যুব বিক্ষোভের আড়ালে বেশ কয়েকদিন ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে একটি রাজনৈতিক নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে। অভিজিৎ দীপকের প্রতিষ্ঠিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছে, যার উদ্দেশ্য বলে দাবি করা হচ্ছে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ শিক্ষা ব্যবস্থার একাধিক ত্রুটির বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জবাবদিহি চাওয়া।
তবে, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সোনম ওয়াংচুক , যিনি পূর্বোক্ত প্রস্তাবগুলোর সমর্থনে অনশন করছেন। তিনি নাকি ২৮শে জুন থেকে শুধু জল পান করে উপবাস করছেন ! তাই, আম আদমি পার্টির (এএপি) সঙ্গে কথিতভাবে যুক্ত সিজেপি, বামপন্থী সহ অন্যান্য বিরোধী দল এবং তাদের সমগ্র পরিমণ্ডলসহ চিরাচরিত প্রভাবশালী মহলগুলো তাঁকে এমন একটি আন্দোলনের নায়ক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, যেখানে মোদী সরকারকে খলনায়ক হিসেবে দেখানো হচ্ছে। তবে, তাঁরা সবাই ইচ্ছাকৃতভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন।
তিনি কী গঠনমূলক সমাধান, বিকল্প প্রস্তাব, বা যুক্তিযুক্ত সমালোচনা পেশ করছেন? এটা সত্যি যে সরকারের ত্রুটিবিচ্যুতির জন্য তাকে অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে, বিশেষ করে দেশের ভবিষ্যতের বিষয়ে। তথাপি, এই চ্যালেঞ্জগুলো নতুন বা অভূতপূর্ব নয়। এটি একটি পদ্ধতিগত সমস্যা যার জন্য প্রয়োজন একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ ও সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি, যা হবে রাজনৈতিক নাটকীয়তা বর্জিত এবং কোনো ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য ছাড়াই আন্তরিকভাবে শিক্ষার্থীদের উপর নিবদ্ধ। তবে, ওয়াংচুকের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য বলে মনে হয় না, যার একটি উল্লেখযোগ্য বিতর্কিত ইতিহাস রয়েছে ।
ছাত্রছাত্রীদের সমস্যা সমাধানের কর্মপন্থা বা সেগুলোর নিষ্পত্তিতে তিনি আসলে কী অবদান রাখতে পারেন, সে বিষয়ে স্বচ্ছতা চাওয়ার পরিবর্তে, তাঁকে মিথ্যাভাবে মহিমান্বিত করার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। প্রয়াত কংগ্রেস বিধায়কের ছেলে ওয়াংচুককে সম্প্রতি রাজকুমার হিরানির ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমার ফুংসুখ ওয়াংডুর বাস্তব জীবনের প্রতিমূর্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে , যদিও তিনি আগে এর বিপরীত বিবৃতি দিয়েছিলেন। অধিকন্তু, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং এই চরিত্রে অভিনয় করা আমির খানও নিশ্চিত করেছেন যে তাদের সিনেমাটি ওয়াংচুকের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত নয়।
ছাত্রদের অসুবিধার গুরুত্বকে উপহাস, রাজনৈতিক কৌশল এবং একটি সুস্পষ্ট প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। তবে, এটি ওয়াংচুকের একটি পুনরাবৃত্তিমূলক বিষয় বলে মনে হচ্ছে, যিনি আগেও একই ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে তিনি লাদাখের জন্য রাজ্যের মর্যাদা এবং এটিকে ভারতীয় সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে লেহ-তে অনশন ধর্মঘট শুরু করেছিলেন।
তবে, জাতীয় নিরাপত্তা আইন (এনএসএ)-এর অধীনে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে হয়েছিল, কারণ সেই মারাত্মক বিক্ষোভে স্থানীয় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং এতে ৪ জন নিহত ও আরও অনেকে আহত হন।
