প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,১৩ সেপ্টেম্বর : শুধু শিক্ষক নিয়োগেই দুর্নীতি নয়,পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সুযোগে বহু অযোগ্য রাতারাতি বনে গেছে চিকিৎসক ! পালাবদলের পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার বিভিন্ন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতেই একের পর এক অনিয়ম প্রকাশ্যে আসছে ৷ পশ্চিমবঙ্গে এমন ৫ জন ভুয়ো ডাক্তার ধরা পড়েছে, যাদের চিকিৎসক হওয়ার নুন্যতম যোগ্যতা পর্যন্ত নেই । সেই পাঁচজনের মধ্যে তিনজন সরাসরি সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করে ফেলেছেন।বাকি দু’জন আবার বঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বেসরকারি ক্ষেত্রে চিকিৎসা করছেন। এমনকি টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করা এক ব্যক্তি রাতারাতি এমবিবিএস ডাক্তার বনে গিয়ে চিকিৎসা করে যাচ্ছেন।এমন কাণ্ড ঘিরে তোলপাড় পড়তেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর।
ভুয়ো ডাক্তারদের চিহ্নিত করার বিষয়টি নিয়ে অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যাণ্ড নার্সিংহোম’ (এপিএইচএন)-এর সম্পাদক ডঃ রাজীব পাণ্ডের দাবি,বিহার মেডিক্যাল কাউন্সিলের ভুয়ো শংসাপত্র দেখিয়ে তিনজন পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিল থেকে রেজিস্ট্রেশন নম্বর সংগ্রহ করে চিকিৎসার লাইসেন্স নিয়েছিলেন। বিষয়টি সামনে আসতেই চিকিৎসক মহলে তোলপাড় পড়ে গেছে ।
সংগঠনটির দাবি, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রায় ২৫-২৬টি নার্সিংহোমে নিয়মিত অস্ত্রোপচার করতেন। অন্য একজন উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে একটি নার্সিংহোম চালানোর পাশাপাশি কলকাতার উপকণ্ঠ নিউ টাউনে একটি ’ডার্মা ক্লিনিকও’ চালান বলে অভিযোগ। একই ব্যক্তি কীভাবে গাইনি এবং ডার্মাটোলজি দুই ক্ষেত্রেই চিকিৎসা করেন,তা নিয়ে চিকিৎসকদের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।এপিএইচএনের আরও অভিযোগ, অভিযুক্ত ওই দুই চিকিৎসক স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছেন।পাশাপাশি আরও তিনজন ভুয়ো চিকিৎসক সরকারি চাকরির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলেও দাবি সংগঠনের।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই বিষয়টি স্বাস্থ্য দফতরের নজরে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এপিএইচএনের সম্পাদক রাজীব পাণ্ডে।ডাক্তার পরিচয়ধারী ওই সব ব্যক্তিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশনের বৈধতা পরীক্ষা করাও জরুরি বলে মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ।।

