ফ্রান্সে আজকে যা হচ্ছে তা তাদের দীর্ঘ দিনের কর্মফল ! ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষতার নামে দেশে দেদার মুসলিম শরণার্থীদের ঢুকিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকার জনবিন্যাসের আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে দিয়েছে । আফ্রিকা মহাদেশের আলজেরিয়া, মরক্কো, তিউনিসিয়া ধরে সেনেগাল, মালি, কঙ্গো, গিনি, বেনিন, নাইজার, বুরকিনা ফাসো, মৌরিতানিয়া, চাঁদ, ক্যামেরুন, গ্যাবন, কমরোস সহ সমস্ত মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকা ছিলো ফ্রান্সের কলোনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে শিল্প কারখানা বিপ্লবের পরে এইসব দেশ থেকে সস্তা শ্রমিক নিয়ে আসে ব্যাপক হারে। যার মধ্যে প্রচুর মুসলিম অভিবাসী আছে। তারপর বামপন্থী সরকারের অবাধ অভিবাসন নীতি ফ্রান্সের জনবিন্যাস আমূল বদলে দিয়েছে৷ বর্তমান ফ্রান্সের প্রায় ২০ % এরাই কাগজে কলমে। আর এরাই আজ গোটা দেশে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে ।
স্কুলের উন্নতির নাম করে শুরু করা আন্দোলনকে হাতিয়ার করে গোটা দেশে হিংসার আগুন লাগিয়ে দিয়েছে মুসলিম অভিবাসীরা৷ ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে প্লেস দে লা রিপাবলিক-এর আশেপাশে সহিংস সংঘর্ষ শুরু হয়। দাঙ্গাকারীরা পুলিশের ওপর ঢিল ও আতশবাজি ছুড়ে হামলা চালায়, বুলেভার্ড ম্যাজেন্টার দোকানপাট লুট করে, যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বেশ কয়েকটি ভবনে আগুন লাগিয়ে দেয়, যখন জরুরি পরিষেবা কর্মীরা কাছাকাছি আগুন নেভানোর জন্য লড়াই করছিল।
এখন আর স্কুলের উন্নতি নয়, শরিয়া আইনের দাবিতে মুসলিমরা দাঙ্গা শুরু করেছে । সর্বশেষ খবর হল, ফ্রান্স চরম বিশৃঙ্খলার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মুসলিম জনতা রাস্তায় নেমে যা কিছু সামনে পাচ্ছে তা-ই জ্বালিয়ে দিচ্ছে, ‘আল্লাহু আকবার’ ও ‘ফ্রান্সের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দিচ্ছে এবং প্রকাশ্যে ইসলামি আইন (শরিয়া) প্রবর্তনের দাবি জানাচ্ছে। এটি বছরের পর বছর ধরে চলা ব্যাপক অভিবাসন এবং ব্যর্থ সমন্বয় প্রচেষ্টার প্রত্যক্ষ ফল। ফ্রান্স তাদের আশ্রয় ও সুযোগ দিয়েছিল, আর এখন তারা সেই দেশটিকে পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছে যারা তাদের স্বাগত জানিয়েছিল।
