এইদিন ওয়েবডেস্ক,ঢাকা,২২ জুন : ভগবান শ্রীরাম চন্দ্রের অবমাননার প্রতিবাদ হিন্দুদের নিরাপত্তার দাবি জানানোর অপরাধে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের ভিতরে জিহাদি আইনজীবীদের হাতে আক্রান্ত হলেন আইনজীবী চৈতালী চক্রবর্তী । চৈতালী বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির একজন সদস্য(সদস্য নং-৬১০১) । আজ সোমবার তিনি আদালতে গেলে জিহাদি আইনজীবীরা জোট বেঁধে তার উপর অতর্কিত হামলা চালায় ।
ঘটনার পর দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন আক্রান্ত আইনজীবী চৈতালী চক্রবর্তী । সুপ্রীম কোর্ট বারের পক্ষ থেকে দাখিল করা এক লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ২২ জুন ২০২৬ তারিখে বেলা আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে এনেক্স ভবনের ১৪ নম্বর কোর্টের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিনি হামলার শিকার হন । অভিযোগে বলা হয়, তিনজন নারী আইনজীবীসহ আরও ৪/৫ জন পুরুষ আইনজীবী, যাদের পরিচয় জানা না গেলেও দেখলে চেনা যাবে—তারা একত্র হয়ে তার ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায় এবং মব সৃষ্টি করে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এতে তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধাগ্রস্ত হন এবং তাৎক্ষণিকভাবে আদালতের আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।পরবর্তীতে সুপ্রীম কোর্ট বার-এর একজন নির্বাহী সদস্যসহ কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবীর সহায়তায় তিনি বার ভবনের ভেতরে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। বর্তমানে তিনি ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় আছেন বলেও জানান।
এমতাবস্থায়, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।এ বিষয়ে সুপ্রীম কোর্ট বার কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত,বাংলাদেশের রংপুর ডিভিশনের লালমনিরহাটে ৮০ ফুট দীর্ঘ ভগবান শ্রীরামের মুর্তি তৈরি হচ্ছিল । কিন্তু ইসলামি কট্টরপন্থীদের চাপে বর্তমানে মুর্তি নির্মানের কাজ স্থগিত করা হয়েছে । শুধু তাইই নয়,উগ্র ইসলামি সংগঠন জামাত ইসলামি ওই মুর্তি ভেঙে ফেলার জন্য দাবি জানাচ্ছে । সম্প্রতি এই দাবিতে একটি মিছিলও করা হয় । যে মিছিলে শ্রীরামের ছবিতে জুতো পর্যন্ত মারে জিহাদিরা । তারই প্রতিবাদে এবং দোষী জিহাদিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে দিন দুয়েক আগে একটি বিশাল সমাবেশ করে হিন্দু সংগঠন । সেই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন চৈতালী চক্রবর্তী । সেই সময় তিনি দাবি জানান,’হিন্দুদের জন্য পৃথক প্রদেশের ব্যবস্থা করা হোক,যেখানে শুধু হিন্দুরাই থাকবে ।’ আর এতে চরম ক্ষিপ্ত হয় ইসলামি কট্টরপন্থীরা।।
