এইদিন ওয়েবডেস্ক,শিলচর,০৭ নভেম্বর : স্বামী ও দুই নাবালক সন্তানকে ফেলে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম প্রেমিককে বিয়ে করেছে মেয়ে৷ ক্ষোভে দুঃখে জীবিত মেয়ের পিন্ডদান ও শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন করলেন বাবা৷ ঘটনাটি ঘটেছে আসামের শিলচরে । শুক্রবার শিলচরের মালোগ্রামের একটি মন্দিরে জীবিত মেয়ে বৈশালী শর্মার শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সম্পন্ন করেছেন পেশায় পুরোহিত বাবা বিনয় শর্মা । ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পিণ্ডদান ও শ্রাদ্ধশান্তির আয়োজনের পাশাপাশি তাঁকে পরিবার ও সমাজ থেকে বহিঃষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিনয়বাবু ।
জানা গেছে,বিনয় শর্মার বাড়ি আসামের বরাক উপত্যকার হাইলাকান্দি জেলায় । বিনয়বাবু পেশায় যজমান । পেশায় তাগিদে তিনি শিলচরের মালোগ্রামে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন । তার তিন ছেলে ও ২ মেয়ে । বড় মেয়ে বৈশালির বিবাহিতা৷ প্রায় ১২ বছর আগে রাজস্থানের সীকর (বা শিখর) জেলায় তার বিয়ে হয়েছিল । দুই সন্তানও রয়েছে তার ৷ কিন্তু দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দিতে বাপের বাড়ি এসে তিনি আর শ্বশুরবাড়ি ফিরে যাননি ।
বিনয়বাবু বলেন,’জামাই বারবার তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে এসেছিল৷ কিন্তু মেয়ে রাজস্থানে ফিরতে অস্বীকার করে ৷’ তিনি জানান,প্রথম সন্তানের জন্ম দেওয়া পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিল । বড় নাতির অন্নপ্রাশনের আয়োজনও তিনি করেন । কিন্তু দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর সাম্প্রতিক সময়ে মেয়ে হঠাৎ হঠাৎ বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যেত । ফের ৫-৭ দিন পর ফিরে আসত । কয়েকবার তাকে নিয়ে আসতেও হয়েছে । কিন্তু সম্প্রতি ফের সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়৷ মাসখানেক পর সন্তানদের খোঁজ নেওয়ার জন্য ফোন করে । তখন মেয়ে জানায় সে পশ্চিমবঙ্গে আছে । দিন কয়েক আগে তারা জানতে পারেন যে তার মেয়ে শিলচরে রয়েছে এবং ধর্মান্তরিত হয়ে একজন মুসলিমকে বিয়ে করেছে ।
বিনয় শর্মা বলেন,’এরপর কি করে মেয়েকে মেনে নেব? তাকে যদি বাড়িতে ঢুকতে দিই তাহলে আমি সমাজ থেকে বিচ্যুত হব । মেয়ের জন্য আমার সব কিছু চলে যাবে । তাই মেয়ে মারা গেছে মনে করে তার পিন্ডদান সহ শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করলাম ।’ তবে তিনি এটাও জানিয়েছেন যে, মেয়ের দুই নাবালক সন্তানকে কিছুতেই তার হাতে তুলে দেব না । তিনি বলেন,’আমি তাদের মানুষ করব । আমার অবর্তমানে আমার ছেলেরা তাদের দায়িত্ব নেবে । কিন্তু সন্তানদের অজুহাতে কোনো ভাবেই আর মেয়েকে আমার বাড়িতে জায়গা দেব না । হিন্দু সমাজেও তার কোনো জায়গা হবে না ।।

