এইদিন ওয়েবডেস্ক,ভাতার(পূর্ব বর্ধমান),৩০ আগস্ট : পালাবদলের পর শাসনক্ষমতায় বসার ৩ মাস হতে না হয়েই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল সামনে আসছে । পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতারের দুই জায়গায় রীতিমতো সংঘর্ষে জড়াল দুই গোষ্ঠীর লোকজন ৷ রাজকুমার হাজরা নামে বিজেপির এক নেতা এনিয়ে দলেরই কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বিজেপির তপসিলি, ওবিসি মোর্চার রাজ্য কমিটির সদস্য । অপরদিকে রাজকুমারের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছেন বড়বেলুন ২ অঞ্চলের নাসিগ্রামের বাসিন্দা বিজেপির যুবনেতা পাপাই রায় । অন্যদিকে উজ্বল দাস নামে ভাতার থানার দাউরাডাঙ্গা গ্রামে এক বিজেপি কর্মী দলেরই অপরপক্ষের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ দায়ের করেছেন । জোড়া গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনা ঘিরে ভাতারে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গেছে,রাজকুমার হাজরার বাড়ি বড়বেলুন গ্রামে হলেও বর্তমানে ভাতার বাজারে বসবাস করেন। তার কথায়, শনিবার তিনি গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। রাত প্রায় দশটা নাগাদ তিনি নাসিগ্রামে একটি ধাবায় খাবার আনতে গিয়েছিলেন। সেই সময় তাদেরই দলের কর্মীই নাসিগ্রামের বাসিন্দা পাপাই রায় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তার পিছু নেয় ৷ ধাবায় পৌছানো মাত্রই পাপাইরা তাকে মারধর করতে শুরু করে বলে অভিযোগ৷ রাজকুমারের অভিযোগ,’ধাবা মালিক আমাকে বাঁচাতে গেলে টেবিল চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। তারপর কোনওরকমে সেখান থেকে আমি পালিয়ে আসি ।’ যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পাপাই রায়৷ তার দাবি,’দলকে কালিমালিপ্ত করার উদ্দেশ্যে এসব মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে ।’ দু’পক্ষই আজ ভাতার থানায় এনিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছে ।
তবে শুধু নাসিগ্রামেই বিজেপির সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি । গত মঙ্গলবার ভাতার থানার দাউরাডাঙ্গা গ্রামে এক বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দলের অপর পক্ষের বিরুদ্ধে । উজ্বল দাস নামে আহত বিজেপি কর্মী আজ ভাতার থানায় এনিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন । তার অভিযোগ,’ওইদিন সকালে পার্থ ঘোষ নামে আমাদের দলের এক কর্মীকে গ্রামেরই কয়েকজন মিলে তাঁর উপর চড়াও হয়ে মারধর করছিল । চিৎকার শুনে আমি তাকে বাঁচাতে যাই । সেই সময় লাঠি দিয়ে মেরে আমার হাত ভেঙে দেওয়া হয় ৷’
জানা যায়,উজ্বল দাসকে গুসকরা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কয়েকদিন ভর্তি থাকার পর তিনি ছাড়া পেলে এদিন ভাতার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন৷ উজ্বল দাসের অভিযোগ, ‘তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসা লোকজনই কর্তৃত্ব কায়েম করতে অশান্তি পাকাচ্ছে । বিষয়টি জেলা নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে ।’ একই কথা জানিয়েছেন, বিজেপির ১০ নম্বর বুথের সভাপতি রবীন মাড্ডিও ।।

