এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০১ সেপ্টেম্বর : যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনার প্রতিবেদনে “গেরুয়া গুন্ডামি” শব্দ প্রয়োগ করেছিল আনন্দবাজার পত্রিকা । এতে হিন্দু সম্প্রদায়ের পবিত্র রঙ “গেরুয়া”-কে টেনে আনায় চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । কেউ কেউ ওই পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় এফআইআর দায়েরও করেছেন । আজ মঙ্গলবার নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত ‘পশ্চিমবঙ্গ সাংবাদিক পেনশন যোজনা ২০২৬’ ও ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনায় সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্তিকরণ’ কর্মসূচির সূচনা করার সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এই বিষয়ে একটা বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী । তিনি ‘জাতীয় স্বার্থ ও ধর্মীয় আস্থা’ রক্ষার জন্য ভাষা প্রয়োগে আরও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানান ।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন,’গঠনমূলক সমালোচনা ও বিতর্কের জায়গা সবসময় খোলা রয়েছে । এতে সরকারের তরফে কোনো বাধা আসবে না ৷ তবে দেশপ্রেম ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আপোষ করবেন না৷ দেশ দুর্বল বা অস্থির হয় এমন বিষয় থেকে সকলকে বিরত থাকতে হবে। সেইসঙ্গে কোনও সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আস্থায় আঘাত লাগে এমন ভাষা ব্যবহার না করার বিষয়েও তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন।
সাংবাদিকদের অবসরকালীন ভাতা বা পেনশনের জন্য ইতিমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর । ভোটের আগে কলকাতা প্রেস ক্লাবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের পেনশনের কথা ঘোষণা করেছিলেন। এরপর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, খুব দ্রুত সাংবাদিকদের জন্য মাসে ৫ হাজার টাকা করে পেনশন চালুর ব্যবস্থা করা হবে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৬০ বছর বয়স হলেই এই পেনশনের জন্য আবেদন করা যাবে। তবে আবেদনকারীর পারিবারিক আয় মাসে ১০ হাজার টাকার মধ্যে হতে হবে। যেসব সাংবাদিকের পশ্চিমবঙ্গে সরকারি অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে মোট ১০ বছর এই কার্ড থাকলেই পেনশনের জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আর যাঁদের সরকারি অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড নেই, তাঁদের ১৫ বছরের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা দেখাতে হবে। এছাড়া,অন্য কোনো নিয়মিত চাকরি বা সরকারি পেনশন থাকা চলবে না ।
মাঝে কোনও কারণে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড নবীকরণ না হলেও, মোট ১০ বছর ওই কার্ড থাকলে তা বিবেচনা করা হবে। এছাড়াও, ৬০ বছর বয়সের পর সরাসরি কোনও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত না থেকে অন্য কোনও কাজ করলেও পেনশনের জন্য যোগ্য হওয়া যাবে। আজ ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই পেনশনের জন্য আবেদনপত্র জমা দেওয়া যাবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এতদিন শুধুমাত্র অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডধারী অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকরাই পেনশন পেতেন। এর ফলে মাঠে কাজ করা কিছু সাংবাদিক এই সুবিধা পেলেও, ডেস্ক বা নেপথ্যে কাজ করা বহু সংবাদকর্মী সরকারি এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতেন। কিন্তু এখন থেকে কার্ড ছাড়াই যোগ্য অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকরা ৫০০০ টাকা মাসিক পেনশন পাবেন বলে জানান তিনি ।
এছাড়াও উৎসবের মরশুমে পুজোর বোনাসের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। এতদিন শুধুমাত্র কলকাতা ও অন্যান্য জেলার অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডধারী সাংবাদিকরাই সামান্য বোনাস পেতেন। এখন থেকে তা বাড়িয়ে ৩০০০ টাকা করা হয়েছে এবং এই বোনাস পাওয়ার ক্ষেত্রেও কার্ড থাকার নিয়ম তুলে নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের যে সমস্ত সাংবাদিক আবেদন করবেন, তাঁরা প্রত্যেকেই এই পুজো বোনাস পাবেন। এর পাশাপাশি, রাজ্যের সমস্ত সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষার ক্ষেত্রেও বড় পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার। সমস্ত সাংবাদিককে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’-র আওতায় নিয়ে আসার ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে কর্মরত সাংবাদিকদের পাশাপাশি সংবাদকর্মীদের পরিবার চিকিৎসা সংক্রান্ত আর্থিক সুরক্ষা ও স্বস্তি পাবে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী এও জানান, যে সাংবাদিকরা ইতিমধ্যেই আয়ুষ্মান যোজনায় পরিবার সহ আওতাভুক্ত রয়েছেন, তাঁদের আর নতুন করে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনায় আবেদন করার প্রয়োজন নেই।।