আজ সোমবার সকালে প্যারিসকে দেখে মনে হচ্ছে যেন এটি কোনো যুদ্ধক্ষেত্র। পোড়া গাড়ি, চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ, বিলাসবহুল দোকানের ভাঙা কাঁচ, স্মৃতিস্তম্ভের ওপর আঁকিবুঁকি—সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ দৃশ্য। অথচ মানুষজন এই ধ্বংসযজ্ঞের পাশ দিয়ে এমনভাবে হেঁটে যাচ্ছে যেন এসব খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। গত রাতের তথাকথিত ‘প্রতিবাদ’-এর পর ১৮ই অক্টোবর শহরটির চিত্র ঠিক এমনই। ফরাসিরা এখন বলতে শুরু করেছে, যখন কোনো দেশ এমন লাখ লাখ মানুষকে আশ্রয় দেয় যারা মূলধারার সমাজের সঙ্গে মিশতে অস্বীকার করে, তাদের কারণে বেড়ে চলা অপরাধকে উপেক্ষা করে, আর তারপর সৃষ্ট বিশৃঙ্খলাকে কেবল ‘অর্থনৈতিক হতাশা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার ভান করে—তখন ঠিক এমনটাই ঘটে। এর পরিণতিতে শত শত দোকান লুট হয়েছে, গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং রাস্তাঘাটগুলো যেন এক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ১,৮০০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফ্রান্স সুশৃঙ্খল পরিস্থিতির চেয়ে উন্মুক্ত সীমান্তকেই বেছে নিয়েছিল। আর এখন তাদের রাজধানীর অবস্থা দাঁড়িয়েছে ঠিক এমন। অনেক দেরিতে হলেও ফ্রান্সকে দেখে ইউরোপ এখন বাস্তবতা বুঝতে শুরু করেছে।
ধর্মীয় স্বাধীনতার নামে ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষ নীতিতে ফ্রান্স ইউরোপের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। ২,৬০০ মসজিদ আছে ফ্রান্সে। একইসাথে প্যালেস্টাইন ইস্যুতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের সরব ভূমিকা ছিলো এবং তাদের স্বাধীন দেশের স্বীকৃতি তারা আরো আগেই দিয়েছে। ফ্রান্স তাদের নাগরিকদের যেসব সুবিধা দিয়ে থাকে তার সবটুকুই মুসলিম শরণার্থীরা পায় । কিন্তু যারাই আফ্রিকার ইমিগ্রান্টদের সাথে কমবেশি পরিচিত আছেন তারা জানেন তাদের এলাকায় ক্রাইম রেইট সর্বোচ্চ। সকল সুবিধা ভোগ করলেও এরা কাজ কর্ম কিছুই করবে না।
ইদানীং রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ায় দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত বৃদ্ধি এদের আরো অসন্তোষ করে তোলে। সেইসাথে রাজনৈতিক কোন্দল এবং বিশেষ কোন চক্রান্ত এটাকে আরো কদর্য রূপ দিয়েছে। এখন ফ্রান্সে যা হচ্ছে তা অরাজকতা । দোকানে দোকানে সুপারমার্কেট বা নামীদামী বিপনি-বিতানে চলছে দিনেদুপুরে লুট। এখন প্রশ্ন উঠছে যে,এই মুসলিম অভিবাসীদের আশল উদ্দেশ্য কি? নেপোলিয়নের দেশ ফ্রান্সকে তারা ইসলামি রাষ্ট্র করতে চায় । ফ্রান্স একসময় ইউরোপের শ্রেষ্ঠ দেশ ছিলো শিল্প । সংস্কৃতির রাজধানী ছিলো । যে প্যারিস লুভর মিউজিয়াম, মাদাম তুসো মিউজিয়াম ছিলো যাদের গর্ব সেখানে মূত্র ত্যাগ করছে মুসলিমরা । আর দুর্ভাগ্যের বিষয় যে এদের উসকে দিয়ে মজা দেখছে ফরাসি উগ্র বামপন্থীরা৷
একই কায়দায় ভারতেও নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্র !
