এইদিন ওয়েবডেস্ক,উত্তর ২৪ পরগণা,০৫ নভেম্বর : উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর মহকুমার ঐতিহ্যবাহী শহর নৈহাটির কারিগর পাড়ার একটি বহু পুরনো কালীপূজা ঘিরে বিতর্ক দানা বেঁধেছে । অভিযোগ উঠেছে যে,মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ওই এলাকায় ওই ঐতিহ্যবাহী পূজাটি সিপিএম ও তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালের প্রায় ৫০ বছর ধরে বন্ধ রাখা হয়েছিল । পালাবদলের পর এবারে কালীপূজার প্রস্তুতি নিতেই কংগ্রেসের ট্রেড ইউনিয়ন সভাপতি মহম্মদ আমিন বাধা দেয় বলে অভিযোগ । এনিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হলে গত পরশু নৈহাটির বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়,বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস এবং সংখ্যালঘু বিজেপি নেতা আখতার আলি সেখানে উপস্থিত হন। বিজেপির তরফে কংগ্রেস নেতার কাছে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান।
বিষয়টি নিয়ে বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাস নিজের ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ছোটবেলা থেকে জেনে এসেছেন তো ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ? শুনেছেন তো আমাদের সংবিধানে একদম শুরুতেই লেখা আছে একথা…একবার আজ নৈহাটির কারিগর পাড়ায় এলে বুঝতেন, কেন ধর্মনিরপেক্ষতার তকমাটা ততোক্ষণই শুনতে খুব ভালোলাগে যতক্ষণ হিন্দুরা সংখ্যায় বেশি। কলকাতা থেকে খুব দূরে নয় নৈহাটি। আবার এখন নৈহাটি বড় মা-র নামে কালীক্ষেত্র-ও হয়ে উঠছে ধীরে ধীরে। এই নৈহাটির একটা পাড়াতে মাত্র দুই ঘর হিন্দুর বসবাস। এই মুস লিম অধ্যুষিত পাড়ায় এই সংখ্যালঘু হিন্দুদের পুজোর অধিকার ছিলো না বছরের পর বছর।’
তিনি আরও লিখেছেন,’আজ আমি আর নৈহাটির বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় সেখানে গিয়ে এই পরিবারগুলোকে কালীপুজো করার সাহস দিলাম।
দা ঙ্গার হুমকি এলো! ফেসবুক লোকাল মিডিয়ার দেখানো নিউজ ডিলিট করলো!’ধর্মনিরপেক্ষ’ ভারতে শুধুমাত্র নিজের ধর্মবিশ্বাসে মাতৃ আরাধনা করতে পারার সাহসটুকু পাওয়ার জন্য কতোকাল অপেক্ষা করেছে এই পরিবারগুলো! কিন্তু এবার এখানে কালীপুজো হবে…। হবেই।’
প্রসঙ্গত,পবিত্র ভাগিরথী নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক শহর নৈহাটির আধ্যাত্মিক গুরুত্ব অপরিসীম । এখানকার সুপ্রাচীন “বড়মা”-র পূজো ঘিরে অসংখ্য শ্রদ্ধালুর জমায়েত হয় । দেবীকে অত্যন্ত জাগ্রত বলে মনে করা হয় । নৈহাটির আধ্যাত্মিকতার মূল সুরটি অত্যন্ত উদার—“ধর্ম হোক যার যার, বড়মা সবার”। জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা অর্থনৈতিক বৈষম্য ভুলে সব স্তরের মানুষ মায়ের দরবারে আসেন। এই সর্বধর্মসমন্বয় ও মানবিক কল্যাণসাধনই এখানকার আধ্যাত্মিকতার প্রধান শক্তি৷ এই পূজোর পাশাপাশি আরও অনেক পূজার প্রচলন ছিল । তার মধ্যে অন্যতম হল নৈহাটির কারিগরপাড়ার কালীপূজা । এক সময়ে কালীপূজা ঘিরে এখানে প্রচুর শ্রদ্ধালুর সমাগম হত ।
জানা গেছে, কালক্রমে নৈহাটির কারিগরপাড়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যায় । মসজিদ নির্মান হয় । বর্তমানে পাড়াতে মাত্র দুই ঘরে হিন্দুর বসবাস। বিগত প্রায় অর্ধ শতক ধরে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বাধার কারনে এই পূজা বন্ধ রাখতে হয়েছিল বলে অভিযোগ । “কোনো পূজোয় বাধা দেওয়া যাবে না”- মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই অভয়বাণীর পরেই এবারে সেখানে কালীপূজার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু কংগ্রেসের ট্রেড ইউনিয়ন সভাপতি মহম্মদ আমিন পূজোয় বাধা দিচ্ছলেন বলে অভিযোগ।
বুধবার রাতে নৈহাটির কারিগরপাড়ায় হাজির হয়েছিলেন নৈহাটির বিজেপি বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও বিজপুরের বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাস। ধমকের সুরে বিজপুর বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাস বলেন,’সেক্যুলার দেশে যেখানে খুশি মসজিদ গড়ে উঠতে পারলে মন্দিরও গড়ে উঠতে পারে। ভুলেও কেউ যদি মন্দির ভাঙার চেষ্টা করে তাহলে তার পা ভেঙে দেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘মহম্মদ আমিন প্রায়ই উসকানিমুলক কথা বলেন বলে শুনেছি । এর বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে ।’
বিজেপির সংখ্যালঘু দলের নেতা আখতার আলী জানিয়েছেন,’এটা গনতান্ত্রিক দেশ । এখানে ধর্মাচরণে বাধা দেওয়া যাবে না । পুজো হবেই, আমি দাঁড়িয়ে থেকে পুজোর আয়োজন করব।’।
