এইদিন ওয়েবডেস্ক,মুর্শিদাবাদ,২২ আগস্ট : ১১ বছরের কিশোরকে যৌন নির্যাতন করে খুনের ঘটনায় ৩ অভিযুক্তকে পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারা এবং বিএনএস এর ১০৩(৫) ধারায় আমৃত্যু কারাবাসের সাজা দিলেন মুর্শিদাবাদের লালবাগ এডিজে জিতেন্দ্র গুপ্তা তিন ব্যক্তিকে আদালত । সাজাপ্রাপ্তরা হল : সুভাষ চন্দ্র দাস, সঞ্জয় মণ্ডল ও সুফল কুমার দাস । তাদের বাড়ি লালগোলা থানার জগন্নাথপুর গ্রামে । তিন আসামিকেই আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার পাশাপাশি মাথাপিছু ২৫,০০০ টাকা করে জরিমানা এবং নির্যাতিতার পরিবারকে ৩,০০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত৷
আদালতে সূত্রে জানা গিয়েছে,২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর লালগোলা থানার জগন্নাথপুর গ্রামের এক নাবালক সন্ধ্যা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যায়। পরদিন সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি পুকুরের ধারে ওই নাবালকের দেহ উদ্ধার হয়। লালগোলা থানার পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় । ময়নাতদন্তে সামনে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মৃত্যুর আগে বালকটিকে যৌন নির্যাতন করা হয় এবং তারপরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় ।পাশাপাশি ওই নাবালকের শরীরের বিভিন্ন অংশের সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়ার চিহ্নও ছিল।
নাবালকের দেহ উদ্ধারের পর তার মা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, দেহ উদ্ধারের আগের দিন তার দুই ছেলে বাড়ির কাছে একসঙ্গে খেলছিল। বিকেল পাঁচটা নাগাদ তার বড় ছেলের টিউশন পড়তে যাওয়ার কথা ছিল। সেদিন রাত হয়ে গেলেও টিউশন থেকে সে বাড়ি না ফেরায় তার খোঁজ শুরু হয়। এলাকার বিভিন্ন জায়গা তল্লাশি করেও সেদিন ওই নাবালকের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরের দিন ওই নাবালকের দেহ বাড়ির কাছেই একটি পুকুরের পাশে পাওয়া যায়।
এই ঘটনায় মামলা দায়ের হলে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান যথাক্রমে ওই থানার অফিসার সাব-ইন্সপেক্টর বিশ্বজিৎ দাস এবং পরবর্তীতে সাব-ইন্সপেক্টর কল্যাণ সাধন সিংহ। পুলিশ প্রথমে ৭৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। যদিও পরবর্তীকালে ওই ব্যক্তির নাম চার্জশিট থেকে বাদ যায়। শেষ পর্যন্ত খুনের ঘটনার প্রায় আড়াই মাস বাদে এই নৃশংস বর্বরোচিত কাণ্ডের তিন মূলচক্রি জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা সুভাষ চন্দ্র দাস, সঞ্জয় মণ্ডল ও সুফল কুমার দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ৷ পুলিশের জেরায় তারা নিজেদের অপরাধের কথা কবুল করে ।শুক্রবার মুর্শিদাবাদের লালবাগ এডিজে আদালত তিনজন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করে আজীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে । বিশেষ সরকারি আইনজীবী কুনাল ঘোষ বলেন, ‘দোষী সাব্যস্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সঞ্জয় মন্ডলের বিরুদ্ধে ২০১১ সালেও এক মহিলাকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছিল।’।