তৎকালীন লাদাখের পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি) এসডি সিং জামওয়াল জানান,“আমরা সম্প্রতি একজন পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে (পিআইও) গ্রেপ্তার করেছি, যিনি ওপারে গিয়ে তথ্য দিচ্ছিলেন। আমাদের কাছে এর রেকর্ড আছে। ওয়াংচুক পাকিস্তানে ‘ডন’-এর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশেও গিয়েছিলেন। সুতরাং, তাকে নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে। তদন্ত চলছে ।” তিনি উল্লেখ করেন যে, তার প্রতিবাদী মঞ্চ হিংসার অনুকূল একটি পরিবেশ তৈরি করেছিল, যা আগে থেকেই পরিকল্পিত ও সমন্বিত ছিল। তিনি আরও বলেন, “ওয়াংচুকের উস্কানি দেওয়ার ইতিহাস রয়েছে। তিনি আরব বসন্ত, নেপাল ও বাংলাদেশের কথা উল্লেখ করেছেন। বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন (FCRA) লঙ্ঘনের দায়ে তার অর্থায়ন সংক্রান্ত তদন্ত চলছে।”
লেহ-এর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিলেন, “আটকের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওয়াংচুক রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সমাজের জন্য অপরিহার্য সেবার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। আমি বন্দীর আটকাদেশে সন্তুষ্ট ছিলাম এবং এখনও সন্তুষ্ট আছি ।” স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করেছে যে , সহকর্মীদের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি তাঁর বর্তমান একগুঁয়েমির মতোই অনশন চালিয়ে গেছেন এবং “আরব বসন্ত ও নেপালের জেন জি বিক্ষোভের মতো প্রতিবাদের উস্কানিমূলক উল্লেখ করে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছেন।” ওয়াংচুক অবশেষে মার্চ মাসে ১৭০ দিন পর যোধপুর জেল থেকে মুক্তি পান। তার কার্যকলাপ তার উদ্দেশ্যের সুস্পষ্ট প্রতিফলন এবং এমনকি ভবিষ্যতে কী ঘটতে পারে তার একটি সম্ভাব্য সতর্কবার্তাও বটে।
কে এই সোনম ওয়াংচুক?
সোনম ওয়াংচুক নাকি বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ বা 3 Idiots ছবির অনুপ্রেরণা—এমন ধারণা অনেকের মধ্যে রয়েছে। এগুলো সবই পরিকল্পিত প্রচার।বাস্তবে ওয়াংচুক একজন Ford Foundation (CIA)-এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি! 3 Idiots ছবিতে দেখানো হয়েছিল যে ‘র্যাঞ্চো’ একজন দরিদ্র মালীর ছেলে। বাস্তবে সোনম ওয়াংচুক একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য।তাঁর বাবা সোনম ওয়াংয়াল জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের কংগ্রেস নেতা ও মন্ত্রী ছিলেন।
অনেকেই মনে করেন, সোনম ওয়াংচুক উচ্চশিক্ষিত, বহু ডিগ্রিধারী, বিজ্ঞানী এবং বহু পেটেন্টের অধিকারী। কিন্তু বাস্তব হলো— ১৯৮৭ সালে তিনি NIT থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েন।তিনি কখনও কর্পোরেট বা সরকারি চাকরি করেননি।তিনি বিজ্ঞানী নন। তাঁর নামে কোনও পেটেন্ট নেই।তাঁর একমাত্র কাজের অভিজ্ঞতা অ্যাক্টিভিজম।
১৯৮৮ সালে তিনি Students Educational and Cultural Movement of Ladakh (SECMOL) প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৫ সালে শুরু করেন Operation New Hope । দাবি করা হয় যে তাঁর বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে—Ford Foundation,Tata Trusts,
DanChurchAid এবং Karuna Trust. এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিদেশি সংস্থার সমর্থন পেয়ে এসেছেন।
আশির দশকের শেষ বা নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তাঁর পরিচয় হয় মার্কিন নাগরিক রেবেকা নরম্যান-এর সঙ্গে এবং ১৯৯৬ সালে তাঁদের বিয়ে হয়।প্রশ্ন হল, কেন রেবেকা নরম্যানের প্রসঙ্গ মূলধারার সংবাদমাধ্যমে প্রায় অনুপস্থিত? রেবেকার সঙ্গে পরিচয়ের পর থেকেই সোনম ওয়াংচুকের জীবনে বড় পরিবর্তন আসে। রেবেকা নরম্যান পড়াশোনা করেছেন School for International Training (SIT) এবং Harvard University-তে। SIT একটি মার্কিন অলাভজনক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যার সঙ্গে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করা হয় । প্রতিষ্ঠানটি অর্থ পায়— Ford Foundation, George Soros Open Society Foundations এবং Bill & Melinda Gates Foundation.
