এইদিন ওয়েবডেস্ক,ভাতার(পূর্ব বর্ধমান),০৮ সেপ্টেম্বর : ফের মনীষীদের অবমাননার ঘটনা ঘটল এরাজ্যে । এবারে পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার থানার কুবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দেওয়ালে আঁকা মনীষীদের বাণী ও ছবিতে কালি লেপে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে । প্রতিবাদে পড়ুয়াদের সঙ্গে নিয়ে ধর্নায় বসে পড়লেন ওই স্কুলের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক অসিতাভ দাস । স্কুলের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবি জানান তারা । আজ মঙ্গলবার থেকে স্কুলের জন্য বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে রীতিমত ব্যানার টাঙ্গিয়ে অসিতাভ দাস পড়ুয়াদের সঙ্গে নিয়ে স্কুলের বারান্দায় ধর্না শুরু করেন। দেখা যায় তাঁর সঙ্গে যোগ দেয় বেশকিছু ছাত্রছাত্রীও। শিক্ষকের এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন অভিভাবকদের একাংশ। যদিও ঘটনা প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক স্বপ্নাংশু লোধ কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন,’যা বলার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলবেন।’
কুবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠা হয় প্রায় ৫০ বছর আগে । স্কুলে বর্তমানে ছাত্রছাত্রী রয়েছে ২৪১ জন। একজন শিক্ষিকা এবং আটজন শিক্ষক রয়েছেন। স্কুলে অব্যবস্থার অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন ধরেই প্রধান শিক্ষক স্বপ্নাংশু লোধের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন শিক্ষকদের একাংশ । কিছুদিন আগে নিজের টাকা খরচ করে এবং উদ্যোগ নিয়ে স্কুলে রঙ করেছেন অসিতাভ দাস । স্কুলের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দেওয়ালে মনীষীদের বাণী ও ছবি আঁকিয়েছিলেন তিনি । কিন্তু স্কুলে এসে মনীষীদের বাণী ও ছবির আংশিক অংশে কালি লেপে দেওয়া আছে দেখে চরম ক্ষুব্ধ হন অসিতাভ বাবু । আজ স্কুলের জন্য বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে রীতিমত ব্যানার টাঙ্গিয়ে অসিতাভ দাস পড়ুয়াদের সঙ্গে নিয়ে স্কুলের বারান্দায় ধর্না শুরু করেন৷
আন্দোলনকারী শিক্ষক অসিতাভ দাস বলেন, ‘আমাদের স্কুল বরাবরই অবহেলিত। পরিকাঠামো উন্নয়নে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সন্ধ্যা হলেই স্কুলের মধ্যে নেশার আসর বসে। মলমূত্রে ভর্তি হয়ে যায়। ছাত্রীদের অনেককেই আপত্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই পরিবেশ চলতে পারে না।’
আজ স্কুলে গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন দাবিদাওয়া সম্বলিত কয়েকটি ব্যানার টাঙানো হয়েছে স্কুল ভবনে । কোনটিতে লেখা : “এই প্রধান শিক্ষক আর আমরা চাই না” । কোনটিতে লেখা : “শিক্ষার পরিবেশ বাঁচাও । ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করো” । স্থানীয় বাসিন্দা প্রীতম দত্ত, স্বরূপ ঘোররাও স্কুলের ইংরাজি শিক্ষকের আন্দোলনকে সমর্থন করেছেন । তারা বলেন,’অসিতাভবাবু ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজের খরচে সম্প্রতি স্কুলের রঙ করেছেন। মনীষীদের বাণী ও ছবির মাধ্যমে স্কুলকে সাজিয়েছেন। আমরা ওনার আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন করি ।’।
