এইদিন ওয়েবডেস্ক,উত্তর ২৪ পরগণা,২৭ অক্টোবর : বাংলাদেশে এমবিবিএস পড়তে গিয়ে এক মুসলিম যুবকের সঙ্গে প্রেম ও বিয়ে । কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই প্রেমই এখন অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বারাসতের (Barasat) বাসিন্দা অমৃতা দত্ত চৌধুরীর । এক নাবালক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে এখন বাপের বাড়িতে রয়েছেন তিনি । কিন্তু সেখানেও বাংলাদেশি স্বামী এসে অশান্তি করছে বলে অভিযোগ ওই মহিলার ৷ এখন অমৃতা দত্ত চৌধুরী চাইছেন পুলিশ যাতে তাকে স্বামীর কবল থেকে মুক্ত হতে পারেন তার ব্যবস্থা করুক । তার কথায়,’আমার স্বামী চাইছে সন্তানদের বাংলাদেশে নিয়ে গিয়ে তার ধর্ম অনুসারে বড় করবে । কিন্তু আমি চাই আমার হিন্দু রীতি অনুযায়ী মানুষ হোক আমার সন্তান ।’
আজ মঙ্গলবার বারাসতের বাসিন্দা অমৃতা দত্ত চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন,বাংলাদেশে MBBS পড়তে গিয়ে পরিচয় ফেসবুকে আব্দুল ওয়াকিলের সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেম হয় । পরে তারা সেখানে বিয়ে করেন । ২০২৩ সালে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে ভারতে ফিরে আসেন তিনি । ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর বারাসত হাসপাতালের তার এক পুত্র সন্তান জন্ম হয় । এরপর ছেলেকে দেখার নাম করে পাসপোর্ট ভিসা করে বারাসতে চলে আসেন তার স্বামী আব্দুল ওয়াকিল । বাবার বাড়িতেই থাকছিলেন তার স্বামী । ইতিমধ্যে গত বছর তার আরও এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয় ।
অমৃতার বক্তব্য, প্রথম কয়েক মাস তার স্বামী ভালো মানুষের মতো আচরণ করলেও পরবর্তী সময়ে তার অত্যাচার শুরু হয় ।বারবার দুই সন্তানকে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তিনি। অমৃতার দাবি, সন্তানদের বাংলাদেশে নিয়ে গিয়ে নিজের ধর্ম অনুযায়ী বড় করতে চান তাঁর স্বামী। কিন্তু এই প্রস্তাবে আপত্তি জানালেই শুরু হয় অশান্তি। প্রতিবাদ করলেই মারধর করা হয় এবং বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতিতে গোটা পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
অমৃতা জানিয়েছেন, এর আগেও তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে তাঁর অভিযোগ, পুলিশ বারবার দু’জনকে মিলেমিশে থাকার পরামর্শ দিচ্ছে এবং ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, আমি চাইছি ওর সাথে ছাড়াছাড়ি করে দুই সন্তান নিয়ে এখানে থাকতে এবং আমার সন্তানদের হিন্দু রীতি অনুযায়ী মানুষ করতে । তবে আমার স্বামী আমাদের বাংলাদেশে নিয়ে যেতে চাইছেন । কিন্তু আমি যেতে রাজি নই।’ তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগীতার অভিযোগ তুলেছেন । এদিকে বিভিন্ন চ্যানেলের খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হলে কমেন্ট সেকশনে সিংহভাগ মানুষকেই বারাসতের ওই মহিলাকে সমর্থন করতে দেখা যায়নি ।।
