এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৪ জুলাই : নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদের নামে দিল্লিতে কার্যত তান্ডব চালাচ্ছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) । আহত শতাধিক পুলিশকর্মী৷ ঠিক একই কায়দায় কলকাতা হিংসা ছড়ানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠল হঠাৎ গজিয়ে ওঠা ওই দলটির বিরুদ্ধে । ‘আরশোলা’দের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল বামপন্থীরাও । আজ শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ের কাছে অবস্থান বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোড়া হল ইঁট,জুতো- জলের বোতল। এমনকী পুলিশের গায়ে জলও ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। উঠল ‘বহিরাগত’দের ষড়যন্ত্রের অভিযোগও। পালটা আত্মরক্ষার্থে পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যায়।
আজ শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলায় মিছিলের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি), এসএফআই, এআইডিএসও, আইসাসহ বামপন্থী বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনগুলি ।মিছিলটি ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ের কাছে পথ অবরোধ করলে পুলিশ ভিড় হটাতে তৎপর হয় । সেই সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইঁট,জুতো- জলের বোতল ছুড়তে শুরু করে ‘আরশোলা’ ও বামপন্থীদের দল । পালটা আত্মরক্ষার্থে পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যায়।তাতেই ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় ‘আরশোলা’দের বিক্ষোভ। এনিয়ে কার্যত রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে ডোরিনা ক্রসিং। রাস্তায় পড়ে কয়েকশো জুতো, জলের বোতল। পড়ুয়াদের মিছিল থেকে এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সামলাতে জলকামান ছোড়ে পুলিশ। অবিকল দিল্লির কায়দায় এই খবর করতে গিয়ে আক্রান্ত হতে হল সংবাদমাধ্যমকেও। এসবের জেরে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ধর্মতলা চত্বর। ব্যাহত হয় যান চলাচল।
সংবাদ প্রতিদিনকে মিছিলে আসা একজন ‘আরশোলা’ সংবাদমাধ্যমকে বলেছে,’আমি পড়ুয়া নই, একজন সাধারণ মানুষ। কিন্তু পড়ুয়াদের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে এসেছিলাম। এর জন্য প্রথমেই দেশের প্রধান বিচারপতিকে ধন্যবাদ, তাঁর মন্তব্যের জন্যই আজ গোটা ভারতের ছাত্রসমাজ এক হয়েছে। কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারলাম, এই মিছিলে অ্যান্টি- ন্যাশনালরা ঢুকে পড়েছে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ওরা জুতো, বোতল ছুড়ছিল। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামলায়। জানি না, শান্তিপূর্ণ একটা আন্দোলনের মধ্যে কারা ঢুকে এতটা বিশৃঙ্খলা তৈরি করল।’
‘আরশোলা’ ও বামপন্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করতে বাধ্য হয় । পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় বিশাল পুলিশবাহিনীর পাশাপাশি নামানো হয় র্যাফ। ছাত্র নেতৃত্বের সঙ্গে পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের দফায় দফায় আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চললেও এলাকায় দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনা বিরাজ করে ।
এদিকে এই হিংসার ঘটনায় যথারীতি আর এস এস -এর ঘাড়ে দায় চাপিয়েছে সিপিএম৷। সিপিএমের ফেসবুক পেজে লেখা হয়েছে,’আরএসএস-র একদল মিছিলের ভেতরে ঢুকে ঝামেলা পাকিয়েছে।’ আরও লেখা হয়েছে,’সংযোগ আটকাতে জ্যামার লাগিয়েছে পুলিশ। ধর্মতলা চত্বর জুড়ে ছাত্রদের পিছনে ধাওয়া করছে পুলিশ। রানি রাসমণি রোডের ব্যারিকেড করা ছিল। পুলিশ এখন ব্যারিকেড সরিয়ে নিয়েছে। এখানেই অবস্থান চলবে।’।
