এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৮ জুলাই : অভিষেক ব্যানার্জির পার্টি অফিসে চললো বুলডোজার৷ ডায়মন্ড হারবারের আমতলায় রয়েছে এই পার্টি অফিসটি । পাঁচতলা ওই ভবনটির একাংশ সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ । জেলা প্রশাসনের তরফে গত ৩০ জুন একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তাসত্ত্বেও নির্দিষ্ট দিনে অর্থাৎ গত বুধবার কার্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে শুনানিতে কেউ হাজিরা দেননি। এরপর অবৈধভাবে নির্মিত অংশ ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত হয় । আজ শনিবার সকালে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী সাথে এসে কার্যালয়ের অবৈধ অংশ বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলে প্রশাসন । বুলডোজার অভিযানের সময় “জয় শ্রীরাম” শ্লোগান তোলে বিজেপি কর্মীরা৷
জানা গেছে,২০১৭ সালে আমতলার এই কার্যালয় তৈরি হয়েছিল। এই কার্যালয়টি সরকারি জায়গা দখল করে বেআইনিভাবে তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ । দীর্ঘদিন ধরেই এই নিয়ে আইনি জটিলতা ও স্থানীয় স্তরে ক্ষোভ ছিল। স্থানীয়দের দাবি, এখানে আগে একটা বেকারি ছিল। সেটায় বছর ১৫ আগে রহস্যজনক ভাবে আগুন লাগে,আর তারপরই অভিষেক ব্যানার্জির অফিস তৈরি হয় । আজ শনিবার সকালে চূড়ান্ত অ্যাকশন মোডে ধরা দেয় প্রশাসন। কার্যালয়ের সামনে থাকা বেআইনি শেডটি ভেঙে ফেলার পর প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে ওই পাঁচতলা ভবনের আর কোন কোন অংশ ভাঙা হবে, তা এখনও স্পষ্ট করেনি প্রশাসন।
এর আগে ভবানীপুরের হরিশ মুখার্জি রোডে অভিষেক ব্যানার্জির বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’ বিল্ডিংয়েও বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ এনে কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে নোটিস পাঠানো হয়। পুরসভার পক্ষ থেকে বেআইনি অংশ ভাঙতে পৌঁছয় বুলডোজারও। বর্তমানে সেই মামলা হাইকোর্টে বিচারাধীন।পুরসভার নোটিসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেক কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, যেন কোনওরকম চূড়ান্ত পদক্ষেপ বা ভাঙচুরের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। সেই মামলাটি বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। হাইকোর্টের রায়ের ওপরই এখন নির্ভর করছে অভিষেক ব্যানার্জির ‘শান্তিনিকেতন’ ভবনের ভবিষ্যৎ । তবে কলকাতা শহরের অবৈধ নির্মান নিয়ে আগেও কলকাতা হাইকোর্ট নিজেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল । এখন যদি ভবানীপুরের হরিশ মুখার্জি রোডে অভিষেক ব্যানার্জির বাসভবনের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয় তাহলে আদালতের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে ।।