বিয়ের পর থেকেই সোনম ওয়াংচুক বিভিন্ন বিদেশি সংস্থার বড় সমর্থন পেতে শুরু করেন।২০০২ সালে তিনি Ashoka Fellowship পান, যার অর্থায়নের সঙ্গে Skoll Foundation, Schwab Foundation ও Rockefeller Foundation-এর সম্পর্ক রয়েছে।২০০৪ সালে মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সোনম ওয়াংচুক কংগ্রেস সরকারের বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতা পান।তাঁকে Ladakh Hill Council Vision Document – Ladakh 2025-এর খসড়া প্রণয়ন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং শিক্ষা ও পর্যটন নীতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।২০০৫ সালে এই নথি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন মনমোহন সিং।
একই বছরে তাঁকে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের National Governing Council for Elementary Education-এর সদস্য করা হয়।
২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি ডেনমার্কের এনজিও Mellemfolkeligt Samvirke-এর শিক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন, যা ভারতের শিক্ষা মন্ত্রকের শিক্ষা সংস্কার প্রকল্পে সহায়তা করছিল।২০০৮ সালে কংগ্রেস সরকার চীনের সঙ্গে একটি গোপন সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করে।এরপর 3 Idiots মুক্তি পায়, যা মূলত চেতন ভগতের Five Point Someone উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত।
পরবর্তীকালে সংবাদমাধ্যমের একাংশ সোনম ওয়াংচুককে ছবিটির অনুপ্রেরণা হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করে, যদিও তাঁর সঙ্গে ছবিটির কোনও সম্পর্ক নেই।
২০১৬ সালে তিনি Fred M. Packard Award লাভ করেন, যা International Union for Conservation of Nature (IUCN) প্রদান করে।এই পুরস্কারের অর্থায়নের সঙ্গে Rockefeller, Pew ও Packard Foundation-এর সম্পর্ক রয়েছে।২০১৭ সালে তিনি T.N. Khoshoo Memorial Award পান, যা Ford Foundation-এর অর্থায়নে পরিচালিত।২০১৮ সালে তিনি Ramon Magsaysay Award লাভ করেন।এই পুরস্কার Rockefeller Brothers Fund-এর সঙ্গে যুক্ত এবং এটি বিশেষভাবে CIA-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া হয়।
সোনম ওয়াংচুক LEAD India নামের একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত, যা Ford Foundation-এর অর্থায়নে পরিচালিত হয় বলে দাবি করা হয় ।এছাড়া তিনি International Association for Ladakh Studies-এর সঙ্গেও যুক্ত, যারা লাদাখের সংস্কৃতি নিয়ে চার খণ্ডের একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছে।এই প্রকল্পেও Ford Foundation অর্থায়ন করেছে।
সোনম ওয়াংচুক নিজেকে জলবায়ু কর্মী (Climate Activist) ও শিক্ষা সংস্কারক হিসেবে পরিচয় দেন।তাঁর Ice Stupa প্রকল্প পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে প্রশংসিত হলেও স্থানীয় কিছু বাসিন্দা প্লাস্টিক বর্জ্য, জলপ্রবাহ পরিবর্তন এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন।
গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত সরকার লাদাখে অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করলে সোনম ওয়াংচুক লাদাখকে ষষ্ঠ তফসিল (Schedule VI)-এর আওতায় আনার দাবি জোরালো করেন।যদি লাদাখ ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্ত হয়, তাহলে ভারতীয় সেনাবাহিনী স্থানীয় কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া কোনও প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবে না।ওয়াংচুক ভারত-চীন সীমান্তে ভারতীয় সেনার কিছু প্রকল্পেরও বিরোধিতা করেছেন।
পরিশেষে, তিনি একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। তিনি কোনও সরকারি সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করেননি।তিনি শিক্ষক বা বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মজীবন গড়েননি। তাঁর জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে Ford Foundation থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থায়ন পেয়েছেন।তাঁর নামে কোনও উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার বা পেটেন্ট নেই।তাঁর সম্পর্কে প্রচলিত ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিদেশী প্রচারের ফল। ওয়াংচুক সম্পর্কে এই বিস্তারিত তথ্য নিজের ব্লগে তুলে ধরেছেন দিব্যেন্দু দালাল ।
লাদাখকে ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কেন এত মরিয়া সোনাম ওয়াংচুক ?
