এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,৩০ জুলাই : ফেসবুক থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভিডিও বার্তা সাময়িকভাবে সরিয়ে ফেলার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কোনো প্রকার নমনীয়তা দেখাতে নারাজ বলেই মনে হচ্ছে। কেন্দ্র আবারও আমেরিকান প্রযুক্তি সংস্থা মেটা-র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তলব করেছে এবং দেশের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি ভিডিওটি কীভাবে প্ল্যাটফর্মটি থেকে সরানো হলো, সে বিষয়ে সংস্থাটির কাছে উচ্চপর্যায়ের ব্যাখ্যা চেয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২৩শে জুলাই। নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দেশজুড়ে চলমান ছাত্র বিক্ষোভের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর প্রথম জনসভায় ভাষণ দেন। ভিডিওটি প্রথমে ইনস্টাগ্রামে আপলোড করা হয়েছিল, যেখানে এটি ৪০৫ মিলিয়নেরও বেশি বার দেখা হয়েছে। পরে যখন একই ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করা হয়, তখন প্ল্যাটফর্মটি কিছু সময়ের জন্য এটি নিষিদ্ধ করে দেয়। তবে, ভিডিওটি পরে পুনরুদ্ধার করা হয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর মেটা জানায় যে, একটি অনিচ্ছাকৃত প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ভিডিওটি সরিয়ে ফেলা হয়েছিল এবং পরে তা পুনরুদ্ধার করা হয়। তবে, এই ব্যাখ্যায় কেন্দ্রীয় সরকার সন্তুষ্ট নয় বলেই মনে হচ্ছে।ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব এস. কৃষ্ণান জানিয়েছেন যে, সরকার মেটাকে তাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাঠিয়ে ঘটনাটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে বলেছে। সরকার জানতে চায়, কীভাবে এমন ভুল ঘটল এবং ভবিষ্যতে এটি প্রতিরোধ করার জন্য সংস্থাটি কী ব্যবস্থা নিয়েছে।
তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মেটা (Meta) সরকারকে জানিয়েছে যে, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে তারা প্রধানমন্ত্রীসহ বিশিষ্ট জন ব্যক্তিত্ব এবং সাংবিধানিক কর্মকর্তাদের অ্যাকাউন্টের জন্য নতুন নিরাপত্তা প্রোটোকল চালু করেছে। এই ঘটনাটি শুধু একটি ভিডিও সরিয়ে ফেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গত কয়েক বছর ধরে ভারত সরকার প্রধান প্রযুক্তি সংস্থাগুলির কন্টেন্ট মডারেশন নীতি, অ্যালগরিদম এবং জবাবদিহিতার বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছে।ফলস্বরূপ, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বার্তা সাময়িকভাবে সরিয়ে ফেলার বিষয়টি সরকারের জন্য একটি গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।।
