এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,০৫ নভেম্বর : প্রতিবেদন অনুযায়ী, মক্কা ডিফেন্স প্যাক বা মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে ইয়েমেন যুদ্ধে মোতায়েন করা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ৬০০ জন নারী সেনার মধ্যে ১২৫ জনকে দেশে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। কিন্তু চাঞ্চল্যকর বিষয় হল যে,ওই সমস্ত পাকিস্তানি নারী সেনাকর্মীরা প্রত্যেকেই গর্ভবতী । গত ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে, সৌদি সেনাদের দ্বারা নিপীড়নের শিকার হওয়া ওইসব পাকিস্তানি নারী সেনা গর্ভবতী হয়ে পড়েছেন। তবে পাকিস্তানি বা সৌদি কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি জারি করেনি ।
গত ৭ আগস্ট মুসলিমদের পবিত্র নগরী মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুর্কির মধ্যে ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষরিত হয়, যার অধীনে যেকোনো এক সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কৌশলগত ও রাজনৈতিক কমিটির বৈঠকের মাধ্যমে এই প্রতিরক্ষা জোটের কার্যক্রম শুরু হয়। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেছেন যে, সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের বাহিনীগুলো আগে থেকেই সৌদি আরবে বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের সৈন্যরা বহু দশক ধরে বিভিন্ন সক্ষমতা ও ক্ষেত্রে সৌদি আরবে দায়িত্ব পালন করে আসছে।
তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, আঙ্কারা এই চুক্তিকে একটি প্রতিরক্ষামূলক চুক্তি হিসেবে দেখছে। ইয়েমেনের হুথি মিলিশিয়াদের আক্রমণ মোকাবিলায় সৌদি আরবকে আকাশ প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি তুরস্ক মূল্যায়ন করছে। এছাড়া ন্যাটোতে দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর অধিকারী তুরস্ক লোহিত সাগরে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে। পাকিস্তান অতীতেও সৌদি আরবকে এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন স্কোয়াড্রন, এইচকিউ-৯ মিসাইল সিস্টেম এবং জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান দিয়ে সামরিক সহায়তা প্রদান করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোয় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। কিন্তু এতে একতরফা ক্ষতির মুখে পড়ছে পাকিস্তান । কারন সৌদি আরবে গিয়ে পাকিস্তানি নারী সেনাকর্মীদের নিজেদের সম্ভ্রম বাঁচানোই কঠিন হয়ে পড়েছে ।।
