এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশে,১৫ জুলাই : বাংলাদেশে অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় দেশের অধিকাংশ জেলা প্লাবিত হয়েছে । গত ৫ জুলাই রাত থেকে টানা কয়েক দিনের অতি ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের ৪৩টি জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি । বন্যাপ্লাবিত মানুষের মধ্যে খাদ্য ও পানীয় জলের জন্য হাহাকার পড়ে গেছে । মানুষের এই কষ্ট দেখে নিঃস্বার্থ ভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় সংগঠন ইসকন । ইসকনের তরফে এলাকায় এলাকায় ক্যাম্প করে খাদ্য ও পানীয় জল বিতরণ করা হচ্ছে । হিন্দুদের রান্না করা খাবার এবং মুসলিমদের দেওয়া হচ্ছে খাদ্য সামগ্রী । কিছুদিন আগে যে মুসলিমরা ইসকনকে “সন্ত্রাসী সংগঠন” তকমা দিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল, তাদেরও ত্রাণ দিতে কার্পণ্য করছে না ওই সংগঠনটি।
অথচ উলটো দিকে মুসলিমদের তরফে ত্রাণ বিতরণে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছে হিন্দুরা৷ ইসলামী বক্তা আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ বন্যার্তদের ত্রাণ বিতরণের মুহুর্তের একটা ন্যক্কারজনক দৃশ্য সামনে এসেছে । ছবিতে এক শিশুকন্যাকে আদুল গায়ে নৌকার উপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে । আর তখন ওই উগ্রপন্থী ইসলামি বক্তাকে কাঁচি দিয়ে শিশুটির গলার তুলসির মালা কেটে ফেলে দিতে দেখা যাচ্ছে । মানুষের বিপদের সময়েও ইসলামী বক্তা আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফের এই প্রকার হীনমন্যতায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে দেশটির সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ।
তবে বাংলাদেশের ইসলামি ধর্মগুরুদের এই প্রকার নিকৃষ্ট আচরনের ঘটনা এই প্রথম নয় । এর আগে ২০২৫শের বন্যাতে এক হিন্দু মেয়ের সাথে একই ঘটনা ঘটিয়েছিল একজন মৌলবী ।
তপন কুমার দাস নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী ছবিটি শেয়ার করে লিখেছেন,’অসহায় মানুষ কে এরা সাহায্য করতে যায় নাকি ধর্মান্তর করতে যায় তারা? ইসলামী বক্তা আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ বন্যার্তদের ত্রাণ দিতে এসে এক হিন্দু ধর্মরে বাচ্চার মেয়ের গলা তুলসি মালা কে/টে খুলে মাঠিতে পেলে দেয়! ঠিক ২০২৫শের বন্যাতে এক হিন্দু মেয়ের সাথে একই ঘটনা ঘটান অন্য এক হুজুর। সাহায্য করেন সাহায্য করা মহৎ কাজ ,তবে সে মহৎ কাজ হোক মনুষত্বের দিক থেকে! আপনাদের কাছে একটাই দাবি ,কোনো হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক কে সাহায্যের অযুহাতে হেনস্তা করবেন না!’
শঙ্কর দাস লিখেছেন,’ইন্ডিয়ার মধ্যে করলে কি তাহলে টুপি খোলা হবে?। তালি এক হাতে বাজে না। আজকে আপনারা বাংলাদেশের সব থেকে চুপ থাকছেন। নিজের উপর আসলে তখন পারবেন তো চুপ থাকবেন। প্রতিবাদ করলে যে জায়গায় অন্যায় হয় না কেন প্রতিবাদ করুন। নিজের ধর্ম দেখে। জাতি ভাই দেখে। স্বার্থ দেখে প্রতিবাদ করতে যেয়েন না।’
