এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,০৫ আগস্ট : বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের পর ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়া প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার একাধিক ফৌজদারি মামলার সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে ফিরে আসার অঙ্গীকার করেছেন। বিগত দুই বছর ধরে ভারতে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা আজ প্রথমবারের মতো এক সাংবাদিক সম্মেলন করে অভিযোগ করেছেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের ছাত্র বিক্ষোভ তাঁর সরকারকে উৎখাত করার একটি ষড়যন্ত্রের অংশ। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের প্রধান মহম্মদ ইউনূস ষড়যন্ত্রের সত্যতা প্রকাশ করেছেন এবং ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার সরকারের শুরু করা হিংসার তদন্ত স্থগিত করেছে।
নয়াদিল্লি থেকে ভার্চুয়ালি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় হাসিনা চরমপন্থী ও বিদেশি মদতপুষ্ট শক্তিকে তাঁর নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার জন্য সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হাইজ্যাক করার অভিযোগ করেছেন।তিনি বলেন,’আমি আমার দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার কী হবে তা নিয়ে আমি পরোয়া করি না। আমাকে হত্যা করা হোক, আমাকে কারারুদ্ধ করা হোক। আমি আমার জনগণের কাছে ফিরে যাব। আমার প্রিয় দেশবাসী যখন কষ্ট পাচ্ছে, তখন আমি দূরে থাকতে পারি না। আমি ডিসেম্বর মাসে ফিরতে চাই, আমি শীঘ্রই তারিখটি ঘোষণা করব ।’ তিনি আরও বলেন, তার ফিরে আসার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো জনগণের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা করা।
তাঁর সরকার সংলাপ, আইনি প্রক্রিয়া ও ধৈর্যের মাধ্যমে সংরক্ষণ সংস্কার আন্দোলন নিরসনে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু সংগঠিত গোষ্ঠীগুলো নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য এই আন্দোলনকে অপব্যবহার করেছিল।
হাসিনা অভিযোগ করেছেন যে, তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর হাজার হাজার আওয়ামী লীগ নেতা, কর্মী ও সমর্থক, পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক, আইনজীবী, বিচারপতি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৪ আন্দোলন শেষ পর্যন্ত “সংবিধানের ওপর একটি সমন্বিত আক্রমণে” পরিণত হয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও বেদনা প্রকাশ করে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন,’গত দুই বছর ধরে আমার প্রিয় বাংলাদেশ যে দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা আমি দেখে আসছি। এটা সেই বাংলাদেশ নয় যা আমরা গড়ে তুলেছিলাম এবং এই ধরনের দেশের জন্য ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ জীবন উৎসর্গ করেননি।’।
