এইদিন ওয়েবডেস্ক,পাঞ্জাব,০৭ আগস্ট : পাকিস্তান-সমর্থিত একটি সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রে বড় ধরনের সাফল্যের ঘোষণা করার মাত্র কয়েকদিন পরেই পাঞ্জাব সরকারের পক্ষ থেকে অমৃতসরের পুলিশ কমিশনার গুরপ্রীত সিং ভুল্লারকে বদলি করার ঘটনাটি তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে এবং এই প্রশাসনিক পদক্ষেপের সময় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
ভুল্লার সম্প্রতি একটি সন্ত্রাসী মডিউলের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে চার নাবালকসহ নয়জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা করতে গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য রেখেছিলেন। পুলিশ দাবি করেছে, দলটি পাকিস্তান-ভিত্তিক আইএসআই হ্যান্ডলারদের নির্দেশে কাজ করছিল। অভিযান চলাকালে কর্মকর্তারা তিনটি পিস্তল, নয়টি তাজা কার্তুজ এবং চারটি পেট্রোল বোমার বোতল উদ্ধার করেন। তদন্তকারীরা আরও অভিযোগ করেছেন যে, অভিযুক্তরা সংবেদনশীল নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোর রেকি করছিল।
৪ঠা আগস্ট একটি সাংবাদিক সম্মেলনে ভুল্লার জানান যে, তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে ধৃতদের মধ্যে কয়েকজন দিল্লির যন্তর মন্তরে গিয়েছিল, ওই এলাকায় নজরদারি চালিয়েছিল এবং পেট্রোল বোমা ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল। এই মন্তব্যের পর মামলাটি জাতীয় পর্যায়ে মনোযোগ আকর্ষণ করে। জাতীয় রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে একটি কথিত সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্র নিয়ে যখন তীব্র তদন্ত চলছে, ঠিক তখনই তিনি এই মন্তব্য করেন।
তবে, পাঞ্জাব সরকার শীঘ্রই একটি স্পষ্টীকরণ জারি করে জানায় যে, ভুল্লার এমন দাবি করেননি যে অভিযুক্তরা যন্তর মন্তর বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী ছিলেন অথবা বিক্ষোভকারীদের নিজেদের কথিত সন্ত্রাসী মডিউলের সাথে কোনো সংযোগ ছিল। সরকার দাবি করে যে, পুলিশ কমিশনারের মন্তব্যের নির্বাচিত অংশ সম্পাদনা করে বিক্ষোভকারীদের অভিযুক্তদের সাথে যুক্ত করে একটি বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি করা হয়েছে।
বিতর্কের কয়েক দিনের মধ্যেই পাঞ্জাব সরকার ভুল্লারকে অমৃতসর পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে বদলি করে দেয়। যদিও তদন্ত সংক্রান্ত তাঁর মন্তব্যের সঙ্গে এই বদলির কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ উল্লেখ করা হয়নি, তবে ঘটনাক্রম এই জল্পনাকে উস্কে দিয়েছে যে বিতর্কটি এই সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে কি না।
এই বদলিটি রাজনৈতিক রূপও নিয়েছে। বিরোধী নেতারা দীর্ঘদিন ধরেই ভুল্লারের বিরুদ্ধে শাসক দল আম আদমি পার্টির (এএপি) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখার অভিযোগ করে আসছেন এবং প্রায়শই তাঁকে রাজ্য সরকারের “বর্ধিত বাহু” হিসেবে আখ্যা দেন।
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী রভনীত সিং বিট্টু এই বদলির সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বিষয়টি আরও নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। বিট্টু বলেন,’গুরপ্রীত ভুল্লারের বদলির সময়টি অবশ্যই প্রশ্ন তুলবে। কথিত জন্তর মন্তর ষড়যন্ত্র নিয়ে তাঁর সঠিক তথ্য প্রকাশ কি কেজরিওয়ালকে সমস্যায় ফেলেছিল?’
রদবদলের কারণ নিয়ে পাঞ্জাব সরকার নীরব থাকায় ভুল্লারের বদলি বিতর্ক সৃষ্টি করে চলেছে, বিশেষ করে একটি বহুল আলোচিত সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান এবং তার প্রকাশ্য মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিতর্কের পরপরই এই ঘটনাটি ঘটায়।।
