প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,২০ অক্টোবর : কলকাতার চোরবাগানে দুর্গা পুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট
হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার মাধবডিহি থানার বীরপুর গ্রামের মা টগর বেজ(৪২) এবং ছেলে সন্দীপ বেজ (১৩)। আজ মঙ্গলবার মহানবমীর দিন মৃতদের পরিবারগুলিকে সমবেদনা জানাতে জেলার জেলায় ঘুরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । প্রথমেই তিনি আসেন মাধবডিহি থানার বীরপুর গ্রামে । মৃতদের বাড়িতে পৌঁছে প্রথমে তিনি মৃতদের ছবিতে ফুলমালা পরিয়ে শ্রদ্ধা জানান । মণ্ডপে পদপিষ্ট হেয়েও ভাগ্যের জোরে প্রাণে বেঁচে যাওয়া টগর বেজের মেয়ে আগমনী এবং টগরের স্বামী সঞ্জয় বেজকে পাশে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শোক জ্ঞাপন করেন।প্রায় ১৫ মিনিট ধরে তাঁদের মধ্যে কথা হয়। ক্ষতিপূরণ হিসাবে রাজ্য সরকারের তরফে সঞ্জয় বেজের হাতে ২৫ লক্ষ টাকা করে ৫০ লক্ষ টাকা চেক তুলে দেওয়া হয় । সেই সময় আগমনী কেঁদে ফেললে মুখ্যমন্ত্রী তার চোখ মুছে দিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। মৃত টগরের মেয়েকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ।
শুভেন্দু অধিকারী আরো বলেন, ‘যাঁরা চলে গেছেন, তাঁদের তো ফিরিয়ে দিতে পারব না। কিন্তু তার পরের দায়িত্বটা তো পালন করতে হবে।এটা আমাদের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। অন্যজন করেনি বলে আমি করব না এটা হতে পারে না।’ একই সঙ্গে পূর্বতন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালে কলকাতায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনা এবং দার্জিলিংয়ের নাগরাকাটায় হড়পা বানে বহু মানুষের মৃত্যুর পরেও ডাণ্ডিয়া ও কার্নিভাল হয়েছিল। আগের সরকারের সঙ্গে আমাদের ফারাকটা লোকে দেখতে পাচ্ছে।’
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বেলা বারোটার কিছু সময় আগে মাধবডিহির বীরপুর গ্রামে পৌছান। তিনি রায়নার বিধায়ক সভাষ পাত্র,রাজের প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র এবং জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়ালকে সঙ্গে নিয়ে শোকার্ত বেজ বাড়িতে যান । শোকার্ত পরিবারের কে সমবেদনা জানিয়ে বাইরে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন,সমবেদনা জানাতে এবং পাশে থাকার বার্তা দিতে আমি আজ এই পরিবারের কাছে এসেছি। ২৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায্য দিয়ে যাচ্ছি।পরিবারের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করবো। তার জন্য মাস খানেক সময় লাগবে। এর আগে এমন ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা কেউ করেনি। চোরবাগানের দুর্গা পুজো মণ্ডপে হওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,’মাইকের অ্যানাউসমেন্টই প্যানিক করে দিয়েছিল ।’
চোরাবাগানের দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,চোরাবাগানের অঘটনে যেসব পরিবারের চোখে জল পড়ছে, তাদের দুঃখটা আমাদেরও দুঃখ। তাই আমরা শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার-আচরণ এ বছর পালন করছি। আনন্দ অনুষ্ঠান থেকে বিরত থাকছি।
মৃত টগর বেজের স্বামী সঞ্জয় বেজ জানান,তাঁর স্ত্রী, ছেলে এবং শ্বশুরবাড়ির সদস্য-সহ মোট ন’জনের একটি দল কলকাতায় ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলেন। কিন্তু পুজোর আনন্দের মধ্যেই ঘটে যায় ভয়াবহ বিপর্যয়। স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে এখন কার্যত তিনি দিশেহারা বলে জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পুজোর সময় হাজারো ব্যস্ততার মধ্যে মু্খ্যমন্ত্রী নিজে আমাদের বাড়িতে সান্তনা দিয়ে গিয়েছেন ।উনি সবরকম সাহায্য সহযোগীতার আশ্বাসও দিয়ে গিয়েছেন। মুখমন্ত্রী স্বয়ং আমার পরিবারকে সান্তনা জানাতে আসবেন এটা আমাদের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। সঞ্জয়বাবু আরো জানান, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর হাতে ২৫ লক্ষ টাকা করে মোট ৫০ লক্ষ টাকার দুটি চেক তুলে দিয়ে গিয়েছেন। পাশাপাশি চাকরির প্রতিশ্রুতিও দিয়ে গিয়েছেন।
চোরবাগানের পুজো মন্ডপে হওয়া দুর্ঘটনায় হুগলীর আরামবাগের বালিয়া গ্রাম নিবাসী টগরের ভাইয়ের স্ত্রী পিয়ালী পরামাণিকেরও মৃত্যু হয়েছে। মাধবডিহির বীরপুর থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পিয়ালীর বাড়ি বালিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখান থেকে যান নদীয়ার চাকদায় মৃত আরতি সরকার বিশ্বাসের বাড়িতে ৷ আরতিদেবীও চোরবাগানের মণ্ডপে দুর্ঘটনার শিকার । এরপর যথাক্রমে অপর দুই মৃতা হুগলির বৈদ্যবাটীর শ্রীপর্ণা পোদ্দার ও হাওড়ার বালির আকৃতি কুমারী’র বাড়িতে৷।

