এইদিন ওয়েবডেস্ক,দক্ষিণ দিনাজপুর,২৩ অক্টোবর : পরকীয়ার জেরে স্বামীকে খুনের অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে ৷ ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বংশীহারিতে । মৃতের নাম বিকাশ রায় (৩৪) । বংশীহারী থানার এলাহাবাদ অঞ্চলের করই কলোনির দক্ষিণপাড়ায় তার বাড়ি । বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ঘরের মধ্যেই ওই যুবকের রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ । স্বামীকে খুনের অভিযোগে,মৃতের স্ত্রী শিউলী রায়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ । আজ শুক্রবার ঘাতক স্ত্রী শিউলীকে আদালতে পেশ করা হয় । আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,’আমি খুন করিনি । শুধু হাতে কামড়ে দিয়েছিলাম ।’ তবে কে খুন করল, তার জবাব দেননি তিনি । এদিকে মহিলার পরকীয়া প্রেমিক পেশায় টোটোচালক অনুপ দাস চম্পট দিয়েছে । পুলিশ তাকে খুঁজছে ।
জানা গেছে,বংশীহারি থানার এলাহাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের কড়ই কলোনির দক্ষিণপাড়াযর বাসিন্দা মৃত বিকাশ রায় পেশায় পরিযায়ী নির্মাণ শ্রমিক । কলকাতায় শাটারিংয়ের কাজ করতেন । কর্মসূত্রে অধিকাংশ সময় তিনি কলকাতাতেই থাকতেন । এদিকে স্বামীর অনুপস্থিতে একই এলাকার বাসিন্দা টোটোচালক অনুপ দাসের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন মৃতের স্ত্রী শিউলী। স্থানীয় মহিলা বিচিত্রা মিস্ত্রীর কথায়,’তাদের দু’জনের সম্পর্কের কথা এলাকার সকলেই জানত । শিউলীকে প্রায়ই নিজের টোটোয় চাপিয়ে ঘুরতে যেত অনুপ । তবে বৃহস্পতিবার রাতে ঠিক কি হয়েছিল আমার জানা নেই । কারন আমাদের বাড়ি ওদের বাড়ি থেকে একটু দূরে ।
স্থানীয় সূত্রে খবর,বিকাশ রায় না থাকার সুযোগকে প্রায়ই তাদের বাড়িতে যেত প্রতিবেশী যুবক অনুপ দাস । বিষয়টি এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে কানাকানি হত । সম্প্রতি স্ত্রীর পরকীয়ার কথা বিকাশবাবুর কানে যায় । দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিনি বাড়ি ফিরে আসার পর তাদের মধ্যে এনিয়ে তুমুল অশান্তি শুরু হয় । মৃতের জেঠতুতো দাদা রোহিত রায় বলেন,’বুধবার রাতেও ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়াঝাটি হয়েছিল । পরের দিন সকালে ভাইকে নিজের ঘরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ।’
বৃহস্পতিবার সকালে বিকাশ ও শিউলি কেউই ঘর থেকে বেরোয়নি। দীর্ঘক্ষণ পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করলে এক পর্যায়ে শিউলি দরজা খোলেন। এরপরই দেখা যায়, মেঝেয় পড়ে বিকাশের রক্তাক্ত দেহ। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় বংশীহারি থানায়। পুলিশ গিয়ে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। পরে মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে শিউলিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোহিত রায়ের অভিযোগ, ভাইকে পিটিয়ে ও মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করে খুন করা হয়েছে । যদিও শিউলি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন,’নতুন ফোন কেনা নিয়ে ঝগড়া হয়েছিল । সেই সময় আমি স্বামীর হাতে কামড়ে দিই । খুনের ব্যাপারে আমি কিছু জানিন না।’।

