এইদিন বিনোদন ডেস্ক,৩০ জুলাই : নীতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ: পার্ট ১’- এর ট্রেলার আজ, ৩০শে জুলাই ভোর ৪:১৫ মিনিটে মুক্তি পেয়েছে। হিন্দু পৌরাণিক মহাকাব্য ‘রামায়ণ’ অবলম্বনে নির্মিত এই ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন রণবীর কাপুর, সাই পল্লবী এবং যশ। হিন্দি, কন্নড়, তেলুগু, তামিল ও মালয়ালমসহ বিভিন্ন ভাষায় ট্রেলারটি উন্মোচন করা হয়েছে।
ট্রেলারটি শুরু হয় যশের রাবণের লঙ্কার রাজা হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের দৃশ্য দিয়ে। অযোধ্যায় ভগবান রামের জীবন দিয়ে শুরু হওয়া রামায়ণের কাহিনীটি কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
রাবণ যখন জগতে বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটায়, তখন ভগবান বিষ্ণু পৃথিবীতে ধর্ম প্রতিষ্ঠা ও ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য শ্রীরাম রূপ ধারণ করেন।এরপর আমাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় ভগবান রামের সাথে, যাঁর চরিত্রে অভিনয় করেছেন রণবীর কাপুর। ট্রেলারে রামের শৈশব থেকে শুরু করে, যেখানে তিনি অসুরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে প্রজাদের রক্ষা করেন, তাঁর যৌবন এবং পরবর্তীতে সীতার সাথে তাঁর বিবাহের দৃশ্য দেখানো হয়েছে।
এরপর রাম ও সীতার জীবনে এক সন্ধিক্ষণ আসে। রামকে ১৪ বছরের বনবাসে যেতে হয়। সাই পল্লবী অভিনীত সীতা এবং রবি দুবে অভিনীত লক্ষ্মণও রামের সঙ্গে বনবাসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।ট্রেলারটি শেষ হয় রাবণের সীতা অপহরণ, তার ফলস্বরূপ রাম ও রাবণের মধ্যে সংঘটিত মহাযুদ্ধ এবং ধর্ম ও অধর্মের মধ্যকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংঘাতের প্রেক্ষাপট প্রস্তুত হওয়ার দৃশ্য দিয়ে।
কৈকেয়ী চরিত্রে লারা দত্ত, সুর্পনাখা রাকুল প্রীত সিং এবং দশরথ মহারাজের চরিত্রে অরবিন্দ গোভিল তাদের ভূমিকার প্রতি সুবিচার করছেন বলে মনে হয়।পুরস্কার বিজয়ী গল্পকার শ্রীধর রাঘবন ছবিটির চিত্রনাট্য লিখেছেন, এবং অস্কার বিজয়ী সঙ্গীত পরিচালক হান্স জিমার ও এ. আর. রহমান এর সঙ্গীত রচনা করেছেন। এই ছবিটি পূর্ব ও পশ্চিম সিনেমার অন্যতম বৃহৎ একটি যৌথ প্রয়াস হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রযোজক ও ক্রিয়েটিভ আর্কিটেক্ট নমিত মালহোত্রা বলেন, “রামায়ণ শুধু আমাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মহাকাব্যই নয়; এটি আমাদের জীবনধারা, আমাদের উৎসব এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বয়ে চলা মূল্যবোধের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বার্ষিক দশেরা ও দীপাবলি উৎসব লক্ষ লক্ষ মানুষকে অন্ধকারের উপর আলোর এবং অধর্মের উপর ধর্মের বিজয়ের বার্তার কথা মনে করিয়ে দেয়। হাজার হাজার বছর পরেও মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে এমন গল্প বিরল। রামায়ণ এমনই এক বিরল মহাকাব্য।”
বিশ্ব চলচ্চিত্র শিল্পে বহু বছরের অভিজ্ঞতার পর আমি বিশ্বাস করি যে, ভারতের সেরা গল্পগুলো বিশ্বের বৃহত্তম মঞ্চে তুলে ধরা উচিত। আজ আমাদের কাছে তা করার জন্য শিল্পী, প্রযুক্তি, দক্ষতা এবং সম্মিলিত সংকল্প রয়েছে। আমরা এই অসাধারণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তার সমস্ত মর্যাদা, জাঁকজমক এবং চলচ্চিত্রীয় গুণমান সহকারে বিশ্বজুড়ে তিনি তিনি বলেন,দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রস্তুত ।”
এটি শুধু একটি চলচ্চিত্রের সূচনা নয়; এটি বিশ্বের কাছে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐশ্বর্য তুলে ধরার এক যাত্রার সূচনা। ভারত বরাবরই এই কাহিনিকে ধারণ করে এসেছে। এখন তা বিশ্বের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া আমাদের সৌভাগ্য ।
চলচ্চিত্রটির পরিচালক নিতেশ তিওয়ারি বলেছেন, “রামায়ণ বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাহিনী, এর জাঁকজমকের জন্য নয়, বরং এটি যে শাশ্বত মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে তার জন্য। একজন পরিচালক হিসেবে এটিকে সর্বজনীন করে তোলা আমার দায়িত্ব ছিল না; এটি ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। আমার দায়িত্ব হলো এটিকে সততা, বাস্তবতা এবং অপরিসীম শ্রদ্ধার সাথে পর্দায় তুলে ধরা।”
তিনি বলেন,”চিত্রনাট্য, শিল্পীদের অভিনয়, প্রোডাকশন ডিজাইন, সঙ্গীত, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস থেকে শুরু করে পর্দার প্রতিটি ফ্রেম পর্যন্ত আমাদের নেওয়া প্রতিটি সৃজনশীল সিদ্ধান্তের পেছনে একটিই উদ্দেশ্য ছিল। আমাদের লক্ষ্য ছিল এই মহান ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং সর্বোৎকৃষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে তা দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া” ।
নিতেশ তিওয়ারি বলেছেন,”বিশ্বের সেরা শিল্পী, প্রযুক্তিবিদ এবং গল্পকারদের সাথে এই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান। আমি আশা করি, দর্শকবৃন্দ শুধু রামায়ণের দৃশ্যগত সৌন্দর্যই নয়, বরং এর আবেগ, মানবিকতা এবং হাজার হাজার বছর ধরে টিকে থাকা শাশ্বত চেতনারও অভিজ্ঞতা লাভ করবেন।”
নীতেশ তিওয়ারি পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি নমিত মালহোত্রার প্রাইম ফোকাস স্টুডিওস, আটবার অস্কারজয়ী ভিএফএক্স সংস্থা ডিএনইজি এবং যশের মনস্টার মাইন্ড ক্রিয়েশনসের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে। ‘রামায়ণ: পার্ট ১’ দিওয়ালিতে বিশ্বব্যাপী মুক্তি পেতে চলেছে।।
