রাহুল রায়,কাটোয়া(পূর্ব বর্ধমান),২৮ জুলাই : কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত মাঠ-ঘাট । চারিদিকে থইথই করছে জল । তারই মাঝে দাঁড়িয়ে আছে নীল-সাদা রঙ করা একটি সরকারি ভবন । আর ভবনটি হল পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া-২ নম্বর ব্লকের শ্রীবাটী গ্রাম পঞ্চায়েতের মুল্টিগ্রামের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ৷ কেন্দ্রটি বর্তমান সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে আছে । রাস্তা ও পানীয় জলের কোনো ব্যবস্থা না করে অপরিকল্পিত ভাবে ভবনটি নির্মান করেছিল পূর্বতন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতারা । ফলে চলতি বর্ষার মরশুমে প্লাবিত হয়ে যাওয়ায় কেন্দ্রে পৌঁছানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উঠছে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন । বিজেপির সন্দেহ, ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি নির্মানে আর্থিক অনিয়ম হয়েছিল ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় আড়াই বছর আগে মাঝ মাঠে সরকারি অর্থে মুল্টিগ্রামের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের ভবনটি নির্মিত হয় । কিন্তু আজ পর্যন্ত সেখানে নিয়মিত পরিষেবা শুরু করা সম্ভব হয়নি । কারন উপযুক্ত রাস্তা নেই, পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই এবং বিদ্যুৎ সংযোগও করা হয়নি । ফলে শিশুদের জন্য নির্মিত ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে । বিগত প্রায় ২৪ বছর ধরে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী শোভা দাস নিজের বাড়ি থেকেই কেন্দ্র পরিচালনা করতে বাধ্য হচ্ছেন । কচিকাঁচাদের পঠনপাঠন থেকে শুরু করে মিডডে মিলের আয়োজন সব নিজের বাড়িতেই করতে হচ্ছে শোভাদেবীকে ।
এ প্রসঙ্গে কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সদস্য স্বপন কুমার দত্ত বলেন, সরকারি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তা নেই, পানীয় জল ও বিদ্যুতেরও ব্যবস্থা নেই। গ্রামবাসীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি আমি জানতে পারি ।’ তিনি আরও বলেন,’ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের ভবন নির্মাণের সময় কোনো ধরনের অনিয়ম বা কাটমানি নেওয়া হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।’ পাশাপাশি তিনি জানান, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চালু করা এবং সেখানে যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণের দাবিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হবে।
এলাকাবাসীর দাবি,অবিলম্বে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি চালু করা হোক, প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা হোক এবং শিশুদের স্বাভাবিকভাবে শিক্ষা ও পুষ্টি পরিষেবা নিশ্চিত করা হোক। এখন এই কেন্দ্রটি চালু হয়ে শিশুদের জন্য দরজা খুলবে সেদিকেই নজর সকলের ।।

