এইদিন ওয়েবডেস্ক,বর্ধমান,০১ আগস্ট : বর্ধমান শহরের রেনেসাঁ কমপ্লেক্সে পাকিস্তানি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জইশ-ই- মহম্মদের সদস্য ধৃত হামিম মন্ডলের বান্ধবীকে গ্রেফতার করল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাক্স ফোর্স(এসটিএফ) । অর্পিতা সরকার নামে এই মহিলাকে ঝাড়খণ্ড এর সাহেবগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসটিএফ-এর সূত্রের খবর, হামিমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল তার । ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম সহ একাধিক সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাযোগ ছিল তাদের । অর্পিতাকে মূলত ‘ফাঁদ’ হিসাবে ব্যবহার করা হত। হানিট্র্যাপের মাধ্যমে অপহরণ করার ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ পেত অর্পিতা সরকার ।
তদন্তে এসটিএফ জানতে পেরেছে,হামিম মন্ডল ও অর্পিতা সরকারের পাকিস্তান থেকে শাহজাদ ভাট গোষ্ঠীর মারফত নির্দেশই আসত । গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিশানা করে, তাঁদের যাবতীয় খুঁটিনাটি তথ্যের উপর নজরদারি চালিয়ে, এরপর মধুচক্রের মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে অপহরণ, এমনকী কাদের টার্গেট করা হবে, অপারেশনের আগে কীভাবে রেইকি করতে হবে প্রভৃতি নির্দেশ দেওয়া হত তাদের । তাদের জেরা করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। হামিমকে আপাতত ১৪ দিনের এসটিএফ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।শুক্রবারই তাকে বর্ধমান থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয় ।
শুক্রবার হামিমকে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের কাছে বর্ধমানের অভিজাত আবাসন ‘রেনেসাঁ কমপ্লেক্স’ থেকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। আইএসআই-এর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের সূত্র মিলেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে এসটিএফের দাবি। এসটিএফ সূত্রে খবর, হামিমকে জেরা করে অর্পিতার নাম জানা যায়। তিনি কী করতেন, গোটা চক্রে তাঁর কী ভূমিকা ছিল, জানতে পারেন তদন্তকারীরা। তার পর রাতেই ঝাড়খণ্ডে অভিযান চালানো হয় এবং অর্পিতা পাকড়াও করা হয় । সেখান থেকে তাঁকে বর্ধমান থানায় নিয়ে আসা হয়। শনিবার আদালতে হাজির করানো হবে অর্পিতাকে।
হামিমের বাড়ি পূর্ব বর্ধমান জেলার মন্তেশ্বর থানার কুসুমগ্রামে। হাওড়ার পিলখানা এলাকায় একটি রেডিমেড জামাকাপড় তৈরির কারখানায় বারকোড লাগানোর কাজ করতেন সে । রাজ্যের বিধানসভার ভোটের ঠিক আগেই বর্ধমান শহরের রেনেসাঁ কমপ্লেক্সে বাবা-মা ও হামিদরা ৩ ভাইবোন ভাড়ায় আসে । সেখানে বসেই সে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে হত্যার ছক কষছিল বলে সন্দেহ গোয়েন্দাদের ।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, হামিমকে ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিজেপি এবং আরএসএস নেতার খবরাখবর সংগ্রহ করার পরিকল্পনা ছিল আইএসআই-এর। সেই উদ্দেশ্যে একটি নেটওয়ার্কও গঠন করা হয়েছিল। তবে আইএসআই-এর পরিকল্পনামাফিক হামিম এই বিষয়ে ঠিক কী ভূমিকা নিয়েছিলেন, তা এখনও পুরো স্পষ্ট নয় । তার মোবাইল, ল্যাপটপ থেকে শুভেন্দু অধিকারী-সহ একাধিক রাজনীতিবিদের গতিবিধির খবরাখবর পাওয়া গিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী যে রাস্তা ধরে নিউটাউনের ফ্ল্যাটে ফিরতেন, সেখানে রেকিও করেছিল হামিম। আজ এসটিএফ কলকাতায় সাংবাদিকদের এই সন্ত্রাসী চক্রের বিষয়ে জানাতে চলেছে বলে আশা করা হচ্ছে । গতকালই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনাকে “অত্যন্ত সংবেদনশীল” ও “বিদেশের যোগ” থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছিলেন । এখন দেখার বিষয় রাজ্য পুলিশের তদন্তে ঠিক কি উঠে এসেছে এযাবৎ ।।
