এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৫ আগস্ট : গত ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পার্ক স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযানে যান রাজ্যের নগরোন্নয়ন ও পুরবিষয়ক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল । যখন থেকে ফুটপাতে কেরোসিন স্টোভে ডেকচি ভর্তি দুধ গরম করা এক মহিলাকে তার ধমক দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, তখন থেকেই সেটা রাজ্য রাজনীতির “হট টপিক” হয়ে গেছে । বিশেষ করে মহিলা পরিবর্তিত ধর্ম পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠছে । কারন মহিলার নাম সীতা ওরফে রশিদা ।
ইতিপূর্বে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ কুণাল ঘোষ মহিলার কাছে গিয়ে কথিত সমবেদনা দেখিয়ে এসেছেন । এবারে সিপিএমের সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির (AIDWA) ক্যাডারদের দেখা গেল পার্ক স্ট্রিটে ফুটপাতবাসিনী সীতা ওরফে রশিদার সঙ্গে । সিপিএমের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে বলা হয়েছে এ আই ডি ডবলু এ-এর ওই দলে ছিলেন সংগঠনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কনিনীকা ঘোষ বোস, রাজ্য সম্পাদক মোনালিসা সিনহা সহ জেলা নেতৃত্ব । সীতা ওরফে রশিদার শিশুসন্তানদের কোলে তুলে নিয়ে আদর করার ছবি পোস্টও করা হয়েছে । তবে দলের তরফে ওই ফুটপাত বাসিনীকে কোনো আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে কিনা তা জানানো হয়নি ।
এদিকে সোমবার ফেসবুক লাইভে এসে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে “মানবতার বাণী” শোনাতে দেখা যায়৷ তিনি বলেছেন,’দরিদ্র মানুষকে ঘৃণা করা কোনও জনপ্রতিনিধির শোভা পায় না। যিনি বাচ্চার জন্য দুধ ফোটাচ্ছিলেন, তিনি অত্যন্ত অসহায়। মনে রাখা উচিত, মায়ের অভিশাপ সবচেয়ে বড় অভিশাপ ।’ সীতা ওরফে রশিদা নামে ওই মহিলার পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে মমতা ঘোষণা করেছেন, ফুটপাতবাসী ওই পরিবারটি সম্মত থাকলে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাঁদের জন্য সুরাহার ব্যবস্থা করবেন। দলের কোনও সমর্থক বা কর্মীর বাড়িতে আপাতত তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি শিশুটির ভবিষ্যৎ পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
যদিও সোমবার এক ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি দাবি করেন, ব্যস্ত ও সংকীর্ণ ফুটপাতে উন্মুক্ত অবস্থায় আগুন জ্বালিয়ে রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যে কোনও মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত। সেই সুরক্ষার খাতিরেই তিনি খাবার তৈরি বন্ধ করতে বলেছিলেন, কোনও শিশুর মুখের দুধ কেড়ে নেওয়া তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। তবে কথা বলার সময় তাঁর ভাষা বা আচরণ আরও কিছুটা কোমল ও সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত ছিল বলে স্বীকার করে নিয়েছেন মন্ত্রী।
তবে পার্ক স্ট্রিটের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথিত মানবিকতা বনাম ফুটপাথ সুরক্ষার ইস্যুতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে বাগযুদ্ধ এখনো অব্যাহত । এবং এই ইস্যু কিছুদিন স্থায়ী হবে বলে মনে করা হচ্ছে । বর্ষীয়ান সাংবাদিক সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে বিরোধীদের কথিত মানবিকতার নামে রাজনীতি করার জন্য সমালোচনা করে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলেছেন । তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন,অগ্নিমিত্রা পল রূঢ় হয়ে অন্যায় করেছেন, আমি প্রথম দিনেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেছিলাম ।আজ দেখলাম ফেস বুক লাইভ করে সেটা স্বীকারও করেছেন । ধন্যবাদ । বাম ডান নেতা নেত্রীরা ইস্যু টাকে ধরতে পরি মরি করে ছুটেছেন । এই পর্যন্ত সব ঠিক আছে । কিন্তু প্রশ্ন আরো আছে যেগুলো অ্যাড্রেসড হওয়া দরকার ।
তিনি লিখেছেন,গত ১৫ বছর বা তার আগের ৩৪ বছর এই গরিব নিয়ে খেলা চালু রেখেছিলেন কেন ? কেন কলকাতা বা মফস্বলের শহর গুলো ফুটপাথ দখল বন্ধ করেনি সেই সময়ের সরকার গুলো ? কেন ? ঠিক কোথায় অসুবিধে ছিল ?
এরপর তিনি লিখেছেন,আজ একটি কাহিনী লিখি । কলকাতা গ্যালিফ স্ট্রিট । বুদ্ধবাবুর সরকার কেন্দ্রীয় অর্থ সাহায্যে খাল পাড়ে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হকার্স জোন করে শ্যামবাজারের হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করল । হিসেব মত প্রায় সাড়ে চার ‘শ দোকান ঘর তৈরি হল । শিফটিংয়ের আলোচনা শুরু হতেই হকারদের নিয়ে আন্দোলনে নেমে পড়ল মমতা । তৃণমূল বিদ্রোহে নামল । সব থেকে অবাক করা ঘটনা হল সিটু বিদ্রোহী হয়ে একই সঙ্গে বাধা দিতে নেমে পড়ল । কালীঘাট আর আলিমুদ্দিন এক সঙ্গে নেমে পড়েছিল । ভুলে যাব ? শ্যামবাজারের হকার সরানো চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল । কে ঠকল ? কারা ঠকলো ? কে উত্তর দেবে ? কেন এই অসভ্যতা হল ? শহর কলকাতাকে এইভাবে ঠকানোর আরো ঘটনা কাল লিখব । নজর রাখবেন ।।
