এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,২৬ আগস্ট : বাংলাদেশে পরিকল্পিত ভাবে হিন্দু গনহত্যা চলছে ! রংপুরের পর এবারে চাঁদপুর৷ চাঁদপুর শহরে স্ত্রী ও দুই পুত্রসন্তান সহ নিখোঁজ হয়ে গেলেন হিন্দু ব্যবসায়ী । নিখোঁজ ব্যবসায়ীর নাম পিন্টু দাস। তিনি শহরের মদিনা মার্কেটের নিচের তলায় ‘এস কে শিল্পালয়’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। তাঁর সঙ্গে নিখোঁজ হয়ে গেছেন স্ত্রী রিমি, বড় ছেলে প্রিয়ম ও ছোট ছেলে রুপম দাস । আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) পিন্টু দাসের এক আত্মীয় ও চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, পিন্টু দাস পরিবার নিয়ে চাঁদপুর শহরের একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন। বিভিন্ন কারণে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি পাটোয়ারী বাড়ির এক ব্যক্তি তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছিলেন বলেও পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন। এরপর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে পিন্টু দাস নিখোঁজ হন।
তবে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, পিন্টু দাস স্বর্ণের বন্ধকি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে সেই স্বর্ণ ফেরত দিতে না পারায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসার জন্য বিভিন্ন সমিতি থেকেও ঋণ নিয়েছিলেন বলে স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্থান পরিবর্তনের পর পিন্টু দাস সর্বশেষ মদিনা মার্কেটের নিচের তলায় ‘এস কে শিল্পালয়’ পরিচালনা করছিলেন। সেখানে বন্ধক রাখা স্বর্ণের বাজারমূল্যের তুলনায় কম টাকা দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।
রঘুনাথপুরের বাসিন্দা মনসুর খানের ছেলে রাসেল খান জানান, তিনি পিন্টু দাসের কাছে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলেন। পরে ওই টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণালংকার নিতে গেলে পিন্টু দাস তাকে পরদিন আসতে বলেন। এরপরই পিন্টু দাস স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে নিখোঁজ হওয়ার খবর জানতে পারেন তিনি। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছেন বলেও জানান রাসেল।
দক্ষিণ গুণরাজদীর বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম জানান, তিনি পিন্টু দাসের কাছে ১২ আনা স্বর্ণ বন্ধক রেখেছিলেন। একই এলাকার শুভঙ্কর মজুমদারও ১০ আনা স্বর্ণ বন্ধক রাখার কথা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে মদিনা মার্কেটে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন পিন্টু দাস।
জানা গেছে, পিন্টু দাসের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। কুমিল্লা ও মুদাফফরগঞ্জ এলাকায় তার আত্মীয়স্বজন রয়েছেন।এদিকে পিন্টু দাস ও তার পরিবারের চার সদস্য সত্যিই নিখোঁজ হয়েছেন, নাকি কোনো কারণে তারা আত্মগোপনে রয়েছেন, তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার ফেরদৌস বলেন, পিন্টু দাস স্বপরিবারে আত্মগোপনে থাকলে তাকে খুঁজে বের করা কঠিন হতে পারে। এই ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের চারজন নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে নিখোঁজদের সন্ধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।।
