চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য -এর উপদেষ্টা এবং অর্থশাস্ত্রের প্রণেতা আচার্য্য চাণক্য কৌটিল্য বা বিষ্ণুগুপ্ত নামেও পরিচিত । তাঁর জন্ম খ্রিস্টপূর্ব ৩৭০ অব্দে । মৃত্যু খ্রিস্টপূর্ব ২৮৩ অব্দে । তাঁর চাণক্য নীতিতে স্ত্রীদের কথা বারবার উঠে এসেছে । জীবনসঙ্গিনী চয়ন থেকে শুরু করে স্ত্রী গুণাগুণ সম্পর্কে তিনি একাধিক উপদেশ দিয়ে গেছেন । আচার্য্য চাণক্যের ‘চাণক্য নীতি’ থেকে এমনই কিছু উপদেশ নিচে তুলে ধরা হল :
সহধর্মিণী চয়নে আচার্য্য চাণক্যের উপদেশ
বরয়েদকুলজাং প্রাজ্ঞা বিরূপামপি কন্যকাম ।
রূপশীলাং ন নীচস্য সদ্দশে কুলে ॥
বাংলা অর্থঃ- সমান সমান কুলের কন্যা বিবাহ করা ভাল। কুরূপা উত্তম কুলজাত কন্যা সর্বদা বিবাহ করা ভাল কিন্তু রূপসী নীচ কুলজাত কন্যা বর্জনীয়। নীচকুল জাত কন্যা সর্বদা নীচমনা হয়ে থাকে।
স্ত্রীলোকের দোষ গুণ
অনৃতং সাহসং মায়া মূর্খত্বমতিলোভতা।
অশৌচত্বং নিদয়ত্বং স্ত্রীনাং দোষা স্বভাবজাং ৷৷
বাংলা অর্থঃ- স্ত্রীলোকের সাতটি স্বভাবদোষ আছে—মিথ্যাবাদিতা, অতি সাহস, ছলনা, মূর্খতা, অতি লোভ, অপবিত্রতা ও নির্দয় আচরণ। সময়ভেদে স্ত্রীলোক যতটা নির্দয় হতে পারে পুরুষ ততটা নির্দয় হয় না। তাই শাস্ত্রে আছে নারীগণ রহস্যময়ী।
সংসার সুখ
যস্য পুত্র বশীভূত ভাৰ্য্যা চন্দানুগামিনী।
বিভবে যস্য সন্তুষ্ট স্তস্য স্বৰ্গ ইহৈব হি ॥
বাংলা অর্থঃ- পুত্র যার বাধ্য, পত্নী যার অনুগামিনী, যে ব্যক্তি অল্পে সন্তুষ্ট, সেই ব্যক্তি পৃথিবীতে স্বর্গসুখ ভোগ করে থাকে।
বিশ্বাসভাজন নয়
নদীনাং শস্ত্রপানীনাং নখিনাং শৃঙ্গিনাং তথা।
বিশ্বাস নৈব কৰ্ত্তব্যং স্ত্রী রাজকুলেষু চ ॥
বাংলা অর্থঃ- নখ বা শিং যুক্ত প্রাণী, রাজা বা রাজকর্মচারী, নদী, শস্ত্রধারী ও নারী— এদেরকে বিশ্বাস করা উচিত নয়।
উপযোগিতা ও স্বরূপ
জানীয়াৎ পেষণে ভৃত্যান্ বান্ধবান ব্যসনাগমে।
মিত্র চাপতকালে তু ভাৰ্য্যা চ বিভবক্ষয়ে ॥
বাংলা অর্থঃ-কার্য দ্বারা ভৃত্যের সার্থকতা প্রমাণিত হয়। দুঃখের সময়ে আত্মীয় স্বজনকে চেনা যায়, বিপদকালে বন্ধুর পরিচয় পাওয়া যায় আর ধনহীন অবস্থায় পত্নীর প্রকৃত রূপ দেখা যায়।
দুষ্টা ভাৰ্য্যা শঠং মিত্রং ভৃত্যশ্চোত্তরদায়কঃ।
সসর্পে চ গৃহে বাস মৃত্যুরেব ন সংশয় ৷
বাংলা অর্থঃ- যে গৃহে দুষ্টা ভাৰ্য্যা, কপটী বন্ধু এবং সর্বদা উত্তর দানকারী ভৃত্য বাস করে সেখানে সর্বদা মৃত্যুর আশঙ্কা বিদ্যমান থাকে।
মূর্খ শিষ্যোপদেশেন দুষ্টা স্ত্রী ভরনেন চ।
দুঃখিতে সংপ্রয়োগেন পণ্ডিতোহপ্যসীদতে ৷৷
বাংলা অর্থঃ- মূর্খ শিষ্যকে উপদেশ দান করে কোন ফল হয় না। কারণ মূর্খ উপদেশের মর্ম উপলব্ধি করতে পারে না। দুষ্টা স্ত্রীর ভরণ পোষণ করা দুঃখের ।
কি ত্যাগ কর্তব্য? এই বিষয়ক চাণক্য শ্লোক
ত্যজেদ্ধৰ্ম্ম দয়াহীনং বিদ্যা হীনং গুরু ত্যজেৎ।
ত্যজেৎক্রোধমুখী ভার্যান্নিঃ স্নেহাবান্ধবত্যজেৎ ॥
বাংলা অর্থঃ- বিদ্যাহীন গুরু, দয়াহীন ধর্ম, স্নেহহীন বন্ধু আর ক্রোধযুক্তা স্ত্রী পরিত্যাগ করা উচিত। কারণ বিদ্যাহীন গুরু শিষ্যকে সঠিক পথের সন্ধান দিতে পারে না। প্রীতিহীন বন্ধুও কোন উপকারে লাগে না। যে ধর্ম মানুষকে ধারণ করেন সেই ধর্ম যদি দয়াহীন হয়, সেই ধর্ম কোন কাজে লাগে না। প্রচণ্ড ক্রোধযুক্তা স্ত্রী সংসারে অমঙ্গল ঘটায় তার ফলে সংসারে অশান্তি ঘটে।
এছাড়া আচার্য্য চাণক্য বলে গেছেন :
স্ত্রীণাং দ্বিগুণ আহারো লজ্জা চাপি চতুর্গুণা ।
সাহসং ষড়্গুণং চৈব কামশ্চাষ্টগুণঃ স্মৃতঃ ॥
বাংলা অর্থ : পুরুষদের তুলনায় নারীদের আহার বা ক্ষুধা দ্বিগুণ। লজ্জা চার গুণ বেশি। সাহসিকতা বা মনের জোর ছয় গুণ বেশি। এবং কাম বা বাসনা (ইচ্ছা) আট গুণ বেশি।
ব্যাখ্যা:প্রাচীন শাস্ত্রে নারীর যে প্রখর তেজ, ধৈর্য এবং মানসিক শক্তির কথা বলা হয়েছে, এই শ্লোকে তারই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এটি নারীদের দুর্বলতা নয়, বরং তাদের সহজাত ক্ষমতা ও মানসিক গঠনকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
