প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,০৫ নভেম্বর : বিজেপির গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর এলাকা । বাড়িতে চড়াও হয়ে মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে । গুরুতর আহত হয়েছেন বিজেপির এক মহিলা নেত্রী ও অপর গোষ্ঠীর ৩ জন । আহত নেত্রীর নাম দেবীকা দেবনাথ । তিনি জামালপুর-১ মন্ডলের সভানেত্রী৷ বুধবার এই ঘটনার পর ওইদিন রাতেই দু’পক্ষই জামালপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন । সেই অভিযোগগুলির ভিত্তিতে পুলিশ দু’পক্ষ মিলে পাঁচ জনকে পাকড়াও করে । বাকিদের সন্ধান চালানোর পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ । এদিকে বিজেপির এই সংঘর্ষে কংগ্রেসের নাম জড়িয়েছে ।
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই জামালপুরে দলের দু’গোষ্ঠীর বিবাদে বিব্রত বিজেপির জেলা নেতৃত্ব । মূলত জামালপুর ১ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি প্রধান চন্দ্র পাল এবং ওই মণ্ডলের বিজেপির সহ-সভাপতি সুশান্ত মণ্ডলের অনুগামীদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে । একই মণ্ডলের মণ্ডলের মহিলা মোর্চার সভানেত্রী দেবীকা দেবনাথ তাঁর স্বামী সুশান্ত মণ্ডলের পক্ষের সঙ্গে রয়েছেন। মাঝেমধ্যেই ছোটখাটো ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছিল । বুধবার তা চরম আকার ধারন করে । অবশ্য এতে কংগ্রেসেরও নাম জড়িয়েছে ।
জানা গেছে,জেলা কংগ্রেস নেতা বুদ্ধদের ঘোষের বাড়ি জামালপুর থানার রুদা গ্রামে । বুধবার যুব কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জামালপুরের পারাতল ১ নম্বর অঞ্চলের হিরণ্যগ্রামে একটি মিটিং করার কথা ছিল । কিন্তু সেটি বানচাল হয়ে যায় । বুদ্ধদের কথায়, বিজেপির গুণ্ডা বাহিনী জামালপুর কো- অপারেটিভ সোসাইটির কাছে থাকা আমার দোকানে দলবল নিয়ে হামলা করে । হামলায় নেতৃত্ব দেয় স্থানীয় বিজেপি নেতা মহেশ হাত এবং ইন্দ্রজিত বসু। তারা আমার দোকানে ভাঙচুর চালায় এবং জোর করে আমার দোকান বন্ধ করিয়ে দেয় । আমি যদি আর দোকান খুলি তাহলে আমাকে সহ আমার দোকান পুড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি পর্যন্ত ওই বিজেপি নেতারা হুশিয়ারি দিয়েছে। আমি এখন প্রাণ সংশয়ে ভুগছি ।’
জানা যায়,কংগ্রেসের সভার পাল্টা হিসেবে বুধবার বিকেলে বাইক মিছিল ডাকেন প্রধান চন্দ্র মণ্ডল৷ পাড়াতল থেকে উত্তর মোহনপুর যাওয়ার পথে ওই বাইক মিছিল থেকে সুশান্ত মণ্ডল ও দেবীকা দেবনাথের বাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ । চলে মারধোর ও ভাঙচুর। গ্রামের আরও কয়েকটি বাড়িতেও হামলার অভিযোগ উঠেছে প্রধানচন্দ্র পালের অনুগামীদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় জখম হন সুশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী দেবিকা দেবনাথ। তাঁদের অভিযোগ,হামলা মারধোরে গোটা ঘটনায় মণ্ডল সভাপতি প্রধান চন্দ্র পাল নেতৃত্ব দিয়েছেন।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান চন্দ্র পাল দাবি করেছেন,’বিজেপির বিরুদ্ধে যুব কংগ্রেসকে সভা করতে মদত যোগাচ্ছিলেন সুশান্ত ও দেবীকা। তাঁর প্রতিবাদে তিনি তাঁর অনুগামীদের নিয়ে বিকালে একটি বাইক মিছিল বার করেন। ওই বাইক মিছিল জামালপুরের উত্তর মোহনপুর গ্রামের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল।তখন সুশান্ত ও দেবীকা তাঁদের লোকজন নিয়ে বাইক মিছিলের উপর চড়াও হয়ে তাঁর অনুগামী বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালায়। সেই হামলায় চৈতালি হাত সহ তাঁর অনুগামী বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী জখম হয়েছেন ।’ প্রধানচন্দ্র পাল আরও দাবি করেছেন, ’জামালপুর ব্লকের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি মেহেমুদ খাঁণ এবং কংগ্রেসের সঙ্গে গোপনেো শলা পরামর্শ করে সুশান্ত মণ্ডল ও দেবীকা এখন বিজেপির ক্ষতি করার চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এই চক্রান্ত তিনি রুখবেনই বলে জানান।
সুশান্ত মণ্ডল ও দেবীকা দেবনাথ অবশ্য প্রধান চন্দ্র পালের আনা সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছন।
পাল্টা তাঁরা দাবি করেছেন,“একেবারে পরিকল্পনা করে প্রধানচন্দ্র পাল এদিন তাঁদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে।এমনকি উত্তর মোহনপুর গ্রাম নিবাসী
তাঁদের তিন চারজন অনুগামীর বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছে। ওইসব বাড়ির মহিলা থেকে শুরু করে বৃদ্ধা ,সাবাইকে মারধোর করা হয়েছে। সুশান্ত মণ্ডল আরো অভিযোগ করেছেন,“বাঁশ,লাঠি শাবল উইকেট নিয়ে তাঁর বাড়ির ভিতরে ঢুকে প্রধানচদ্র পাল ও তাঁর দল বল ভাঙচুর চালিয়েছে । বাড়িতে থাকা টাকায় পয়সা ও অন্য মূল্যবান সামগ্রী ওরা লুট করে নিয়ে গিয়েছে ।এমনকি তাঁর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার জামালপুর হাসপাতালের বেডে বসে দেবীকা দেবনাথ বলেন,“প্রধানচন্দ্র পাল
,খোকন ঢালি, মহেশ হাত এবঃ আমাদের পাড়ার মহাদেব তাদের দেড় শতাধিক বিজেপি কর্মীকে নিয়ে বুধবার বিকালে আমার বাড়িতে চড়াও হয়। বাড়ি ভাঙচুর করে।তার প্রতিবাদ আমি করলে তারা উইকেট ও গাছের ডাল দিয়ে আমাকে বাপক মার মারে।উইকেট দিয়ে মেরে আমার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। আমি রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যাওয়ার পরেও ওরা নির্মমভাবে আমাকে পিটিয়ে গিয়েছে।তাঁকে প্রাণে মেরে দেওয়াই প্রধানচন্দ্র পাল ও তার দলবলের উদ্দেশ্য ছিল বলে দেবীকা দেবনাথ দাবি করেছেন।
এদিক বিজেপির এই গোষ্ঠী সংঘর্ষ নিয়ে কটাক্ষ করেছেন মমতাপন্থী তৃণমূল নেতা দেবু টুডু৷ তিনি বলেন,’বিজেপির দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ ও রক্তারক্তি ঘটনা দেখে জামালপুরের সাধারণ মানুষ ভীত সন্ত্রস্ত । এসবের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে গর্জে উঠতে হবে।’
