এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৩ ডিসেম্বর : রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের নতুন একটা কেলেঙ্কারি ফাঁস করলেন মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির । আর সেই নতুন কেলেঙ্কারি হল “স্বাস্থ্য সাথী কেলেঙ্কারি”৷ কেন্দ্র সরকারের “আয়ূষ্মান ভারত” এরাজ্যে লাগু করতে না দিয়ে “স্বাস্থ্য সাথী কার্ড” চালু করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি । কিন্তু সেই “স্বাস্থ্য সাথী”তে কিভাবে ব্যাপক দুর্নীতি হচ্ছে তা তুলে ধরে ২০২৬শে বিধানসভার ভোটের মুখে মমতা ব্যানার্জিকে চাপে ফেলে দিয়েছেন হুমায়ূন কবির । বিজেপির সর্বভারতীয় আইটি ইনচার্জ অমিত মালব্য কটাক্ষ করেছেন : ” বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনব্যবস্থা বাঙালিদের রক্ত এবং ঘাম চুষে তার সাম্রাজ্য গড়ে তুলছে।”
একটি সাক্ষাৎকারে হুমায়ূন কবির বলেছেন,’ ‘বহরমপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাবেন, সেখানে দেখতে পাবেন যে একটা বেডে তিনজন এবং বেডের নিচে আরও একজন আজ রোগী আছে । এই স্বাস্থ্যপরিসেবা ? আবার যে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড দিদিমণি করেছেন, দিদিমনির এই স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে কত দুর্নীতি হয় আপনি জানেন ? একটা গ্রামের গরীব মানুষ ৫০০০ টাকার পরিষেবা পেতে গিয়ে তার নামের টিপ দিয়ে নার্সিংহোমগুলো ৫০,০০০ টাকা বিল করে । সেই বিল যখন স্বাস্থ্য ভবনে আসে, ৫০০০ টাকার বিল ৫০০০০ টাকা হল,অর্থাৎ ৪৫ হাজার বাড়ালো । তারমানে কত গুন বাড়ালো ? এই বিলটা ছাড়াতে দিয়ে ১০০০০ টাকা অফিসারদের দিতে হয়। তাহলে সব মিলে গেল ১৫০০০ । তার মানে নার্সিংহোমগুলো পাঁচ হাজার টাকার পরিষেবা দিয়ে ৩৫ হাজার টাকা লাভ করছে । সেই বিল এক বছর পরে পাক না, কোন অসুবিধা নাই ।’
হুমায়ুনের নতুন এই দুর্নীতি উন্মোচনার পর ভিডিও ক্লিপটি এক্স-এ শেয়ার করে মমতা ব্যানার্জীর তীব্র সমালোচনা করে অমিত মালব্য লিখেছেন,’আজই, CAG তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে এক বিশাল কেলেঙ্কারির উন্মোচন করেছে – মালদায় ১০০ কোটি টাকার বন্যা ত্রাণ কেলেঙ্কারি, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস নিরীহদের লুট করেছিল।আর এখন, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন নীল চোখের ছেলে, যিনি গোপন তথ্য ফাঁসকারী হয়েছেন, হুমায়ুন কবির, বাংলায় আরও একটি ব্যাপক কেলেঙ্কারির উন্মোচন করেছেন: স্বাস্থ্য সাথী কেলেঙ্কারি।’
তিনি লিখেছেন,’৫,০০০ টাকার হাসপাতালের বিল বেড়ে ৫০,০০০ টাকা হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য ভবনের মাধ্যমে জাল বিল দাবির জন্য পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য ভবনের নেওয়া প্রতিটি বিলে ১০,০০০ টাকা কেটে নেওয়া হয় । এটি বাংলার সাধারণ মানুষের উপর সংগঠিত লুটপাট এবং স্বাস্থ্যসেবার উপর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক অনুমোদিত একটি উপহাস ছাড়া আর কিছুই নয়।’
তিনি আরও লিখেছেন,’বন্যা ত্রাণ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবা পর্যন্ত, দুর্নীতি এখন বাংলায় রাজত্ব করছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনব্যবস্থা বাঙালিদের রক্ত এবং ঘাম চুষে তার সাম্রাজ্য গড়ে তুলছে। আর বাংলা যখন নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে, তখন তৃণমূল কংগ্রেসের ইঁদুররা ডুবন্ত জাহাজ থেকে লাফিয়ে পড়ছে, ভীত সন্ত্রস্ত যে দলের করা বিশাল কেলেঙ্কারি থেকে মুক্তির আর কোনও সুযোগ নেই।তারা জানে সত্য বেরিয়ে এসেছে। এবং তারা জানে বাংলার মানুষ এবার পাল্টা আঘাত করবে।’।

