এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১০ সেপ্টেম্বর : বাগেশ্বর ধামের মহারাজ ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীকে ‘৩০ বছরের অর্ধশিক্ষিত এবং মিথ্যাবাদী ভন্ড বাবা’ বলে অবিহিত করলেন ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবির । শুধু তাইই নয়,গতকাল কলকাতার রাজপথে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে আয়োজিত “গেরুয়া সম্মান যাত্রায়” নাঙ্গা সন্ন্যাসীদের অংশ নেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছেন । পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী যাদবপুরে বেদ ও হনুমান চালিশা পাঠের যে ঘোষণা করেছেন তার বিরোধিতা করেও ‘কথিত সেকুলার’ হুমায়ুন কবির মনে করছেন যে,এতে ‘একাডেমিক স্বাধীনতা ও বহুত্ববাদী সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে পারে’ ।
বুধবার বিকেলে ঢাকুরিয়া গোলপার্কের দক্ষিণাপনের সামনে থেকে যাদবপুর ৮-বি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রায়’ অংশগ্রহণ করেন মুখ্যমন্ত্রী । পরে যাদবপুর বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত সভায় বামপন্থী ও উগ্রবামপন্থীদের দেশদ্রোহী কার্যকলাপের তীব্র সমালোচনা করেন । পাশাপাশি আনন্দবাজার পত্রিকায় লেখা “গেরুয়া গুন্ডামি” শব্দ প্রয়োগের তীব্র নিন্দা করে শুভেন্দু অধিকারী ‘এদের সমূলে উপড়ে ফেলার’ হুঙ্কার দেন ।
যার প্রতিবাদে আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা বড়সড় পোস্ট করেছেন ডেবরার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির । তিনি লিখেছেন,’মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী জি মহাশয় সমীপে নিবেদন, বন্যেরা বনে সুন্দর, নাঙ্গা সন্ন্যাসীরা কপিল মুনির আশ্রমে। বাগেশ্বর ধামের ৩০ বছরের অর্ধশিক্ষিত এবং মিথ্যাবাদী ভন্ড বাবা এসে বাঙালিদের পাখণ্ডী বলে গেল, এবার যাদবপুরে নাঙ্গা সন্ন্যাসীরা এলেন “গেরুয়া সম্মান যাত্রায়।”
মহাশয়, আনন্দবাজারকে শিকড় শুদ্ধ উৎপাটন করতে গিয়ে কি আপনি আমাদের সেই সেদিনের যাত্রাপলার কথা মনে পড়ালেন?“সারা রাত তাণ্ডব হবে, হবে সার্জিকেল স্ট্রাইকও।” হচ্ছে তো স্যার, এবার ক্ষমা করে দিন ছাত্রছাত্রীদের। এমন কালচারাল শক তারা কাহাঁতক নিতে পারে? এরপর আবার বলেছেন, বেদ পাঠ হবে এবং হবে হনুমান চালিশা পাঠ! এটা একটা প্রিমিয়ার শিক্ষাঙ্গণ, দুবার ভাবুন স্যার!
হুমায়ুন লিখেছেন,“কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি কিংবা ভারত তেরে টুকরে হঙ্গে” এমন স্লোগান যদি কেউ তুলে থাকে তারা অপরাধী কিন্তু তারা সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের কত শতাংশ? তার জন্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত ছাত্রছাত্রী দায়ী নয়।একবার ভাবুন স্যার, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচিন্তা ও প্রগতিশীলতার প্রতীক। আপনাদের এই কার্পেট বম্বিং তার স্বায়ত্তশাসন, একাডেমিক স্বাধীনতা ও বহুত্ববাদী সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে পারে। রাজনৈতিক নিয়োগ, পাঠ্যক্রমে বিকৃতি এবং ভিন্নমত দমনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত হতে পারে যা তার ঐতিহ্যের পরিপন্থী।
তিনি আরও লিখেছেন,বাঙালিরা কিন্তু সব দেখছে স্যার! *সময় বদলে দেয় অনেক কিছু* এটা মনে রাখবেন স্যার। সময় হলো মহাগুরু। সে কাউকে ছাড়ে না। আজ যা আছে, কাল তা নাও থাকতে পারে। সময় মানুষের অহংকার ভাঙে, ক্ষত সারায়, নতুন পথ দেখায়।আধ্যাত্মিকতায় সময়কে ‘কাল’ বলা হয় – যা সবকিছুকে পরিবর্তন করে, কিন্তু আত্মা অপরিবর্তিত থাকে। তাই সময়ের স্রোতে ভেসে না গিয়ে, সাক্ষী হয়ে থাকাই জ্ঞান।
বিরোধী রাজনীতি করলেও আপনাকে আমি এবং আমরা ভালবাসি, আপনি পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী। বিশাল ম্যান্ডেট নিয়ে জিতে এসেছেন বলে গর্ব করেন আপনি, আপনার ভোটাররা কিন্তু সব দেখছেন, অবাঙালীদের মেনে নিয়েছি আমরা কিন্তু ধুঙ্গি বাবা, নাঙ্গা সন্ন্যাসীদের কি সবাই মেনে নেবে? ভোটে আপনিও একদিন না একদিন ঠিক হেরে যাবেনই কিন্তু তবুও আপনাকে সর্বদা হাতি হিসাবেই দেখতে চাই, মূষিক নয়। শুভবুদ্ধির উদয় হোক, হোক চেতনার উন্মেষ। হুমায়ুন কবীর ।।
হুমায়ুন কবীরের ফেসবুক পোস্টের লিঙ্ক : 👇
(https://www.facebook.com/1482971508/posts/pfbid02Fag YEN24XjBd8e 9HgVcG Bvvz6apU8HdmuD2r6T1LcTpN7qrxC6ZMYMi9qff8zoKKl/?mibextid=CDWPTG)