রাজেশ কুমার সাহা নামে একজন বুদ্ধিজীবীর কথায়,
বাংলাদেশ পারেনি, ফ্রান্স পারছে না কিন্তু ভারত পেরেছে । তিনি বলেছেন,পরিচিত গদ। যেকোনো একটি সামাজিক বিষয় তুলে ধরে আন্দোলনে যাও। তারপর নতুন প্রজন্মের ক্ষোভকে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করো। এরপরে নামো ধ্বংসলীলায় আর লুটপাটে।
বাংলাদেশে সাধারণ একটি কোটা আন্দোলনকে সামনে রেখে পরবর্তীতে কি হয়েছিল আমরা সকলেই জানি। কোটা আন্দোলনের সঙ্গে নিশ্চয়ই দিপু দাসের পুড়িয়ে মারার কোন সম্পর্ক ছিল না, বিভিন্ন ঐতিহাসিক জায়গাকে ধ্বংস করার কোন সম্পর্ক ছিল না। কিন্তু সব কিছু হয়েছে অন্যায়ের প্রতিবাদের নামে আরো ঘোরতর অন্যায় এবং মানবাধিকার লংঘন করে।ফ্রান্সেও একই চিত্র। স্কুলের উন্নতির নাম করে আন্দোলন, আর তার থেকে আগুন লাগানো, লুটপাট, ফ্রান্সের আইকনিক স্ট্যাচু এবং স্থাপত্য ধ্বংস।
রাজেশবাবু বলেন,ভারতবর্ষেও বারবার সেই চেষ্টা চলছে। প্রাচীনকাল থেকে নালন্দা পুড়িয়ে, মন্দির গুলো ধ্বংস করে যে প্রয়াস শুরু হয়েছিল তা এখনো জারি রয়েছে সমান হারে। আন্দোলনের নামে ট্রেন বাস পোড়ানো আমরা প্রায় রুটিন মাফিক দেখি। ফ্রান্সে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে বামপন্থীরা আর ধ্বংসলীলায় মেতে উঠেছে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষ।
ভারতবর্ষেও এই একই কম্বিনেশন কাজ করে চলেছে নিরন্তর। নতুন প্রজন্মের অনেক ক্ষোভ বিক্ষোভ আছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনেকেরই জীবিকার নিশ্চয়তা নেই। সারা পৃথিবী জুড়ে যে সংঘর্ষ চলছে তার প্রভাব প্রতিটা দেশের উপরে পড়ছে। ফ্রান্সের মতো এত উন্নত অর্থনীতির দেশও আজকে নাজেহাল।
উল্টোদিকে ভারতবর্ষের জিডিপি সমগ্র পৃথিবীর উন্নত দেশগুলির তুলনায় অনেক এগিয়ে। এত সমস্যা সত্বেও ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি অব্যাহত। ভারতবর্ষের ঐতিহ্য, ভারতবর্ষের অগ্রগতি যারা অটুট রাখতে চান না, তারা সকলেই এই ধ্বংসাত্মক আন্দোলন ঝাঁপিয়ে পড়ছে, কখনো পেপার লিক নিয়ে তো কখনো ইলেকশন কমিশন নিয়ে। এবং এই প্রক্রিয়া জারি থাকবে ভবিষ্যতেও।
তিনি বলেছেন,প্রতিনিয়ত বিচার-বিশ্লেষণ ও গবেষণা চলে কোন একটি স্পর্শকাতর বিষয় কে কালটিভেট করার যাতে অনেক মানুষের সমর্থন পাওয়া যায়। কিছু মানুষকে এককাট্টা করতে পারলেই চলবে ধ্বংসলীলা। সেটিকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে প্রশাসন যদি কোন আইন মোতাবেক দমননীতির আশ্রয় নেয়, তারপরেই তো যথেচ্ছ ধ্বংসলীলার ন্যায্যতা পেয়ে যাওয়া। সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে সেটিকে সেন্সেটাইজ করা। এই পরিচিত ফর্মুলা আর কতদিন?
ফ্রান্সে যারা এই ধ্বংসাত্মক আন্দোলন করছে এবং তারা যদি তাতে সফল হয়। অর্থাৎ রেজিম চেঞ্জ হয়, তাহলে আপনাদের কি মনে হয় ওরা নতুন ফ্রান্স গড়তে পারবে? সব সমস্যার সমাধান হবে?
পরিশেষে রাজেশ কুমার সাহা বলেন,বামপন্থীদের ছলনা দেখুন। এরা মুখে গান্ধীর অহিংসার বাণী আওড়াবে আর আন্দোলনের সময় যত লুম্পেন, ক্রিমিনালদের নামিয়ে ধ্বংসলীলা চালাবে। তাই সামনে নেহা বোড়াকে দেখে আবেগে আপ্লুত হওয়ার মানে, ভবিষ্যতে ভারতবর্ষের অস্থিরতা তৈরি পথ প্রশস্ত করা। ঠিক যেমন বাংলাদেশে হয়েছে, ঠিক যেমন ফ্রান্সে হচ্ছে।।