বিষয়টি নিয়ে নিজের পেজে বিস্তারিত লিখেছেন রাজকুমার দত্ত(https://www. face book.com/share/1HJhNoUMq7/) । তিনি লিখেছেন, সোনাম ওয়াংচুকের কর্মকাণ্ড জানতে আপনাকে পিছিয়ে যেতে হবে চীনের একটি বিলিয়ন ডলার প্রজেক্টের দিকে । সেটা হল মাইক্রো চিপ বানানোর প্রজেক্ট ।চীন প্রযুক্তি গত ভাবে তখনি বিশ্বে ছড়ি ঘোরাতে সক্ষম , যখন তারা মাইক্রো চিপ বানাতে স্ব নির্ভর হয়ে উঠবে । আপনি বলবেন , কি ব্যাপার সোনাম ওয়াংচুক কে নিয়ে কথা হচ্ছে , তাহলে এর মধ্যে আবার চীন কেনো ? কারন আছে ।
চীন কাশ্মীর এবং লাদাখের একদম সীমানাতে ( জিং জিয়ান প্রদেশে ) একটি মাইক্রো চিপস কারখানা গড়ে তুলেছে । কারখানাটির নাম — জি সি এল পলি এনার্জি হলোডিং । এরা মূলত পলি সিলিকন ওয়াইপার এবং পলি সিলিকন তৈরী করে । এরই একটি শাখা কম্পানি ( এম টি পলি সিলিকন ) আছে যারা কম খরচে সেই চিপস বাজারে রপ্তানি করে থাকে । এই কারখানা গুলি কাশ্মীর এবং লাদাখের সীমানায় জিং জিয়াং-এ । আর সেই কারনে চীন চায়না ভারত কোনো ভাবে লাদাখে কোনো রকম পরিকাঠামো বা রাস্তা-সেতু ইত্যাদি এবং মিলিটারি বেস ক্যাম্প তৈরী না করুক । বিশেষ করে মিলিটারি কর্মকাণ্ড ভারত না করুক লাদাখে ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, মাইক্রো চিপস তৈরিতে লাগে দুটি উপকরণ । এক -১০হাজার লিটার পরিশ্রুত জল এবং দুই বালি । এই পরিশ্রুত জল কোথা থেকে আসে? সেটা আসে চীনের বড় অংশের দখলে থাকা প্যাং গন লেকের মিষ্টি জল থেকে । এই প্যাং গ্যাং লেক নিয়ে চীনের সেনা আর ভারতের সেনা এই এলাকায় প্রায়ই সন্মুখ সমরে চলে আসে । আর বালি আসে চীনের কবলে অবৈধ ভাবে দখলে থাকা আখসাই চীন থেকে । কিন্তু এই মাইক্রো চিপস তৈরী করতে এত পরিমানে পরিশ্রুত জল লাগে যে প্যাং গ্যাং লেকের জল কম পড়ে যাবে ।
এর ফলে চীন কি করেছে ? পাক অধিকৃত কাশ্মীরের কারাকোরাম ও স্যাকসন ভ্যালীর ২৪০-২৫০ টা হিমাবাহ-কে গলিয়ে আগামীতে সেই মিষ্টি জল প্যাং গ্যাং লেকে এনে ফেলতে চাইছে চীন । ১৯৬৩ সালে চীন পাকিস্তানের কাছে উপহার হিসাবে পেয়েছিল এই করাকোরাম ভ্যালি আর স্যাকসন ভ্যালি । এটি ভারতের অংশ । আরো ভয়ানক চীন কিছুদিন আগে জি-২১৯,,নামের একটি রাস্তা নির্মাণে হাত দিয়েছে । যে রাস্তাটি ১৪ হাজার বর্গ ফুটে বিস্তৃত এই স্যাকসন ভ্যালি জুড়েই হয়েছে । আর চীনের টার্গেট হলো ওই ২৫০ টি হিমাবাহের মিষ্টি জল যা চীন ওই হিমাবহ গুলি গায়ের জোরে গলাতে চাইছে ।
এবার ভারত যখন লাদাখে কোনো পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ করবে, সেখানে সেনা ঘাঁটি নির্মাণ করবে তখন তো চীনের সমস্যা হবেই । তবে ভারতও একটি দারুন পথ অবলম্বন করেছে । কাশ্মীর এবং লাদাখে বিদেশি কোম্পানিদের আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে গিয়েছে বিনিয়োগ করতে । উল্লেখ্য যে এই কম্পানি গুলি আমেরিকার,অস্ট্রেলিয়ার, জাপানের এবং দক্ষিণ কোরিয়ার । আর এই কম্পানি গুলির সাধারণ মিল হল এরা সব চীন বিরোধী কোম্পানি । অর্থাৎ চীন যদি লাদাখে কোনো কিছু করতে যায় তবে সরকারি এই সব দেশ গুলির সাথে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়বে । এখন চীন হাত কামড়াচ্ছে ।
