এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,১২ জুলাই : বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের জীবন ও মেয়েদের সম্ভ্রম রক্ষা করাই এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে । এবারে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে এক হিন্দু গৃহবধূকে প্রাকাশ্য রাস্তা থেকে জোর করে চারচাকা গাড়িতে তুলে ৩ দিন ধরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ইমন মিয়া (২৪) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে । এই ঘটনায় অভিযুক্ত ইমন মিয়ার বিরুদ্ধে নবীনগর থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী । তবে আজ রবিবার বিকেল পর্যন্ত ওই নরপশুকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি বলে জানা গেছে । এদিকে অভিযোগ উঠছে যে এই ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে জামাত ইসলামি । রতনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জামাত ইসলামি নেতা গোলাম মোস্তফার (ভিপি মারুফ) একটি ফেসবুক পোস্ট ঘরে এই অভিযোগ উঠেছে । তিনি লিখেছেন, বিষয়টি অপহরণ ও ধর্ষণ নাকি অন্য কিছু—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন হওয়া উচিত।
জানা গেছে,ইমন মিঁয়া উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম ওরফে ড্রেজার রফিকের ছেলে। অন্যদিকে নির্যাতিতা বধূর স্বামী প্রবাসে থাকেন এবং তাদের দুই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে । ঘটনাটি ঘটে গত ৮ জুলাই সকালে৷
জানা গেছে,সকালে পাশের বাজারে কিছু কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন ওই মহিলা । তারপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি । পরে তার বাবা নবীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এদিকে বধূ নিখোঁজ থাকার তিনদিন পর গোপন সূত্র থেকে খবর পেয়ে শুক্রবার নবীনগর সদরের সমবায় মার্কেট সংলগ্ন একটি ভবনের চতুর্থ তলা থেকে বধূকে বিধ্বস্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবারের লোকজন ।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ৮ জুলাই শাহপুরে ফেরার পথে ইমন মিঁয়া তাকে জোরপূর্বক একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায় । পরে তাকে অচেতন করে নবীনগর সদরের একটি ভবনের চতুর্থ তলায় আটকে রাখা হয়। সেখানে তিনদিন ধরে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও জানান, ওই সময় তাকে খাবার দেওয়া হলেও তিনি শুধু জল পান করে ছিলেন।
এ ঘটনায় শনিবার রাতে ভুক্তভোগী নবীনগর থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন,’ওই নারী অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ পুলিশ জানায়, মামলার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।।
