি করবে।।
