এইদিন ওয়েবডেস্ক,ভাতার(পূর্ব বর্ধমান),২২ মার্চ : ২০২৬ সালের বিধানসভার ভোট আর হাতেগোনা কিছুদিন বাকি । তার আগেই পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতারের এক দাপুটে নেতা তৃণমূলে যোগ দিলেন । নবকুমার সামন্ত নামে ওই সিপিএম নেতা আজ রবিবার ভাতারে তৃণমূলের ব্লক কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শাসকদলে যোগ দেন । আর দলবদল করেই পুরোনো দলের বিরুদ্ধে একরাশ বিতৃষ্ণা প্রকাশ করে জানান যে “সিপিএম আর খেটে খাওয়া মানুষের দল নেই”৷
জানা গেছে,নবকুমার সামন্ত দীর্ঘদিন বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত । এলাকার একজন দাপুটে সিপিএম নেতা হিসাবে পরিচিত ছিলেন । ছিলেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও । সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই-য়ের ভাতার জোনাল কমিটির সম্পাদক ছিলেন নবকুমার সামন্ত। পরে তিনি জেলা কমিটির সভাপতি হন । সেই সাথে জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের কর্মী সংগঠনের রাজ্য কমিটির সম্পাদকের দায়িত্বও সামলেছেন তিনি । কিন্তু জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল বামপন্থী আদর্শ পালন করে প্রৌঢ়ত্বে হঠাৎ এই বিচ্যুতি কেন ? উত্তরে নবকুমারবাবু বলেন,”সিপিএম আর আগের সিপিএম নেই ৷ আজ খেটে খাওয়া মানুষের পাশে নেই সিপিএম । যে শ্রমিক,খেতমজুরদের স্বার্থের জন্য আমারা লড়াই করেছিলাম, আজকের সিপিএম তাদের থেকে অনেক দূরে সরে গেছে ৷”
তবে সিপিএমের ভাতার ১ নম্বর এরিয়া কমিটির সম্পাদক নজরুল হকের কথায়,”২০১১ সাল থেকেই নবকুমার সামন্ত আমাদের দল থেকে সরে যান৷ তারপর আর কোনো সম্পর্ক ছিল না । বামফ্রন্টের সরকারের সময় তিনি পদে ছিলেন ঠিকই, কিন্তু এখন দলের কোনো পদে ছিলেন না।”
তবে ভোটের ঠিক আগেই নবকুমার সামন্তর দলত্যাগ ভাতারে সিপিএমের জন্য একটা ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে৷ পাশাপাশি তার যোগদান শাসকদলকে বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল । এদিন তার যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভাতারে তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী,দলীয় প্রার্থী শান্তনু কোঁয়ার, ব্লক তৃণমূল সভাপতি বাসুদেব যশ প্রমুখ৷ তবে শুধু ওই সিপিএমের নেতাই নন,আজ ভাতার গ্রামের বাউড়িপাড়ার প্রায় ২৫ জন যুবকও তৃণমূলে যোগ দেন। পেশায় মুটিয়া ওই যুবকেরা শ্রমিক সংগঠনের হয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন বলে জানান শাসকদল নেতৃত্ব ।।
