এইদিন ওয়েবডেস্ক,ভাতার(পূর্ব বর্ধমান),২৭ অক্টোবর : পাঁচ ভাইয়ের পরিবারে এতদিন কোনো পুত্রসন্তান ছিল না ৷ তাই বংশ রক্ষা কিভাবে হবে, এনিয়ে চিন্তিত ছিলেন পরিবারের বয়ঃজ্যেষ্ঠরা । অবশেষে দীর্ঘ প্রায় ৩৩ বছর পর বংশে পুত্রসন্তান এসেছে । তাও আবার যমজ । তাই এই দ্বিগুণ আনন্দকে নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে গ্রামবাসীদের সঙ্গে ভাগ করে নিল পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার থানার রামচন্দ্রপুর গ্রামের ঘোষ পরিবার । আজ মঙ্গলবার দুই সদ্যোজাতকে ব্যান্ডপার্টি বাজিয়ে বাড়িতে আনা হল । গ্রামবাসীদের মধ্যে বিলি করা হল মিষ্টি।
রামচন্দ্রপুর গ্রামের ঘোষ পরিবারের পাঁচ ভাই কৃষিজীবী । তাদের ছেলেদের বিয়ে হয়ে গেছে । কিন্তু সবাই নাতনি । পাঁচ নাতনি রয়েছে ঘোষ পরিবারে । কিন্তু কোনো নাতি ছিল না ৷ পরিবারের বয়ঃজ্যেষ্ঠ সদস্য সুশীল ঘোষ বলেন, ‘আমরা পাঁচ ভাই। সকলেরই মেয়ে হয়েছিল। কিন্তু কোনো পুত্রসন্তান না হওয়ায় বংশ রক্ষা নিয়ে আমরা চিন্তিত ছিলাম । অবশেষে প্রায় ৩৩ বছর পর বংশে পুত্রসন্তান এল। তার উপর যমজ! স্বভাবতই আমরা খুব আনন্দিত আজ ।’
জানা গেছে,সুশীল ঘোষের ভাই কৃষ্ণপদ ঘোষের ছেলে অভিষেকের স্ত্রী অনিতা সম্প্রতি অন্তঃসত্ত্বা হন । প্রসবের জন্য দিন চারেক আগে বর্ধমানের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছিল তাঁকে । সেখানেই যমজ পুত্রসন্তানের জন্ম দেন তিনি । তারপর থেকেই ঘোষ পরিবারে খুশির আবহ । আজ মঙ্গলবার ছুটি পাওয়ার পর মা ও দুই সন্তানকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয় । তাই দুই সদ্যোজাত ও তাদের মা’কে স্বাগত জানাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিল পরিবারটি ।
বাড়িও সাজানো হয়েছিল ফুল ও বেলুনে। গ্রামের প্রবেশপথেই অপেক্ষা করছিল ব্যান্ডপার্টি। ফুল দিয়ে সাজানো চারচাকার গাড়িতে চড়ে অনিতাদেবী দুই সদ্যোজাত সন্তানকে আসতেই ব্যান্ডপার্টির বাজনা শুরু হয় । গ্রামের রাস্তায় গাড়ির আগে আগে বাজনা বাজিয়ে হেঁটে যায় ব্যান্ডপার্টির দল । তার সঙ্গে নাচতে নাচতে যায় পরিবারের ছোটরা । টোটোয় চাপানো মিষ্টি বিলি করা হয় পাড়ায় পাড়ায়। জানা গেছে, দুই খুদের নাম রাখা হয়েছে অভিনব ও অভিরাজ ।।