তিনি লিখেছেন, ততদিন ভারত ভালো ছিল , যতদিন কংগ্রেসের হাতে ক্ষমতা ছিল । ততদিন কাশ্মীর উত্তপ্ত ছিল,জেহাদীদের কারখানা চলতো, ওখানকার ন্যাশন্যাল কনফারেন্স আর পিডিপির মেহেবুবা মুফতিদের সরকার চলতো । ইয়াসিন মালিকের মতন জঙ্গীকে কেন্দ্র সুরক্ষা দিত ! দিল্লিতে ডেকে এনে আলোচনা করতো । কাশ্মীর বিশেষ ধারার সুবিধা ভোগ করতো ! ওদের আলাদা পতাকা উড়তো , সংবিধান আলাদা ছিল । তখন সবকিছু সুন্দর ছিল , হিন্দু মুসলমান ভাই ভাই ছিল , এই সোনাম ওয়াংচুক দের মতন ভুঁইফোর পরিবেশবিদবিজ্ঞানীরা করেকম্মে খেত । কিন্তু গোল বাঁধলো নরেন্দ্র মোদী কাশ্মীর থেকে ধারা ৩৭০ ধারা তুলে কাশ্মীর থেকে লাদাখকে আলাদা করে যেই সেখানে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে দিয়ে ।
২০২০ সালে ভারত লাদাখের দৌলত বেগ গোল্ডি থেকে দারুদ- উল-ফকর পর্যন্ত রাস্তা করে দিল । যে রাস্তাটি চীনের G 219 ,রাস্তার সমান্তরাল চলে গিয়েছে। যেকারণে এবার ভারতে সযত্নে লুকিয়ে রাখা প্যান্ডোরা বক্স,বামপন্থী বাস্তুতন্ত্রের তাস খেলে দিল চীন । তাও আবার তিন ধাপে ।
প্রথম ধাপ এই সোনাম ওয়াংচুক দের মতন কথিত পরিবেশ কর্মী বা স্বঘোষিত বিজ্ঞানীরা । যারা চীনের ২৫০ হিমাবহকে গলিয়ে দেওয়ার বিষয় নিয়ে কোনো আন্দোলন করে না । এরা লাদাখে ভারতের যে কোনো কর্মকান্ডকে আটকাতে আন্দোলনে নামবে পরিবেশ রক্ষার বাহানায় আর মানুষ কে ভুল বোঝাবে । দ্বিতীত ধাপ,এদের পেটোয়া মিডিয়া এবং সোশ্যালমিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সাররা । যারা এদের প্রতিটা পদক্ষেপ কে সঠিক প্রমান করে প্রচার করবে ।তৃতীয় ধাপে -বামপন্থী অধ্যাপক , বুদ্ধিজীবী , এবং আইনজীবীরা । যারা পরিবেশ রক্ষার নামে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে দেশের প্রতিটি পদক্ষেপকে লাদাখের মধ্যে পরিবেশহানি বলে মামলা করে কালবিলম্ব করে চীনের সুবিধা করে দেবে ।
তিনি লিখেছেন,এবার আসি সোনাম ওয়াংচুক এর কর্মকান্ডে । এই লোকটা লাদাখের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাওয়ার অজুহাতে সেখানকার উন্নয়ন মূলক কাজ , যেমন সড়ক যোগাযোগ , ব্রিজ তৈরী , এবং ভারতীয় সেনার বেশ ক্যাম্প নির্মাণ কে অবৈধ তকমা দিয়ে আনন্দোলন ,অনশন , ইত্যাদি করে দেশের উন্নয়নকে বিশেষ করে লাদাখের উন্নয়নকে আটকে চীনের কাজে সুবিধা করে দিতে চাই । ভদ্রলোক বেশ কিছু দিন আগে পাকিস্তানে গিয়েছিল , ডন পত্রিকার একটি সেমিনারে যোগ দিতে জল বায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশ রক্ষার জন্য ভাষণ দিতে । যে অনুষ্ঠান স্পন্সর করেছিল পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আই এস আই । এবার ভাবুন পাকিস্তান পরিবেশ নিয়ে ভাবছে না এই সোনাম ওয়াংচুকের কোনো গোপন মিটিং ছিল চীনের সাথে ?
