এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,৩১ জুলাই : দেশের জাতীয় সঙ্গীত, ‘বন্দে মাতরম’, এখন আইনি সুরক্ষার আওতায় চলে এসেছে । সংসদের উভয় কক্ষ ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’ অনুমোদন করেছে। রাজ্যসভায় পাস হওয়ার পর, গত ৩০শে জুলাই লোকসভাও ধ্বনি ভোটে বিলটি পাস করে। বিলটি এখন রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর এটি দেশব্যাপী আইনে পরিণত হবে।
এই নতুন আইন অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে বন্দে মাতরমকে অসম্মান করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ এই গান গাওয়ায় বাধা দিলে তার তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা হতে পারে। বারবার একই অপরাধ করলে ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ড হবে। তবে, এই শাস্তি শুধুমাত্র ইচ্ছাকৃত অসম্মানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
এখন পর্যন্ত, ১৯৭১ সালের ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন’-এর অধীনে কেবল ত্রিবর্ণ পতাকা, সংবিধান এবং জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ আইনগতভাবে সুরক্ষিত ছিল। তবে, এই সংশোধনের ফলে ‘বন্দে মাতরম’ গানও এই আইনের আওতাভুক্ত হবে।এর অর্থ হলো, এখন থেকে জাতীয় সঙ্গীত বা ত্রিবর্ণ পতাকাকে অপমান করার মতোই জাতীয় সঙ্গীতকে অপমান করাও একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
নতুন আইনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, শুধুমাত্র যারা ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা করবে, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি কেউ প্রকাশ্যে বন্দে মাতরমকে উপহাস করে, এটি গাইতে বাধা দেয়, বা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো অনুষ্ঠানে বিঘ্ন ঘটায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা যেতে পারে। তবে, অনিচ্ছাকৃত ভুল বা অসাবধানতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে না।
এই সংশোধনী অনুসারে, দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে। তবে, যদি কোনো ব্যক্তি পূর্বে এই ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে থাকে এবং পুনরায় একই অপরাধ করে, তবে তাকে ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ডের সম্মুখীন হতে হবে।
সরকার কেন এই বিলটি আনলো?
কেন্দ্রীয় সরকারের মতে, ‘বন্দে মাতরম’ শুধু একটি গান নয়, বরং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও জাতীয় গর্বের প্রতীক। চলতি বছর গানটির ১৫০তম বার্ষিকী উদযাপন হচ্ছে ।সরকার মনে করে যে, স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় লক্ষ লক্ষ মানুষের মনে দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলা এই গানটির জাতীয় সঙ্গীত এবং ত্রিবর্ণ পতাকার মতোই আইনি সম্মান পাওয়া উচিত।
এই বিলটি হঠাৎ করে আসেনি। এর আগে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দিয়েছিল যে কোনও সরকারি অনুষ্ঠানে যেখানে জাতীয় সঙ্গীত এবং জাতীয় গান উভয়ই গাওয়া হবে, সেখানে প্রথমে ‘বন্দে মাতরম’ এবং তারপরে ‘জন গণ মন’ গাইতে হবে। মন্ত্রণালয় জাতীয় গানের ছয়টি স্তবকই গাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এখন, এই নির্দেশাবলীর জন্য আইনি ভিত্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে এই সংশোধনীটি আনা হয়েছে।
এই বিলটি লোকসভায় এমন এক সময়ে পাস হয়েছে যখন বিরোধী দলগুলি নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে ক্রমাগত সরকারকে কোণঠাসা করছিল। বিরোধী সদস্যদের প্রতিবাদ ও হট্টগোলের মধ্যে সদনে ধ্বনি ভোটে বিলটি পাস হয়। এর আগে, রাজ্যসভায় বিলটি নিয়ে তীব্র বিতর্ক হয়েছিল এবং বেশ কয়েকটি বিরোধী দল সভা থেকে ওয়াকআউট করেছিল।
জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধন) বিল, ২০২৬-এর লক্ষ্য হলো ১৯৭১ সালের জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইনটি সংশোধন করা। এই আইনটি কার্যকর হলে, বন্দে মাতরম সেইসব জাতীয় প্রতীকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে, যার অবমাননা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
যে কেউ প্রকাশ্যে জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা করলে, ইচ্ছাকৃতভাবে তা গাইতে বাধা দিলে, বা একে নিয়ে উপহাস করলে, তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের দাবি, এই আইনের উদ্দেশ্য বিতর্ক উস্কে দেওয়া নয়, বরং জাতীয় সম্মান ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্যকে আইনি সুরক্ষা প্রদান করা। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলে সংশোধনীটি দেশব্যাপী কার্যকর হবে এবং এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ‘বন্দে মাতরম’ জাতীয় সঙ্গীতের সমান আইনি সুরক্ষা পাবে।।
