এইদিন ওয়েবডেস্ক,মধ্যপ্রদেশ,২৬ অক্টোবর : মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র থেকে “লাভ জিহাদ”দের একটি ঘটনা সামনে এসেছে । যেখানে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে অস্বীকার করায় এক নার্সিং ছাত্রীর ওপর ছুরি দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে তার মুসলিম প্রেমিক আদনান খানের বিরুদ্ধে । ঘটনাটি ঘটেছে গোয়ালিয়রের মাধোগঞ্জ থানার অন্তর্গত তোমর কলোনি এলাকায় ৷ ছাত্রীটি অভিযোগ করেছেন যে, আদনান খান তাকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে চাপ দিয়েছেন এবং তার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে । পুলিশ আদনান খান এবং অপর এক অভিযুক্ত, সরফরাজ খানকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তদন্ত চলছে।
ছাত্রীর অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি গত তিন বছর ধরে আদনানকে চেনেন। এক বন্ধুর মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয় এবং পরে তাদের বন্ধুত্ব সম্পর্কে পরিণত হয়। তিনি জানান, প্রথম সাক্ষাতে আদনান তাকে বলেছিলেন যে সব ধর্মই সমান। তবে, তিনি আরও বলেন যে পরে আদনান তাকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার জন্য চাপ দিতে শুরু করেন। ছাত্রীটি শিবপুরী জেলার কারাইরার বাসিন্দা এবং গোয়ালিয়রে নার্সিং নিয়ে পড়াশোনা করছেন।
ছাত্রীটি পুলিশকে আরও জানায় যে, সে ধর্মান্তরিত হতে রাজি না হলে আদনান তার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেয়। সে তার দাবিতে রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে আদনান তাকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করে। ছাত্রীটি আত্মরক্ষার জন্য প্রতিরোধ করলে ছুরিটি তার গলা বিঁধে যায়, এতে তার ঘাড়ে আঘাত লাগে। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর ছাত্রীটি থানায় গিয়ে আদনান খান ও তার দুই সহযোগী সোফি খান ও সরফরাজ খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে মাধোগঞ্জ পুলিশ একটি মামলা নথিভুক্ত করে আদনান খান ও সরফরাজ খানকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে উভয় অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মাধোগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিব্যা তিওয়ারির মতে, ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ এখন হামলার বিস্তারিত বিবরণ এবং অন্য অভিযুক্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে।
ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য চাপ দেওয়া এবং তার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ফাঁস করে দেওয়ার হুমকির অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত করছে। তারা ছুরি হামলার পরিস্থিতি এবং অভিযুক্ত তিনজনের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে।তদন্তের অংশ হিসেবে, পুলিশ ছাত্রী এবং অভিযুক্তদের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া ইনস্টাগ্রামের কথোপকথন, বার্তা এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক প্রমাণ খতিয়ে দেখতে পারে। হামলায় ব্যবহৃত ছুরি এবং ঘটনা-সম্পর্কিত অন্যান্য প্রমাণও পরীক্ষা করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে যে, তদন্তকালে উদ্ঘাটিত প্রমাণ ও তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।।

