এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১২ জুন : লোকসভার তৃণমূলের মুখ্য সচেতক দাবি করে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে যে চিঠি স্পিকার ওম বিড়লার দপ্তরে জমা পড়েছিল,১৯ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের স্বাক্ষরিত সেই চিঠি অবশেষে প্রকাশ্যে এসেছে । চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, যে সায়নী ঘোষ(যাদবপুরের সাংসদ), যিনি মমতা ব্যানার্জির অনুকরণে সাদা শাড়ি ও হাওয়াই চটি পরা ধরেছিলেন,তার স্বাক্ষরও রয়েছে এই চিঠিতে৷এছাড়া, রয়েছে ঘাটালের সাংসদ- অভিনেতা দীপক অধিকারী ওরফে দেবের স্বাক্ষরও । বাকি স্বাক্ষরকারী সাংসদরা হলেন : কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়,বাপি হালদার,ডাঃ শর্মিলা সরকার,প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়,জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, অসিত কুমার মাল, অরূপ চক্রবর্তী,রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়,খলিলুর রহমান,আবু তাহের খান, ইউসুফ পাঠান,মিতালি বাগ,মালা রায়,কালীপদ সোরেন, জুন মালিয়া এবং পার্থ ভৌমিক ।
জানা গেছে,গত ৯ জুন দিল্লির ৯ মতিলাল নেহেরু মার্গে কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে আয়োজিত বৈঠকে প্রথম দফায় মোট ১৪ জন সাংসদ সই করেছিলেন। পরবর্তীতে মালা রায়, সায়নী ঘোষ, ইউসুফ পাঠান, মিতালি বাগ এবং রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বাক্ষর করেন।
গত লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ২৯টি আসন পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তার মধ্যে বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ হাজি নুরুল ইসলাম মারা গেছেন। ফলে বাকি ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ১৯ জনই পৃথক ব্লক গঠনের দাবিতে স্বাক্ষর করে দিয়েছেন। অর্থাৎ, মমতা ব্যানার্জির হাতে রইল মাত্র ৯ জন সাংসদ। এদিকে আইন অনুযায়ী, দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন থাকলে দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় আসবে না তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী । এক্ষেত্রে কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের ব্লক সেই লক্ষ্যমাত্রা ইতিমধ্যেই ছুঁয়ে ফেলেছেন। খবর আসছে যে মমতা পন্থী ৯ জনের মধ্যেও অনেকেই নাকি বেসুরো । ফলে শীঘ্রই তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী যে দলে ভারী হতে চলেছে এটা প্রায় নিশ্চিত ।
জানা যাচ্ছে, তৃণমূলের প্রায় ২০ জন সাংসদ আগামী সোমবার লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করবেন। এনডিএকে সরকারিভাবে সমর্থন ও তাঁদের বসার জায়গা আলাদা করার জন্য পুনরায় একটি চিঠি দেওয়া হবে। এই লক্ষ্যে আগামী রবিবার রাতেই দিল্লি পৌঁছে যাচ্ছেন বিক্ষুব্ধ সাংসদরা। ওই দিন রাতেই দিল্লিতে একটি বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে বিদ্রোহী শিবিরের পরবর্তী রণকৌশল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে খবর ।।
