এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,০১ নভেম্বর : বাংলাদেশের ইসলামী বক্তা ও ৩১৩ প্রোপার্টিজের চেয়ারম্যান মাওলানা হাবিবুর রহমান মিসবাহর একাধিক বিয়ের খবর সামনে এসেছে । একজন রোহিঙ্গা নারী মিসবাহর ১০ স্ত্রীর মধ্যে নিজেকে ষষ্ঠ স্ত্রী দাবি করেছেন । মেহের আফরিন নামে ওই রোহিঙ্গা নারীর অভিযোগ, বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাসে তাকে রোহিঙ্গা শিবির থেকে বের করে আনা হয়। পরে বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি এবং জোরপূর্বক গর্ভপাত করায় মাওলানা হাবিবুর রহমান মিসবাহ ।
মেহেরের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২০ এপ্রিল ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে বড় মাদরাসা-সংলগ্ন একটি স্টিল ভবনের পঞ্চম তলায় মিসবাহর ভাড়া ঘরে তারিকুল ও আল আমিন নামের দুই ব্যক্তির উপস্থিতিতে তাদের মৌখিক বিয়ে হয়। তবে কোনো কাবিননামা করা হয়নি।
অনলাইন সংবাদমাধ্যম ফেস দ্য পিপল-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব অভিযোগের পাশাপাশি অডিও-ভিডিও, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেহের আফরিন ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে মাওলানা হাবিবুর রহমান মিসবাহর সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
মেহেরের দাবি, শুরুতে তাকে দ্বিতীয় স্ত্রী করার কথা বলেছিলেন মিসবাহ। তবে পরে তিনি জানতে পারেন, মিসবাহর স্ত্রীর সংখ্যা প্রায় ১০ জন। মেহেরের অভিযোগ, বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট তৈরি এবং সৌদি আরবে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে তাকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে বের করে আনা হয়। পরে মিসবাহ তাকে একটি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দেন। ওই পরিচয়পত্র ব্যবহার করে পাসপোর্টের জন্যও আবেদন করা হয়েছিল বলে দাবি তার।
ফেস দ্য পিপল-এর প্রতিবেদনে এ সম্পর্কিত আর্থিক লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৭ এপ্রিল মিসবাহর ব্যক্তিগত বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে মেহেরের কাছে প্রথমে ৫০ হাজার এবং পরে আরও ৩০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। বাড়ি ভাড়া ও আনুষঙ্গিক খরচের জন্য এসব টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে জানান মেহের।
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে মাওলানা মিসবাহ জানান, রোহিঙ্গা নারীকে তিনি চেনেন না। কোনো প্রমাণ বা নথি ছাড়াই তাকে হেনস্তা করা হচ্ছে। এর পেছনে রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক প্রতিহিংসা থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।।

