এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৬ জুলাই : ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেস এখন ছন্নছাড়া ৷ সিংহভাগ সাংসদ ও বিধায়ক নাম লিখিয়েছে “বিদ্রোহী” শিবিরে ৷ এমনকি মমতা ব্যানার্জির অত্যন্ত বিশ্বস্ত বলে পরিচিত কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র গতকাল “নতুন তৃণমূল” শিবিরে ঢুকে পড়েছে । এবারে এই তালিকায় যোগ হল আরও একটি বিশিষ্ট নাম । আর তিনি হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মণীশ গুপ্ত । আজ বৃহস্পতিবার তিনি নিজেই দল ছাড়ার কথা জানিয়েছেন।মণীশ জানান, এই দলে তাঁর আর কিছু করার নেই। শীঘ্রই তিনি দলনেত্রীর কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেবেন।
শুধু তাইই নয়,মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভুয়সী প্রশংসাও করেছেন তিনি । মণীশ গুপ্ত বলেছেন,’এখন যিনি মুখ্যমন্ত্রী, সেই শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত দক্ষ প্রশাসক। আশা করি, তিনি বাংলাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন ।’ তার এই প্রকার শুভেন্দু বন্দনায় বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে তিনি এখনো খোলসা করেননি ।
প্রসঙ্গত,সিপিএমের সময়ে,১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানে যুব কংগ্রেসের বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তের বিরুদ্ধে । যাতে ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল । অথচ ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর মণীশ গুপ্তকে মন্ত্রীর পদে বসিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি । তাকে বিদ্যুৎ মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয় । ২১ জুলাইয়ের “খলনায়ক”-এর এহেন খাতিরদারি মেনে নিতে পারেনি তৃণমূল নেতানেত্রীরা । যদিও মমতার ভয়ে তারা কেউই মুখ খোলার সাহস করেননি । সম্প্রতি মমতার সঙ্গ ত্যাগ করার পর মণীশ গুপ্তকে নিয়ে সরব হয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার৷ ৩৩ বছর আগের সেই গুলিচালনার ঘটনার হোতাকে কোনও তদন্ত ছাড়াই কেন তৃণমূলে স্থান দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন মমতা ব্যানার্জির । শুধু তাই নয়, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি লিখে মণীশ গুপ্তর বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত শুরু করারও জোরালো আবেদন জানিয়েছেন তিনি। আর সম্ভাব্য তদন্তের আশঙ্কায় মণীশ গুপ্ত বিজেপিতে ভিড়তে চাইছেন বলেও জল্পনা দানা বাঁধছে ।।
