এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাঁকুড়া,১৭ জুলাই : রাজ্যে নতুন সরকারের মেয়াদ মাত্র ২ মাস । এর মাঝেই রাজ্যের বন্ধ হয়ে যাওয়া জুটমিলগুলি ফের খুলতে শুরু করেছে । লাক্স কোজির নতুন প্লান্টের উদ্বোধন হয়েছে । এবারে বাঁকুড়ার মেজিয়ায় বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ করল শ্যাম স্টিল । আজ শুক্রবার ১৫,০০০ কোটি টাকার এই নতুন উৎপাদন ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । অনুষ্ঠান মঞ্চে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে তিনি কটাক্ষ করেন । শুভেন্দু বলেন,’আমি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বলবো,আপনার হাতে এখন অনেক সময় আছে । আপনি একবার এসে এই প্ল্যান্টের ভিতরটা দেখে যাবেন । কেন বললাম জানেন ? উনি কথায় কথায় বিশেষ করে মারওয়ারীদেরকে এবং হিন্দিভাষীদের বলেন : “এ লোগ তো বাহারি হ্যায় । গুজরাট বননে নেহি দুঙ্গা
ইউপি বননে নেহি দুঙ্গা” । আমি উনাকে বলবো যে আমি অভিভূত । মন্দির তো আছে । রাধামাধব তো আছে । মহাদেবের শিবলিঙ্গ তো আছে। নন্দী মহারাজ তো আছে । গোশালা তো আছে । সবুজায়ন তো আছে । সাথে বাংলার কলা-সংস্কৃতি-স্বাধীনতা সংগ্রামের দুই বরেণ্য ব্যক্তিত্বের মূর্তি আছে…. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ।’
এরপর তিনি মমতা ব্যানার্জির উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনি একবার এসে দেখে যাবেন । আপনি জানাবেন আমি সরকারি হেলিকপ্টারটা দিয়ে দেবো । আর যাই বলুন এদেরকে বাহারি বলবেন না ।’ এরপর তিনি পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে সীমাহীন তোলাবাজির অভিযোগ তুলে বলেন,’এবার যদি না আসত তাহলে এরা উড়িষ্যা চলে যাবে বলে ঠিক করেছিল। সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি, রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বের হলে হাত পাততো । গুন্ডা ট্যাক্স…একবার এরা টাকা নেয় তো একবার পুলিশ টাকা নেয় । আর একবার পুলিশ টাকা নেয় তো আর একবার ডান্ডা ট্যাক্স টাকা নেয় । কি অবস্থা করে রেখেছিলেন আপনারা !’
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এই রাজ্যে তিনটি বেহাল অবস্থার হাল ফেরাতে হবে। একটা হল আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ, সিন্ডিকেট, কাটমানি, তোলাবাজি, দাদাগিরি, সব জায়গায় রাজনীতিকরণ এই জায়গা থেকে ২ মাসে আমরা বেরিয়ে এসেছি অনেকটা। আর ডানকুনিতে লম্বা লাইন করে ট্রাকে কেউ হাত পাতে না।’ তাঁর দাবি, ‘শ্যাম স্টিলের হাত ধরে ১৫,০০০ কোটির বিনিয়োগ হবে বাংলায়। বহু কর্মসংস্থান হবে। গ্রামের হাজার হাজার ছেলে, যারা বাইরে চলে গিয়েছে। তারাও এবার নিজের রাজ্যে কাজ পাবে।’
শ্যাম স্টিল কর্তৃপক্ষের দাবি,বাঁকুড়ার মেজিয়ার এই নতুন এই কারখাানা চালু হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি, এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এলাকায় একাধিক অনুসারী শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে বাঁকুড়া ও সংলগ্ন জেলার শিল্প ও আর্থ-সামাজিক দিকটিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালবাঁকুড়ার শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউরি, বিষ্ণুপুরের বিধায়ক সৌমিত্র খাঁ প্রমুখ ।।
