এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৩ সেপ্টেম্বর : সিপিএম সরকার ইংরাজি ও কম্পিউটার শিক্ষা তুলে দিয়েছিল । তৃণমূল এসে মা’কে আম্মা এবং আকাশকে আসমান বলতে শেখাচ্ছিল । আর কিছুদিন এভাবে চললে বাংলার সংস্কৃতিই লুপ্ত হয়ে যেত….পূর্বতন দুই সরকারের শিক্ষানীতির তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল।’
আজ বৃহস্পতিবার কলকাতার গোলপার্কে আরএসএসের শাখা সংগঠন ‘বিদ্যা ভারতী’র একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শিক্ষাঙ্গণ থেকে শুরু করে ভাষা নীতি নিয়ে পূর্বতন সিপিএম আর তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । তিনি বলেন,এই রাজ্যে একটা সময় যখন কমিউনিস্টরা রাজত্ব করত তারা আমাদের মাতৃভাষা বাংলার প্রচার-প্রসার কেও যেমন বাধা দিয়েছে, তেমনি ইংরেজি পড়াশোনার ক্ষেত্রেও তালা চাবি লাগিয়ে রেখে দিয়েছিল । কম্পিউটার থেকে বঞ্চিত করেছিল ।’
এরপর তিনি বলেন,’পরবর্তী কালে যে সরকার এসেছিল প্রথমের দিকে না হলেও শেষের দিকে ১০ বছর যে শিক্ষা ব্যবস্থা তারা চালু করেছিল, সেই শিক্ষা ব্যবস্থা যদি পশ্চিমবঙ্গে আরও কিছুদিন চলতো তাহলে আমাদের সংস্কার+আমাদের পরম্পরা- আমাদের ঐতিহ্য-আমাদের দেশপ্রেম-আমাদের রাষ্ট্রবাদ প্রভৃতি হারিয়ে যাওয়ার একবারে প্রান্তে এসে গেছিল ।’
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাচ্চাদের সিলেবাস গুলো ভয়ংকর, আপনারা পড়লেই বুঝতে পারবেন । মা কে আম্মা,আকাশকে আসমান ; ছোট ছোট বাচ্চাদের সিলেবাসে ভাষার যে বিকৃতি…খুব প্ল্যান করে… একবারে যেখানে আমাদের প্রজন্ম তৈরি হয়, ফিউচার…ওই জায়গাটায় এমন ভাবে সূক্ষ্মভাবে সিলেবাস তৈরি করা হয়েছিল…শিক্ষা ব্যবস্থাকে দাঁড় করানো হয়েছিল… যে শিক্ষা ব্যবস্থা কখনও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর অথবা স্বামী বিবেকানন্দ ভাবেননি । শুধু তাইই নয়,শিশু মনে বিভাজন ঘটানো হয়েছিল । কেবলমাত্র মুসলমান ছাত্র-ছাত্রীদের স্কলারশিপ দেওয়া হতো, অন্য সম্প্রদায়ের দেওয়া হতো না ।’
মুখ্যমন্ত্রী বলেন,’সিঙ্গুরে টাটাকে তাড়ানোর সিলেবাস ছিল । কিন্ত ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ও স্বামী প্রনবানন্দের পশ্চিমবঙ্গ তৈরির ইতিহাস খুঁজলে পাবেন না । সিলেবাসে আপনি চাকরি চুরির দায়ে অভিযুক্ত পার্থ চ্যাটার্জির নাম পাবেন । কিন্তু আত্মবলিদান দেওয়া খুদিরাম বসু বা মাতঙ্গিনী হাজরার নাম খুঁজতে গেলে অনেক পাতা উল্টাতে হবে, যদি কষ্ট করে কোথাও এক আধটা পাওয়া যায় । এই করে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে একেবারে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে গিয়েছিল ।’
তবে বাংলার সচেতন নাগরিকরা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, উপযুক্ত সময়ে পরিবর্তন না এলে এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে পড়শি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার কোনও ফারাক থাকত না। ক্ষমতায় এসেই রাজ্য সরকার জাতীয় শিক্ষানীতি গ্রহণ করেছে এবং প্রার্থনায় পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে বলে জানান তিনি।
এদিনের অনুষ্ঠান থেকে বিদ্যা ভারতীর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী আগামী এক বছরের মধ্যে রাজ্যে বিদ্যামন্দিরের সংখ্যা এক হাজারে উন্নীত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পাড়ায় পাড়ায়, ব্লকে ব্লকে ও পঞ্চায়েত স্তরে এই পরিকাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে শিক্ষাঙ্গণে কোনও ধরনের বৈষম্য বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাজ্যের সমস্ত স্কুল-কলেজে ন্যাশনাল ক্যাডেট কর্পস (NCC) ফেরানোর ঘোষণা করেন। বাংলার আরও সৈনিক স্কুল প্রতিষ্ঠার আবেদন জানিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।।
