এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৪ জুন : কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্ররর তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর ‘আবেগঘন সম্পর্ক’-এর কথা প্রকাশ করে রাজনৈতিক জল্পনা উস্কে দিয়েছেন। নিজের রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকের কথা স্মরণ করে মৈত্র বলেন, ২০১৪ সালে লোকসভার টিকিট না পেলে শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে সমর্থন করেছিলেন এবং করিমপুরে তাঁর জন্য প্রচার চালানো প্রথম নেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম ছিলেন। দলত্যাগ ও অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জর্জরিত টিএমসি-র অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মধ্যেই তাঁর এই মন্তব্য তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অন্দরে নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে ।
মহুয়া মৈত্র বলেন,’ব্যক্তিগত স্তরে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো। আমরা যখন তৃণমূলে একসঙ্গে ছিলাম, তখন তিনি আমাকে অনেক সাহায্য করেছিলেন। ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে টিকিট না পাওয়ার দুঃসময়ে শুভেন্দুই সান্ত্বনা দিয়েছিলেন । তাঁর কথায়,’২০১৪ সালে আমি টিকিট না পেয়ে সারা রাত কেঁদেছিলাম। তখন শুভেন্দু পাশে ছিলেন।’শুধু তাই নয়, মহুয়ার প্রথম বিধানসভা নির্বাচনেও শুভেন্দুর অবদানের কথা স্মরণ করেছেন তিনি। মহুয়া জানান, ২০১৬ সালে যখন তিনি করিমপুর থেকে প্রথমবার ভোটে লড়েন, তখন দলের কোনো সিনিয়র নেতা প্রচারে আসেননি। সেই প্রথম জনসভায় শুভেন্দু অধিকারীই তাঁকে সমর্থন জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন। যদিও শুভেন্দু তৃণমূলে নেই এবং বর্তমানে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, তবুও মহুয়ার মতে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক সবসময় দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে। মহুয়া জানিয়েছেন, শুভেন্দুর সঙ্গে বর্তমানে তাঁর নিয়মিত কথা হয় না, কিন্তু প্রাক্তন সহকর্মীর সাহায্য তিনি কখনো ভুলতে পারবেন না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মহুয়ার এই শুভেন্দু অধিকারী ‘বন্দনা’ মমতা ব্যানার্জির উদ্বেগ বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে । কারন, তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদ ইতিমধ্যেই বিদ্রোহী এবং নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের উপর সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে ৬০ জন বিধায়কের সমর্থনে গঠিত ‘আসল তৃণমূল’-এর নেতা ঋতব্রত ব্যানার্জি দলের সৃষ্টিকর্তা মমতা ব্যানার্জিকেই চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন । এখন মমতাকে দলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে লড়াই করতে হচ্ছে । এই পরিস্থিতিতে মহুয়ার মত একজন ‘অনুগত’-এর গলায় শুভেন্দু অধিকারীর বন্দনা ‘কালীঘাট তৃণমূল’কে চাপে ফেলে দিয়েছে ।।
