আমেরিকান গায়িকা মেরি মিলবেন বুধবার বলেছিলেন যে, “এখন চুপ থাকার সময় নয়,” এবং তিনি ভারতের “তরুণ দেশপ্রেমিকদের” ককরোচ জনতা পার্টির(সিজেপি) “বিশৃঙ্খলাপূর্ণ মনোভাবের” বিরুদ্ধে জেগে উঠে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন । তার অভিযোগ, এই দলটি যুক্তরাষ্ট্রের “দাতাদের দ্বারা অর্থায়নপ্রাপ্ত”। আর এতে চরম ক্ষিপ্ত হন সিজেপি-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে ৷ তিনি মেরি মিলবেনের প্রতিক্রিয়ায় এক্স-এ লিখেছিলেন,’মোদী কেন নিজের দেশবাসীকে হেয় প্রতিপন্ন করতে আমেরিকানদের সমর্থন চাইছেন?বিদেশী নাগরিকদের ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অধিকার কে দিয়েছে? আমরা আমাদের নিজেদের সমস্যা সামলাতে যথেষ্ট সক্ষম। আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের লোকের হস্তক্ষেপের কোনো প্রয়োজন নেই।’
এর পালটা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন গায়িকা । তিনি অভিজিৎ দিপকে ট্যাগ করে এক্স-এ লিখেছেন, ‘ওহ্ প্রিয় অভিজিৎ দিপকে, সত্য সবাইকে মুক্তি দেয় । এমনকি তোমাকেও। আর সত্যিটা হলো: তুমি সফল না হলে এই মার্কিন দাতারা তোমাকে গরম কেকের মতো ছুঁড়ে ফেলে দেবে। আর তুমি সফল হবেও না, কারণ নৈরাজ্য কখনো টিকে থাকে না। বরং, তোমার মার্কিন শিক্ষা ও প্রতিভাকে ভালো কাজে লাগাও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে বসো এবং ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি ইতিবাচক কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠো। যা সঠিক, তা করার সাহসের প্রমাণ তোমার পরবর্তী পদক্ষেপেই নিহিত।’
তিনি আরও লিখেছেন,’আর প্রধানমন্ত্রীর আমেরিকান সমর্থনের প্রয়োজন নেই। তাঁর পাশে আছেন দেড়শ কোটি সুন্দর ভারতীয় নাগরিক, যারা তাঁকে সমর্থন করে আসছেন ২৫ বছর ধরে, যার মধ্যে ১২ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, টানা তিনবার। এবং ২০২৯ সালেও আবার করবেন। এটাই সত্যি।’
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে (এসআইআর) কথিত অনিয়মের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং বিরোধী দলগুলোর সমর্থকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করার মধ্যেই মেরি মিলবেনের এই মন্তব্যটি এসেছে।৪১ বছর বয়সী এই গায়িকা দাবি করেছেন যে, সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে এবং তার দল “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাতাদের কাছ থেকে অর্থায়ন পেয়ে থাকে” যারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ক্ষমতা থেকে সরাতে উঠেপড়ে লেগেছে ।
তিনি দেশপ্রেমী ভারতীয়দের কাছে আহ্বান জানান, এটি “চুপ থাকার সময় নয়” এবং “ভারতের সকল সুন্দর তরুণ দেশপ্রেমিকদের” একত্রিত হয়ে এই “বিঘ্ন সৃষ্টিকারী” শক্তিগুলোর শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধিতা করার আহ্বান জানান।
তিনি তাঁর পোস্টে লিখেছিলেব,”ভয় পেয়ো না, আমার তরুণ দেশপ্রেমীরা। তোমাদের প্রধানমন্ত্রী, যিনি ২৫ বছর ধরে ভারতের সেবা করেছেন, যার মধ্যে ১২ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, টানা তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন, তিনি তোমাদের দেশের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী শক্তির কাছে মাথা নত করতে যাচ্ছেন না।”
তিনি আরও বলেন,’আর এই নির্বাচিত দাতাদের বিশ্বজুড়ে একটি নির্দিষ্ট ধরন রয়েছে – তারা রক্ষণশীল বিশ্বনেতাদের লক্ষ্যবস্তু বানায়, সেই দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষিত কোনো ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে, তাকে উগ্রপন্থী করে তোলে, দেশে ফেরত পাঠায় এবং বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করার জন্য অর্থায়ন করে। তাদের কেউই সফল হয়নি, কিন্তু দেশের উন্নয়ন ও শাসনে প্রভাব ফেলেছে ।’
মিলবেন উল্লেখ করেন যে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য পাল্টা আন্দোলন অপরিহার্য।তিনি বলেন,’এখন সময় এসেছে ভারতে একটি নতুন কণ্ঠের, যারা ভারতের মাটিতে জন্মেছে, বেড়ে উঠেছে ও শিক্ষিত হয়েছে, তারা যেন জেগে ওঠে, সংগঠিত হয় এবং আরশোলা পার্টির এই ধ্বংসাত্মক মনোভাবের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করে… জেগে ওঠো, তরুণ দেশপ্রেমীরা! জেগে ওঠো!’
বিশিষ্ট আফ্রিকান-আমেরিকান গায়িকা ও হলিউড অভিনেত্রী মিলবেন ভারতের জাতীয় সঙ্গীত এবং ভক্তিগীতি ‘ওম জয় জগদীশ হরে’ গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩ সালে প্রধানমন্ত্রীর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় তিনি সেখানকার একটি অনুষ্ঠানে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ পরিবেশন করেছিলেন।।

