এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৫ ফেব্রুয়ারী : বিধানসভার ভোটের আগে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ মামলায় চরম বিপাকে পড়ে গেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি । আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানি ছিল । বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে বকেয়া ডিএ-এর ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন । শুধু তাইই নয়, বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ কতগুলি কিস্তিতে দিতে হবে সে বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত ।
এদিকে সাতসকালে আদালতের এই রায়ের পর একদিকে যখন মুষড়ে পড়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস, পাশাপাশি অন্যদিকে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি । বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে কলকাতার রাস্তায় শ্লোগান তোলেন : “হারিল হারিল,মমতা হারিল” ।
তার আগে আদালতের রায় সামনে আসার পরেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন,’ডিএ মামলায় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করলেন মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট। আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভুল প্রমাণিত হলেন, নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার জন্যে বারংবার বলে এসেছেন যে, “ডিএ কর্মচারীদের অধিকার নয়”। আজ দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দিলো যে ডিএ হলো কর্মচারীদের আইনসিদ্ধ ন্যায্য অধিকার কোনো অনুদান নয়।’
তিনি লিখেছেন,’দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর, বহু বছরের সংগ্রামের পর অবশেষে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা মহামান্য আদালতের নির্দেশে তাদের ন্যায্য অধিকার অনুযায়ি মহার্ঘ ভাতা পেতে চলেছেন।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসংবেদনশীল সরকার দীর্ঘ দিন রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের তাঁদের প্রাপ্য ন্যায্য মহার্ঘ ভাতা থেকে বঞ্চিত করেছেন। ট্রাইবুনাল থেকে মহামান্য কলকাতা হাইকোর্ট, একের পর এক আইনি লড়াই জেতার পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের কোটি কোটি টাকা ধ্বংস করে দেশের তাবড় আইনজীবীদের দাঁড় করিয়েছেন শুধুমাত্র প্রাপ্য মহার্ঘ ভাতা থেকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে। কর্মচারীরা আন্দোলন করলে পুলিসের লাঠির আঘাত ধেয়ে এসেছে, তবুও ওনারা ধৈর্য ধরে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন ও দেশের আইনি ব্যবস্থার ওপর ভরসা করে আইনি পথে লড়াই করেছেন।’
তিনি আদালতের এই রায়ের জন্য ‘সরকারি কর্মচারীদের সম্মিলিত লড়াইয়ের’ প্রশংসা করে লিখেছেন,’এই জয় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সম্মিলিত লড়াইয়ের জয়, ন্যায্য অধিকারের জন্য আপোষহীন এই লড়াই কে আমি কুর্ণিশ জানাই। রাষ্ট্রবাদী মনোভাবাপন্ন সহ সকল রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যেককে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।’।

