এইদিন ওয়েবডেস্ক,ফরিদপুর,২৩ আগস্ট : বাংলাদেশের ফরিদপুরে পদ্মা নদী থেকে দুই হাতে শাঁখা-চুড়ি,সিঁথিতে সিঁদূর ও পায়ে নূপুর পরিহিত অজ্ঞাত এক নারীর অর্ধগলিত ও বীভৎস মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসার পর গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে জেলা সদরের আলীয়াবাদ ইউনিয়নের সাদিপুর বাজার সংলগ্ন নদী থেকে নৌ-পুলিশ দেহটি নদীর পাড়ে তোলে। উদ্ধার হওয়া নিহত নারীর বয়স আনুমানিক ৩৮ বছর। তাঁর শরীরে রয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের ধর্মীয় প্রতীক শাঁখা, নূপুর এবং বাম হাতে ধর্মসংক্রান্ত বিষয়ের ট্যাটু। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত নৃশংস ও নির্মম প্রকৃতির। নিহতের গলা কাটা অবস্থায় ছিল । শুধু তাইই নয়, গলা থেকে নাভি পর্যন্ত বিভৎসভাবে চিড়ে দেওয়ার পর সেলাই করা ছিল, যা কোনো সুপরিকল্পিত নৃশংসতার ইঙ্গিত দেয়। ঘটনাটি সাধারণ কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং নির্মম নির্যাতন করে হত্যার পর প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নৌ-পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আনুমানিক ৫ থেকে ৬ দিন আগে দুর্বৃত্তরা মহিলাকে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়। হাতের আঙুলগুলো পচে যাওয়া ও জলজ প্রাণী মাংস খেয়ে নেওয়ার কারনে হাড় বেরিয়ে এসেছে৷ যেকারণে তাৎক্ষণিকভাবে বায়োমেট্রিক বা ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই ধরনের বর্বরোচিত ঘটনা বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতাকে চরমভাবে প্রকাশ করে। মানবাধিকার রক্ষায় এবং নিহতের সনাতনী পরিচয় ও মানবাধিকার সুনিশ্চিত করতে অবিলম্বে এই নৃশংসতার পেছনে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি উঠছে । পুলিশ আজ রবিবার সকালে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। অজ্ঞাত এই নারীর সঠিক পরিচয় এবং জড়িত ঘাতকদের গ্রেপ্তারে পলিশ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থার দাবি তুলছেন স্থানীয় হিন্দুরা ৷।
