এইদিন ওয়েবডেস্ক,বেঙ্গালুরু,০৩ সেপ্টেম্বর : প্রবল বিরোধিতার মুখে কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকার বিতর্কিত পার্ক সংশোধনী বিলটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে, যে বিল অনুযায়ী পার্কের ৫ শতাংশ জমি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ করা হতো।
সম্প্রতি সমাপ্ত বিধানসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনে তড়িঘড়ি করে পাস হওয়া ‘কর্নাটক পার্ক (সংরক্ষণ) সংশোধনী বিল’-এর বিরুদ্ধে তীব্র বিরোধিতার মুখে উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমারের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার বিলটি প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমারের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়।
রাজ্য সরকারের এই বিতর্কিত বিলটি নিয়ে বেঙ্গালুরুর বাসিন্দারা ধারাবাহিক প্রতিবাদ ও আন্দোলন করেন। বিরোধিতার মূল কারণ ছিল যে, হেব্বাল থেকে সেন্ট্রাল সিল্ক বোর্ড পর্যন্ত পরিকল্পিত ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ যমজ সুড়ঙ্গ সড়ক প্রকল্পের জন্য লালবাগের সিদ্ধাপুর গেট দিয়ে প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ তৈরি করতে এই সংশোধনী বিলটি ব্যবহার করা হচ্ছিল।
বিলটিতে প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, পার্কের মোট জমির ৫ শতাংশ সরকারি বিভাগ, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং স্থানীয় সংস্থাগুলোকে ‘জনসাধারণের প্রকল্পের’ জন্য উপহার, বিনিময়, বন্ধক, বিক্রয় বা ইজারার মাধ্যমে দেওয়া যেত। এই বিষয়টিই বেঙ্গালুরুতে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল।
বিজেপি সাংসদ তেজস্বী সূর্য রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।এক্স-এ একটি ভিডিও বার্তা শেয়ার করে তিনি বলেন, “মানুষ আওয়াজ তুলেছে, সরকার তা শুনেছে। গণতন্ত্র এভাবেই কাজ করা উচিত। আমি প্রত্যেক নাগরিককে ধন্যবাদ জানাই, যাঁরা ৯১ বছর বয়সী ইয়েল্লাপ্পা রেড্ডির নেতৃত্বে লালবাগে এসে পার্কের ৫ শতাংশ জমি হস্তান্তরের অনুমতি দেওয়া আইনটির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন।”
তিনি লিখেছেন,একইভাবে, জনমতকে সম্মান জানিয়ে এই কঠোর আইনটি প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্তের জন্য আমি মুখ্যমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু লড়াই এখনও শেষ হয়নি। এই ধ্বংসাত্মক টানেল রোড প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল না হওয়া পর্যন্ত লালবাগ কিংবা প্রাচীন পেনিনসুলার নাইস শিলা, কেউই নিরাপদ থাকবে না।আজ আমি টানেল রোড প্রকল্পের বিরুদ্ধে মাননীয় হাইকোর্টে একটি যুক্তি দাখিল করেছি। আদালত জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়াকে (জিএসআই) এ বিষয়ে তাদের প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পরবর্তী শুনানি ১০ই সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়েছে।
এছাড়াও, হেব্বাল হ্রদে শর্ট টানেল প্রকল্পের সুবিধার্থে কর্ণাটক হ্রদ সংরক্ষণ আইন সংশোধন করা হয়েছে, যার ফলে হ্রদটির বাফার জোন ৩০ মিটার থেকে কমিয়ে মাত্র ৩ মিটার করা হয়েছে। সরকারের উচিত এই সংশোধনীটিও প্রত্যাহার করা। বেঙ্গালুরু শহরের হ্রদ, পার্ক ও সবুজ এলাকা রক্ষার জন্য এবং আমাদের শহরের টেকসই উন্নয়নের জন্য আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। আপনাদের শহরের পক্ষে আওয়াজ তোলার জন্য বেঙ্গালুরুবাসীকে ধন্যবাদ, বলেছেন তেজস্বী সূর্য।।
