এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,২৯ জুলাই : আমেরিকা ও সৌদি আরব মিলে ইরাকে ইরান-সমর্থিত সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের সামরিক হামলা শুরু করেছে । দেশ দুটি যৌথভাবে ইরাকের বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকটি স্থানে হামলা চালিয়েছে।মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মতে, বারবার ড্রোন হামলার জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যেখানে গত তিন দিনে ৩০টিরও বেশি ড্রোন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল। তবে, যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সব ড্রোন হামলা ব্যর্থ করে দিয়েছে।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, এই হামলার পর ইরাকের পপুলার মবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) জানিয়েছে যে তাদের অন্তত ২০ জন যোদ্ধা নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছে। পিএমএফ হলো ইরান-সমর্থিত বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর একটি জোট। সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে একটি “বিপজ্জনক হামলা” বলে অভিহিত করেছে।
এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সমর্থনে মার্কিন সৈন্য এবং সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার প্রস্তুতির জন্য আক্রান্ত ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করা হচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো মার্কিন-সম্পর্কিত স্থাপনাগুলোর ওপর ৬০০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। একই দিনে, ইরান জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মাঝ আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে। এর পর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব ইরাকে পাল্টা হামলা চালায়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে ইরাকি সরকার একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব জানিয়েছে যে, তাদের সৈন্য বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে আবারও হামলা হলে একই ধরনের সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।।
