এইদিন ওয়েবডেস্ক,উত্তরপ্রদেশ,১৪ সেপ্টেম্বর : উত্তর প্রদেশ সন্ত্রাস দমন শাখা (এটিএস) আল -কায়েদার এক তরুন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে । শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, আজমগড় থেকে ১৯ বছর বয়সী মহম্মদ নাবিল নামে ওই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে । ধৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে তরুণদের সন্ত্রাসী সংগঠনে নিয়োগ এবং উগ্রপন্থী বানানোর গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল বলে জানিয়েছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ।
এটিএস-এর তথ্যমতে, দিদারগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ নাবিল তরুণদের একত্রিত করতে এবং আল- কায়েদার মতাদর্শী আনোয়ার আল-আওলাকির আদর্শ প্রচারের জন্য এনক্রিপ্টেড সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ব্যবহার করছিল।
নাবিল “লা গালিব ইল্লাল্লাহ” নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেছিল, যার অর্থ “আল্লাহ ছাড়া কোনো বিজয়ী নেই”। তদন্তকারীরা বলেছেন, গ্রুপটি সন্ত্রাসী ধারণা ছড়াতে, সদস্যদের ‘মুজাহিদ’ হতে উৎসাহিত করতে এবং ‘জিহাদের’ জন্য প্রস্তুত করতে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
পুলিশ জানতে পারে যে, নাবিল আনোয়ার আল-আওলাকি এবং মাওলানা আসিম উমরের লেখা বইও শেয়ার করেছিল, যিনি ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়েদার (একিউআইএস) প্রাক্তন প্রধান ছিলেন।
গ্রুপটির চ্যাটের তদন্তে দেখা গেছে যে, নাবিল সদস্যদের ‘মুজাহিদ’ বলে উল্লেখ করত। সদস্যরা তাদের কার্যকলাপ নিয়ে আলোচনা করার সময় সাংকেতিক শব্দও ব্যবহার করত। এটিএস-এর মতে, “ট্রিপ” বলতে জিহাদ, “পেন” বলতে ছুরি, “জুস” বলতে রাসায়নিক এবং “প্রজেক্ট” বলতে পরিকল্পনা বোঝানো হতো।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জম্মু ও কাশ্মীর এবং অন্যান্য দেশের সদস্য ছিল। নাবিল জিহাদের নামে পরিচালিত কার্যকলাপের জন্য তহবিলও সংগ্রহ করছিল।এটিএস আরও জানতে পারে যে, নাবিল ‘ফ্লেমস অফ ওয়ার’ নামের একটি গ্রুপসহ আরও বেশ কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য ছিল। এর সদস্যদের মধ্যে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও সৌদি আরবের নাগরিকরাও ছিল ।
এটিএস জানায়, তদন্তকারীরা বোমা তৈরির বিষয়ে কথোপকথন, এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত ভিডিও এবং পটাশিয়াম নাইট্রেট সংগ্রহের বিষয়ে আলোচনা খুঁজে পেয়েছেন। তদন্ত অনুযায়ী, নাবিল তার উদ্দেশ্য পূরণের জন্য প্রশিক্ষণ নিতে এবং কাজ করতে পাকিস্তান, তুরস্ক ও বাংলাদেশে যাওয়ার পরিকল্পনাও করছিল।
গোয়েন্দা তথ্যে আরও ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, সুযোগ পেলেই পাকিস্তানের সঙ্গে সমন্বয় করে ভারতের সামরিক বিজয় হিসেবে পরিচিত “গাজওয়া-ই-হিন্দ” শুরু করার একটি পরিকল্পনা নিয়ে নাবিল ও তার সহযোগীরা আলোচনা করেছিল।তদন্তের পর, পুলিশ নাবিলের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা আইনের (বিএনএস) ধারা ১৫২ এবং ৬১(২) এবং বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (ইউএপিএ)-এর ধারা ১৮ এবং ৩৮-এর অধীনে একটি মামলা দায়ের করেছে।।

