এইদিন ওয়েবডেস্ক,বীরভূম,১৮ আগস্ট : বিখ্যাত হিন্দুতীর্থ বীরভূমের তারাপীঠের ‘বিদেশিনী’ হোটেলে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে এখনো পর্যন্ত দুই শিশু সহ মোট ৯ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে । যার মধ্যে ৫ জন মেঘালয়ের একই পরিবারেরই সদস্য। তাঁরা হোটেলের শীর্ষতলে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ মোট ২২ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালেও ৯ জনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি । এই ঘটনায় হোটেলের মূল মালিক কল্যাণ পালকে আগেই গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। এবারে সোমবার মধ্যরাতে গ্রেপ্তার করা হল হোটেল মালিকের বাবা প্রবীর পালকেও । বাবা-ছেলে মিলেই ওই হোটেলটি পরিচালনা করতেন বলে জানা গেছে ।
তারাপীঠ থানার অদূরেই একটি পুকুর পাড়ে রয়েছে ওই হোটেলটি । ঘটনার সময় হোটেলে মোট ৪৩ জন উপস্থিত ছিলেন। গ্রাউন্ড ফ্লোরে শর্ট সার্কিট থেকে হঠাৎ আগুন ছড়ায় । ফাইবারের অন্দরসজ্জা থাকায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো হোটেলে ছড়িয়ে পড়ে। ভোরের দিকে ঘটনাটি ঘটায় তখন সকলেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন । শর্ট সার্কিটের পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় অন্ধকার নেমে আসে এবং হোটেলের জরুরি বেরোনোর পথ চেনা কঠিন হয়ে পড়ে। রিসেপশনের দিকেই আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে ভয়াবহ বিপত্তির মুখে পড়েন আবাসিকরা।
পরে দমকল ও তারাপীঠ-রামপুরহাট থানার পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে । অধিকাংশের খোঁজ মিললেও কয়েকজন এখনও নিখোঁজ। প্রাণ বাঁচাতে তাঁরা পিছনের পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করতে আজ মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ।একই সঙ্গে হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আইনমাফিক ছিল কি না এবং আবাসিকদের অভিযোগ অনুযায়ী পিছনের দরজাটি বন্ধ কেন রাখা হয়েছিল,খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।।
