এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,৩১ আগস্ট : মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের দেওয়ালে লেখা দেশবিরোধী শ্লোগান মুছে দেওয়া হয়েছিল সাদা রঙ দিয়ে । কিন্তু রাতের অন্ধকারে সেই সাদা রঙের উপরেই লিখে দেওয়া হয়েছে কার্ল মার্ক্সের উক্তি । এটা যে বামপন্থী বা উগ্র বামপন্থীদের কাজ সেটা স্পষ্ট । তবে কোন সংগঠন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে এহেন কাজ করেছে তা স্পষ্ট নয়। এদিকে ফের এই দেওয়াল নিখনের তীব্র সমালোচনা করেছে আর এস এস-এর ছাত্র সংগঠন এবিভিপি । এখন দেখার বিষয় যে,এরপর কি পদক্ষেপ নেন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড কিছুতেই বরদাস্ত করবেন না । সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখা উগ্রবামপন্থীদের দেশ বিরোধী শ্লোগান মুছে ফেলার নির্দেশ দেন । এরপর রবিবার সেই সমস্ত দেওয়াল লিখনগুলি চুনকাম করে দেওয়া হয় । আজ সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্ত প্রেক্ষাগৃহ বা ওপেন এয়ার থিয়েটারের দেওয়ালে লেখা হয় কার্ল মাক্সের চারলাইন উক্তি । ইংরাজিতে লেখা ওই উক্তির বাংলা তর্জমা করলে হয় : ‘আমাদের করুণা নেই/ আমরা তোমাদের কাছ থেকেও কোনো করুণা চাই না। যখন আমাদের পালা আসবে, তখনকার সন্ত্রাসের জন্য কোনও অজুহাত খুঁজব না।’
এর প্রতিক্রিয়ায় এবিভিপি একটা বড়সড় পোস্ট করেছে সোশ্যাল মিডিয়ায় । পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘কার্ল মার্ক্সের এই উক্তিটা দেখলেই একটা বিষয় খুব স্পষ্ট হয়ে যায়—চরম বামপন্থী রাজনীতির একটা বড় অংশে রাজনৈতিক হিংসার জায়গাটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং এখনও কিছু ক্ষেত্রে আছে।
বামপন্থীরা সবসময় সমতা, ন্যায়বিচার, শোষিত মানুষের অধিকার—এই বিষয়গুলোর কথা বলে। কথাগুলো শুনতে অবশ্যই ভালো লাগে। কিন্তু ইতিহাসটা একটু ভালো করে দেখলে অন্য একটা ছবিও সামনে আসে। বিভিন্ন দেশে বিপ্লব ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে ভয়ংকর হিংসা, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার হয়েছে।
সোভিয়েত ইউনিয়নে স্টালিনের সময়কার Great Purge এবং Gulag-এর কথা আমরা জানি। চিনে মাও সেতুং-এর সময় Cultural Revolution-এর নামে যে ভয়াবহ রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়েছিল, সেটাও ইতিহাসের অংশ। আর কম্বোডিয়ায় Pol Pot-এর Khmer Rouge-এর হত্যাযজ্ঞ তো আরও ভয়ংকর উদাহরণ।
সবচেয়ে বড় সমস্যা তখনই হয়, যখন নিজের মতের সঙ্গে যারা একমত নয়, তাদের ‘শ্রেণি শত্রু’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়। তখন আর ভিন্নমতের জায়গা থাকে না, মুক্তচিন্তার জায়গা থাকে না। ধীরে ধীরে গণতন্ত্রের জায়গা নেয় ভয় এবং একনায়কতন্ত্র।
ভারতের ক্ষেত্রেও নকশাল ও মাওবাদী আন্দোলনের ইতিহাস খুব একটা আলাদা নয়। সাধারণ মানুষের অধিকার ও উন্নয়নের কথা বললেও বহু বছর ধরে বোমা বিস্ফোরণ, নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি ও পরিকাঠামো ধ্বংস—এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে।
তাই এই স্লোগান নিয়ে প্রশ্ন তোলা স্বাভাবিক। শান্তি, সমতা আর মানুষের অধিকারের কথা বলার পাশাপাশি যদি রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণের জন্য হিংসা ও ভয় দেখানোর রাজনীতি করা হয়, তাহলে সেই রাজনীতির বিরোধিতা করতেই হবে।আর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে যারা এখনও নকশালপন্থী রাজনীতির নামে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করতে চাইছেন, তাদের উদ্দেশ্যে একটা কথা পরিষ্কার— এবিভিপি কাউকে ভয় পায় না।স্লোগান লিখে, স্লোগান দিয়ে বা রাজনৈতিক ভয় দেখিয়ে যাদবপুরের মাটিতে নকশালপন্থী রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।
আমরা হিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমাদের লড়াই হবে গণতান্ত্রিকভাবে, যুক্তির মাধ্যমে এবং ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে। কিন্তু চরমপন্থী রাজনীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই। যাদবপুরে মতাদর্শের লড়াই হবে—কিন্তু সেই লড়াই হবে যুক্তিতে, আদর্শে এবং গণতান্ত্রিক পথে। “যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্॥”ছাত্র শক্তি, রাষ্ট্র শক্তি। ভারত মাতা কি জয়।বন্দেমাতরম।’।