এখনো পর্যন্ত ওয়াংচুক এর ধর্ণা মঞ্চে দেখতে পাওয়া ব্যক্তিত্বদের অতীত ইতিহাস অত্যন্ত বিতর্কিত । যাদের অধিকাংশ ভারত ও হিন্দুদের বিরোধিতা করতে দেখা যায় । তারা হলেন :
★ অরুন্ধতী রায় -যে কাশ্মীরকে ভারতের বলে মনেই করে না এবং দাবি করেন যে এই ভুখন্ড পাকিস্তানের অংশ ।
★কলিন গঞ্জালেস– 26/11 তে আজমল কাসাভের জন্য ক্ষমা যাচিকা দায়ের করেছিল।
★ প্রশান্ত ভূষণ- ইয়াকুব মেননের ফাঁসি রুখতে মাঝরাতে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল।
★ নন্দিতা নারায়ণ– ইনি প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারির পুত্রবধূ । তিনি CJP-এর স্টেজে উঠে পাকিস্তানি কবি আহমেদ ফয়েজ এর কবিতা “বস্ নাম রাহেগা আল্লাহ কা” গান গেয়েছিলেন ।
★ কুণাল কামরা -ভারত ও হিন্দুদেবদেবীদের নিয়ে প্রায়ই বিতর্কিত মন্তব্য করেন মহারাষ্ট্রের এই স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান ।
এছাড়া,অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অখিলেশ যাদবের স্ত্রী ডিম্পল এবং অনেক বামপন্থী ও উগ্র বামপন্থী নেতানেত্রীদেরও মঞ্চে দেখা গেছে ।
বস্তুতঃ,ওয়াংচুক ক্রমাগত শিরোনামে থাকার মিশনে রয়েছেন। অন্যথায়, তিনি হয়তো একটি গঠনমূলক সংলাপ শুরু করতেন অথবা অন্তত শিক্ষার্থীদের সৃষ্ট সমস্যাগুলো মোকাবেলার জন্য একটি ইতিবাচক দিকনির্দেশনা দিতেন। কিন্তু তিনি সিজেপি-র পক্ষ নিয়েছেন এবং শিক্ষার্থীদের একটি বিষয়কে রাজনৈতিক রূপ দিয়েছেন, যা বিতর্ক সৃষ্টি করেছে এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের ওপর থাকা মনোযোগকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে।
ওয়াংচুকের লোকদেখানো আচরণ সেই বিষয়টিকে কেবল জটিলই করেছে, যা সরকার ও ছাত্রদের মধ্যে কোনো রকম রাজনীতিকরণ ছাড়াই সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সমাধান হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু এখন তা একজন ব্যক্তি ও তার ভাঁওতাবাজিতে পর্যবসিত হয়েছে। অধিকন্তু, প্রতিবাদের আন্তরিকতা তখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যখন দীপকে-সহ সিজেপি নেতারা তাদের সঙ্গেই পাকোড়া, কচুরি ও অন্যান্য জলখাবার খেতে গিয়ে ধরা পড়েন, আর তিনি তাদের সঙ্গেই অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।।

